করোনাভাইরাসঃ আমরা যেন বিভ্রান্ত না হই

প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষুর টাইমলাইন থেকেঃ
করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা ধীরে ধীরে আমাদের দেশেও বাড়তে শুরু করেছে। ১,২, করে এখন ৩৩ জনে এসে দাঁড়িয়েছে। মৃতের সংখ্যা এখনো পর্যন্ত ৩ জন। বিশ্ব মিডিয়া বলছে গোটা বিশ্ব এখন করোনাভাইরাস আক্রান্ত। গুরুতরভাবে আক্রান্ত দেশসমূহ করোনা প্রতিরোধে সবধরণের নিয়ম-কানুন এবং বিধিনিষেধ মানতে বাধ্য হয়েছে। এখন গোটা বিশ্ব করোনা বিষয়ে সতর্ক রয়েছে, থাকতে বাধ্য।

 

আক্রান্তদের তালিকা পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে যে, কোনো বিশেষ শ্রেণীর মানুষ বাদ পড়ছেনা। অসতর্ক যে কেউ আক্রান্ত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।

মানুষ বিপদ-আপদে সবসময় ধর্মের আশ্রয় স্বভাবত একটু বেশি গ্রহণ করতে চায়। এটা দোষের কিছু নয়। তবে সবকিছু ধর্মের উপর ছেড়ে দেওয়ার মতও নয়। করোনাভাইরাস সেই রকমই একটি সমস্যা। বিশেষ করে আমি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বিনয়ের সাথে বলতে চাই যে, বৌদ্ধধর্ম মতে, বিভিন্ন ধরণের অন্তরায়, অমনুষ্যের উপদ্রব, দুর্নিমিত্ত, অমঙ্গল, পাপগ্রহ থেকে পরিত্রাণ পেতে মহাফলদায়ী পরিত্রাণ সূত্রপাঠের সুফল রয়েছে। এর অনেক দৃষ্টান্তও রয়েছে, রয়েছে অতীত অনেক উপাখ্যান।

কিন্তু করোনাভাইরাসের মত অন্তরায় কিংবা ব্যাধিকে আমরা যেন কেবল সূত্রপাঠের মাধ্যমে ঠেকানোর চেষ্ঠা বা চিন্তা না করি। প্রথমেই করোনাভাইরাস প্রতিরোধে যে সকল সুনির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন মানতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং বিধি-নিষেধ আরোপ করা হচ্ছে সেসব নিয়ম-কানুন এবং বিধি-নিষেধ সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে মানতে হবে। এরপর কেউ যদি মনে করেন কিংবা বিশ্বাস করেন যে, তিনি সূত্রপাঠও শ্রবণ করবেন তাহলে এখন তো সবার হাতে হাতে মোবাইল ফোন থাকার সুবাদে যে কেউ তা অনায়াসে শ্রবণ করতে পারেন।

আর আমরা যেন কোনো ধরণের গুজবে কান না দিই, গুরুত্ব না দিই। অমুকে এটা করতে বলেছেন, অমুক ভান্তে এটা করতে বলেছেন ইত্যাদি গুজবে আমরা যেন বিচলিত না হই। বর্তমান সমস্যা এবং পরিস্থিতিটা আমরা যেন যার যার বিবেচনাবোধ থেকে বুঝতে সক্ষম হই।

বিতর্ক নয় বিবেচনার জন্যই এই লেখা।