রাজাকারের তালিকা: এবার তথ্য সংগ্রহ কমান্ডার ও ইউএনওর মাধ্যমে

অনলাইন ডেস্কঃ
রাজাকারের তালিকা আবার তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানালেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, তবে এবার তথ্য সংগ্রহ হবে যুদ্ধকালীন কমান্ডার ও ইউএনওর মাধ্যমে।

গত বছর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তথ্য নিয়ে স্বাধীনতাবিরোধীদের বিতর্কিত তালিকা প্রকাশের পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে তা বাতিল করে নতুন উদ্যোগের কথা সংসদে জানিয়েছেন তিনি।

রোববার সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী মোজাম্মেল বলেন, “রাজাকারদের তালিকা তৈরি করতে যুদ্ধকালীন কমান্ডার ও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হবে।”

এ লক্ষ্যে নির্দেশনা প্রদান করে জেলা প্রশাসকদের নতুন করে চিঠি দেওয়ার কার্যক্রম চলমান বলে জানান তিনি।

স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে রোববার বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।

গত বছর বিজয় দিবসের আগের দিন সংবাদ সম্মেলন করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী ১০ হাজার ৭৮৯ জন ‘স্বাধীনতাবিরোধীর’ তালিকা প্রকাশ করেন।

ওই তালিকায় গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের নাম আসায় ক্ষোভ আর সমালোচনার প্রেক্ষাপটে সংশোধনের জন্য ওই তালিকা স্থগিত করা হয়।

রাজাকারদের তালিকা বাতিলের বিষয়ে সংসদে প্রশ্নের জবাবে মোজাম্মেল হক বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের থেকে পাওয়া রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস এবং স্বাধীনতাবিরোধীদের তথ্য হুবহু মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। এ তালিকায় মুক্তিযোদ্ধাদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলে অভিযোগ উত্থাপিত হলে মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট থেকে তা প্রত্যাহার করা হয়।

অন্তঃদ্বন্দ্বে ৩১টি কমিটির যাছাই বাছাই হয়নি

সংসদে প্রশ্নোত্তরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী মোজাম্মেক হক জানান, মুক্তিযোদ্ধার নামে তালিকাভুক্তির জন্য প্রাপ্ত দেড় লাখ আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ৪৭০টি কমিটি গঠন করা হয়। এর অধিকাংশের প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। ৮৫টির প্রতিবেদন এখনও পাওয়া যায়নি।

এর মধ্যে ৫৪টি মামলা ও অবশিষ্টগুলো কমিটির সদস্যদের মধ্যে অন্তঃদ্বন্দ্বের জন্য যাচাই-বাছাই শেষ হয়নি। এগুলো শেষ করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পুরো যাছাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর কোনো প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা বাদ পড়লে তার বিষয়ে পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মন্ত্রীরে তথ্য অনুযায়ী অন্তঃদ্বন্দ্বের কারণে ৩১টি কমিটির যাছাই-বাছাই হয়নি।

১৫.৫৮% বনভূমি

সংসদে প্রশ্নোত্তরে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন জানান, বর্তমানে দেশের বনভূমির আয়তন প্রায় ২৩ লাখ হেক্টর। এটি দেশের মোট আয়তনের ১৫.৫৮ শতাংশ।

মন্ত্রী জানান, বন অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণাধীন কোনো বিরানভূমি নেই। তবে কিছু কিছু এলাকায় জবরদখল রয়েছে। কিছু বনভূমি অবক্ষয়িত হয়েছে।

গত অর্থ বছরে বিমানের নিট লাভ ২১৭ কোটি

সংসদে প্রশ্নোত্তরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী বলেন, বিমানের দুর্নীতি ও ব্যয় সংকোচনের লক্ষ্যে প্রশাসনকে ঢেলে সাজানো হয়েছে। ফলে বিমানের দুর্নীতি বহুলাংশে কমে এসেছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে বিমানের আয় ছিলো পাঁচ হাজার ৭৯৫ কোটি টাকা, এ সময় ব্যয় হয়েছে পাঁচ হাজার ৭৭৭ কোটি ১০ লাখ টাকা। ফলে নিট লাভ হয়েছে ২১৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা। চলতি অর্থ বছরের প্রথম ৬ মাসে অনিরীক্ষিত ও করপূর্ব নিট লাভ হয়েছে ৪২৩ কোটি টাকা।

ইঁদুরের আক্রমণে এক লাখ মেট্রিন টন ফসলের ক্ষতি

সংসদে প্রশ্নোত্তরে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক জানান, ২০১৮ সাল ইঁদুরের আক্রমণে এক লাখ চার হাজার ৪৯২ মেট্রিন টন ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

প্রতি বছর আমন ধানের ৫-৬%, গম ফসলের ৪-১২%, আলু ৫-৭%, আনারস ৬-৯% নষ্ট হয়ে থাকে বলেও জানান তিনি।

মেরিটাইম পলিসি করা হচ্ছে

সংসদ কাজে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সংসদে জানান, সমুদ্র কমিশন গঠনের কোনো পরিকল্পনা আপাতত সরকারের নেই। তবে দেশের সমুদ্র সীমার নিরাপত্তা ও সমুদ্র সম্পদ সুরক্ষা এবং বিশাল সমুদ্র এলাকায় অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কাজে প্রসারের লক্ষ্যে যুগোপযোগী খসড়া মেরিটাইম পলিসি প্রণয়নের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

ওই নীতিমালায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/দপ্তরের সমন্বয়ে একটি জাতীয় মেরিটাইম ডিভিশন গঠনের প্রস্তাব রয়েছে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সমুদ্র সীমা মীমাংসার পর ব্লু-ইকোনমির উৎকর্ষ এবং কর্ম পরিধি ক্রমান্নয়ে বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশে/বিদেশী বিভিন্ন সংস্থা সিসমিক সার্ভে, ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন, মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যু কেন্দ্র নির্মাণ ইত্যাদি কার্যক্রমের কুতুবদিয়া, চানুয়া মহেশখালী ও কক্সবাজার সংলগ্ন এলাকায় পরিচালিত হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে ব্লু-ইকোনমিক এলাকাগুলোয় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের অন্যতম হাব হিসেবে গড়ে উঠবে।

সূত্রঃ বিডিনিউজ