রামুতে ভাষা শহীদদের স্মরণে ইউএনও প্রণয় চাকমার ব্যতিক্রমী উদ্যোগঃ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সমবেত কন্ঠে অমর একুশের কালজয়ী গান

সোয়েব সাঈদ, রামুঃ
আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে অমর একুশের ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রতিদিন রামু উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সমবেত কন্ঠে পরিবেশিত হচ্ছে একুশে স্মরণে কালজয়ী গান “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রæয়ারী, আমি কি ভুলিতে পারি”। রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রণয় চাকমা এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন।
এরই অংশ হিসেবে বৃহষ্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে রামু বার্মিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিদ্যালয়ের কচিকাঁচা শিক্ষার্থীরা সমবেত কন্ঠে এই গানটি পরিবেশন করেন। এসময় রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রণয় চাকমা, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সাদেকুর রহমান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুমন বড়ুয়া, রামু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সুমথ বড়ুয়া সহ বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রণয় চাকমা বলেন, এ মাস ভাষার মাস। এ মাসে ভাষা সৈনিকদের সম্মান জানানো এবং শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য সর্বস্তুরে ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে ২১ ফেব্রুয়ারির আগ পর্যন্ত রামু উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এভাবে সমবেত কন্ঠে “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী, আমি কি ভুলিতে পারি” গানটি পরিবেশনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ১৯৪৮ সালে বাংলাকে রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে আন্দোলনের যে গোড়াপত্তন হয়েছিলো ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাজপথে রক্ত ঢেলে তার বাস্তবায়ন করেছিলেন অমর শহীদ সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অনেকে। সেসব বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানানোই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

আয়োজনের সমস্বয়কারি রামু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক সুমথ বড়ুয়া জানান, ভাষা সৈনিকদের প্রতি সম্মান জানাতে এ আয়োজন করা হয়েছে। এরফলে শিক্ষার্থীরা উৎসাহ-উদ্দীপনার মাধ্যমে মাতৃভাষার অধিকার আন্দোলনের ইতিহাস জানতে পারবে। তিনি আরো বলেন, ইউএনও প্রণয় চাকমা রামুতে যোগদানের পর থেকে একের পর সৃজনশীল কর্মকান্ড এবং কর্মদক্ষতা দিয়ে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য নিয়ে এ আয়োজনও সর্বত্র প্রশংসিত হচ্ছে।

রামু বার্মিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুমন বড়ুয়া জানান, ভাষা সৈনিকদের স্মরণে এ গানটি কেবল বছরের একটি দিনই গাওয়া হয়। এছাড়া গানটির তেমন চর্চা থাকে না। তাই এ ধরনের উদ্যোগের ফলে শিক্ষার্থীরা গানটি আরো বেশী চর্চার সুযোগ পাবে। পাশাপাশি ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট নিয়েও নতুন প্রজন্ম জ্ঞানার্জন করার সুযোগ লাভ করবে।