কালারমারছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপবৃত্তি প্রদানে অনিয়মের অভিযোগ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে

এ.এম হোবাইব সজীব:
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া সরকাররি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকার ঘোষিত উপবৃত্তি টাকা প্রদানে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে। গত ১৮ জুলাই কালারমারছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রায় ৬৭৬ জন ছাত্র-ছাত্রীকে উপবৃত্তির টাকা প্রদান করা হয়। এসময় তাদের অভিভাবকদের কাছ থেকে চাপ প্রয়োগ করে উপবৃত্তির ২৫শতাংশ টাকা অর্থাৎ আনুমানিক ৮৫ হাজার টাকা নয়ছয় করে পকেটে ভরার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমান উল্লাহ’র বিরুদ্ধে।

এ ব্যাপারে অভিভাবক মহল ফুঁসে উঠে যোগোযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে দুনীর্তি পরায়ণ প্রধান শিক্ষকের শাস্তি দাবি করে লিখনির মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করায় যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আলোচনার ঝড় উঠেছে। এ নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর অভিভাবক দিদার ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেসবুকে লিখেছেন এবং প্রতিবেদকে বলেছেন আমার ভাতিজা সায়েম উপবৃত্তির টাকা ৫’শ টাকা পেয়েছে বাকি গেল কই।

আরেক অভিভাবক এনাম বলেন আমার দুই ভাতিজা মিলে টাকা পেয়েছে ১২’শ টাকা। তারা ফেসবুকে স্ট্যাটাসে মন্তব্য করে লিখেছেন কেউ কেউ ১’হাজার অনেকে ৬’শত টাকা উপবৃত্তি পেয়েছে। কিন্তু প্রধান শিক্ষক আমান উল্লাহ ও স্কুল ম্যানাজিং কমিটির সভাপতি যারা ১২শত টাকা পেয়েছে তাদের থেকে ৬ শত এবং যারা ৬শত টাকা পেয়েছে তাদের থেকে ১৫০ টাকা নিয়ে নেয়।

কালারমারছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার সত্বে জানান, প্রধান শিক্ষক কারোও কথা তোয়াক্কা না করে নিজে নয়ছয় করেছে উপবৃত্তির টাকা প্রদানে অনিয়ম করেছেন। সেখানে আমরা জড়িত নই। মোঃ ফোরকানসহ আরো অনেক অভিবাবক এই প্রতিবেদককে জানান, প্রধান শিক্ষক আমান উল্লাহ তাদের ছেলে মেয়েদের উপবৃত্তি টাকা নিতে ৫০ থেকে ১০০শত টাকা নিয়ে আসতে বলেছেন। অন্যথায় তাদের বৃত্তির টাকা দেওয়া হবেনা। এবং আমার দুই ছেলেকে ৪’শ টাকা দেওয়া হয়েছে। এ চিত্র কালারমারছড়া সুনামধন্য সরকারি প্রাঃ বিদ্যালয়ের।

বৃত্তি টাকা প্রদানকারী উপজেলা সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেন, আমরা কার্ডে যত টাকা লিখা আছে তা দিয়ে দিয়েছি। বাহিরে কি হচ্ছে তা আমরা জানিনা। এ বিষয়ে সত্যতা জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে কালারমারছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমান উল্লাহ সরাসরি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও জানান।

এই বিষয়ে মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবুল কালাম আমাদের রামু ডটকমকে বলেন, ঘটনা যদি সত্য হয় তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই টাকা শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার।