শিক্ষার্থীদের মন্ত্রিসভা নির্বাচন শনিবার

অনলাইন ডেস্কঃ
মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও দাখিল মাদরাসার শিক্ষার্থীদের মন্ত্রিসভা (স্টুডেন্ট কেবিনেট) নির্বাচন- ২০২০ আগামী শনিবার (২৫ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হবে।

সারাদেশের সব মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও দাখিল মাদরাসায় এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিষয়টি জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন। বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য দেন তিনি।

সচিব বলেন, প্রাসঙ্গিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে ২০২০ সালের স্টুডেন্ট কেবিনেট নির্বাচনের লক্ষ্যে স্টুডেন্ট কেবিনেট ম্যানুয়াল, নির্বাচনী তফসিল ইতোমধ্যে আঞ্চলিক পরিচালক, আঞ্চলিক উপ-পরিচালক, জেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা/থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এবং সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছে। সারাদেশে নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে গত ১২ জানুয়ারি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের উপস্থিতিতে বিভিন্ন দফতরপ্রধান, সকল আঞ্চলিক পরিচালক, আঞ্চলিক উপ-পরিচালক, জেলা শিক্ষা অফিসার এবং উপজেলা/থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০১৫ সাল থেকে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারও সারাদেশে সব মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও দাখিল মাদরাসায় ২৫ জানুয়ারি (শনিবার) সকাল ৯টা হতে দুপুর ২টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। এ বছর দেশের আট বিভাগ ও আট মহানগরের মোট ৫৫৯টি উপজেলা/থানার ২২ হাজার ৯২৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ১৬ হাজার ৩৮৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ছয় হাজার ৫৪২টি দাখিল মাদরাসা রয়েছে।

মাহবুব হোসেন জানান, এ বছর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এক লাখ ৩১ হাজার ৭২টি এবং মাদরাসায় ৫২ হাজার ৩৩৬টি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা এক কোটি ১৫ লাখ ৫৩ হাজার ৯১৬ জন। এর মধ্যে ছাত্রী ৬২ লাখ ৫১ হাজার ৬৮৩, যা মোট শিক্ষার্থীর ৫৪ দশমিক ১০ শতাংশ। ছাত্রের সংখ্যা ৫৩ লাখ দুই হাজার ২৩৩ জন।

স্টুডেন্ট কেবিনেট গঠনের উদ্দেশ্যের বিষয়ে তিনি বলেন, শিশুকাল থেকে গণতন্ত্রের চর্চা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া, অন্যের মতামতের প্রতি সহিষ্ণুতা ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিখন-শেখানো কার্যক্রমে শিক্ষকদের সহায়তা করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শতভাগ ছাত্র ভর্তি ও ঝরে পড়া রোধে সহযোগিতা করা, শিখন-শেখানো কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

তিনি আরও বলেন, এখন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও দাখিল মাদরাসায় এ নির্বাচন হলেও আগামীতে কলেজপর্যায়েও নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ২০১৯ সালে ২২ হাজার ৯৬১টি প্রতিষ্ঠানের এক লাখ ৮৩ হাজার ৬৮৮টি পদের বিপরীতে তিন লাখ ২৪ হাজার ৮৩৭ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিল। ২০১৯ সালে মোট ভোটার ছিল এক কোটি ১৪ লাখ ৯৫ হাজার ৬১৮ জন। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে নির্বাচিতরা একজন প্রধানমন্ত্রী ও কয়েকজন মন্ত্রী নির্বাচন করে মন্ত্রিসভা গঠন করে। এ মন্ত্রিসভা এক বছর মেয়াদে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করে।

জাগোনিউজ