এক লক্ষ টাকার প্রেম

নঈম আল ইস্পাহান:

বাংলা সিনেমার গরিব নায়ককে কোটিপতি নায়িকার বাবা তার মেয়ের পিছু ছাড়ার জন্য এক লক্ষ টাকার একটি বান্ডিল দিয়ে বলল,এই টাকাটা নাও।আমার মেয়ের পিছু ছাড়ো।কখনো আমার মেয়ের চোখের সামনে আসবেনা।সামনে আসলে আমার মেয়েকে আটকানো যাবেনা।নায়কের টাকাটা খুব দরকার ছিল।সে এতটা গরিব ছিল যে,নায়িকার বাবাকে না করতে পারলনা।নায়িকার ভালবাসার কোন মূল্যই থাকলনা এক লক্ষ টাকার সামনে।

এই টাকা দিয়ে নায়ক ব্যবসা করবে।একদিন কোটিপতি হবে।নায়িকার বাবার চেয়েও বড় কোটিপতি।তখন হয়তোবা নায়িকার বাবা হাসি মুখে তাদের সম্পর্ককে মেনে নিবে।ঢাকঢোল পিটিয়ে তাদের দুজনের বিয়ে হবে।সমাজের মানুষ হা করে দেখবে।আবুলের ছেলে মতিন কত বড় লোক তা মানুষ বিয়ের সাঁজ সরঞ্জাম দেখে বুঝে যাবে।

কিন্তু,হঠাৎ নায়কের মনে হল,এক লক্ষ টাকা দিয়ে সে কিভাবে কোটিপতি হবে? হলেও অনেক সময়ের প্রয়োজন।নায়িকাকে ভুলার বিনিময়ে নায়িকার বাবা হয়তো আরো টাকা দিবে।তাই,নায়ক নায়িকার বাবাকে বলল,এক লক্ষ টাকায় কিছু হবেনা।আপনার মেয়েকে ভুলতে আরো টাকা দিতে হবে।নায়িকার বাবা বলল,তোমার মত গরিব ঘরের বস্তির ছেলের জন্য এক লক্ষ টাকা অনেক বড় কিছু।নায়ক বলল,আমি ব্যবসা করতে চাই।কোটিপতি হতে চাই।এক লক্ষ টাকায় কোটিপতি হওয়া সম্ভব নয়।

নায়িকার বাবা এবার অট্টহাসি দিল।হা হা হা হা হা।নায়ক বলল,আপনি পাগলের মত হাসছেন কেন?নায়িকার বাবা এবার মুখ খুললেন।আরে বেকুব,আমি তোমার কথা শোনে হাসছি।কে বলেছে,এক লক্ষ টাকায় কোটিপতি হওয়া যায়না?আমিও এক লক্ষ টাকায় কোটিপতি হয়েছিলাম।নায়ক খুব তড়িঘড়ি করে বলল,বলেন কি?কি এমন ব্যবসা করে আপনি কোটিপতি হলেন?নায়িকার বাবা বলল,সিনেমায় সব নায়িকার বাবা যে ব্যবসা করে,সেই ব্যবসা আর কী!এই এক লক্ষ টাকা নিয়ে তুমি টেকনাফ বর্ডারে চলে যাও।ট্যাবলেটের ব্যবসা শুরু কর।রাতারাতি ভাগ্য খুলে যাবে!

লেখক:  এ্যাকাউন্টিং থার্ড ইয়ার, কক্সবাজার সরকারি কলেজ।