নীল জলরাশির স্বপ্নের দ্বীপ সেন্টমার্টিনে রামু’র খিজারীয়ান ৮৬’র প্রাণময় উৎসব বন্ধু সম্মিলন

খালেদ শহীদ, রামুঃ
বন্ধুত্বের প্রাণময় উৎসবে প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে অনুষ্ঠিত হয়েছে খিজারীয়ান ৮৬’র বন্ধু সম্মিলন। ‘সতত সুন্দরে অন্তর ছুঁই, প্রীতির বাঁধনে বন্ধু তুই’ বন্ধুতার জয়গানে শুক্রবার ও শনিবার (১৭-১৮ জানুয়ারি)দুই দিনব্যাপী খিজারীয়ান ৮৬’র ‘বন্ধু সম্মিলন’ আয়োজন করা হয়। রামু খিজারী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি ১৯৮৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীরাবন্ধুত্বের পুরোনো দিনেরকথামালা, হাস্য-কৌতুক, আড্ডায় মিলন ও শিশুদের উচ্ছলতায় দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখলেন। আনন্দ-উচ্ছলতায় অনুষ্ঠিত হয়খিজারীয়ান ৮৬’রবন্ধু সম্মিলন ২০২০।

বৃহস্পতিবারবিকালে খিজারীয়ান ৮৬’র বন্ধুরা পরিবার-পরিজন নিয়ে জমায়েত হলে,আনন্দ-উচ্ছ¡াসে মুখর হয়ে উঠে রামু’র ওসমান ভবন। কতদিন পর দেখা! স্মৃতিকথা, জানাজানি-মাখামাখি, ছবি তোলায় ব্যস্ত হয়েউঠেনসবাই। ৩৪ বছর পরেকৈশোরের বন্ধুদের পেয়ে স্ত্রী, সন্তানদের পরিচয় করিয়ে দেয়া, সেলফিতে মেতে উঠেন সবাই। সেন্টমার্টিন যাওয়ার অভিপ্রায়েবিকাল সাড়ে ৫টায় পাঁচটি গাড়িতে যাত্রা করে, খিজারীয়ান ৮৬’র বন্ধু পরিবারের প্রায় দেড়শত সদস্য। কক্সবাজার মেরিনড্রাইভ সড়কে ছুঁটে চলা গাড়িগুলো রাতের অন্ধকার ভেদ করে, সমুদ্র গর্জন শুনতে শুনতে বন্ধু ও বন্ধু পরিবারের সদস্যরা হাসি-গান, আড্ডায় মেতে উঠে। রাতে টেকনাফে অবস্থান। পরদিন শুক্রবার ভোরে প্রস্তুতিপর্ব শেষ করে, আবারো ছুটে চলা বন্দরে। গন্তব্য সেন্টমার্টিনগামী সমুদ্র জাহাজ ‘ক্রুজ এন্ড ডাইন’। জাহাজটি রওয়ানা হয় সকাল সাড়ে ৯টায়, বেলা সাড়ে ১২টায় সেন্টমার্টিন পৌঁছে সমুদ্র জাহাজটি। জাহাজ থেকে নেমে ভ্যানগাড়িতে আবারো যাত্রা, গন্তব্য সেন্টমার্টিনে পশ্চিম পাশে কোনারপাড়ায় অবস্থিত ‘হোটেল নীল দিগন্ত’।খিজারীয়ান ৮৬’র ত্রিশ পরিবারের আগমনে পূর্ণতাপায় সেন্টমার্টিনের ওই পর্যটনস্থান। দুপুরের আহারের পর সবাই ছুটে যান সমুদ্র সৈকতে, ছবি তোলা ও আড্ডায় ব্যস্ত হয়েপড়েন বন্ধু পরিবার। ছোট-বড় অনেকেই মেতে উঠে সাইকেল চালানোতে। অনেকে ঘুরে আসে সেন্টমাটিনের নিকটবর্তী ছেড়াদ্বীপ থেকেও।

সন্ধ্যায় খিজারীয়ান ৮৬’র সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি’র নান্দনিক উপস্থাপনায় হোটেল প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হয় বন্ধু সংলাপ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও র‌্যাফেল ড্র।খিজারীয়ান ৮৬’র সভাপতি সাংবাদিক খালেদ শহীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বন্ধু সংলাপে বন্ধুতার কথা নিয়ে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, খিজারীয়ান ৮৬’র সাধারণ সম্পাদক স্বপন বড়ুয়া, বন্ধু সম্মিলন ২০২০ উদযাপন পরিষদের আহŸায়ক মো. আজিজুল হক সিকদার, অর্থ সচিব কিশোর কুমার বৈদ্য ময়না, খিজারীয়ান ৮৬’র বন্ধু কক্সবাজার জেলা পরিষদ সদস্য নুরুল হক,রামু উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন,ফতেখাঁরকুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফরিদুল আলম, অধ্যাপক মোহাম্মদ ইকবাল,আইনজীবী সহকারি রূপন শর্মা, শিক্ষক আবুল কাশেম, অসিত পাল, প্রভাত কুমার শর্মা, মমতাজ উদ্দিন আহমদ, রফিকুল ইসলাম, বিপন বড়ুয়া, ইউপি সদস্য মো. শাহাব উদ্দিন, ঠিকাদার খালেদ নেওয়াজ আবু,ব্যবসায়ী মো. সাহেদ সরওয়ার, মুফিজুর রহমান, মো. আজিজুল হক আজিজ, শফিউল আমিন, নজিবুল আলম, কলিম উল্লাহ, নুরুল কবির, দুলাল বড়ুয়া, আবদুল হক, প্রবাসী জয়নাল আবেদীন, আবদুর রহমান ওসাইফুল ইসলাম প্রমুখ খিজারীয়ান ৮৬।

আনন্দঘন এ অনুষ্ঠানে বন্ধু বক্তারা বলেন, খিজারীয়ান ৮৬’র বন্ধুদের এ সংগঠন আরো সুদৃঢ় করতে, সাংগঠনিক কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে হবে। এ সংগঠনের কার্যক্রমকে সুদূর প্রসারী করতে সকল বন্ধুদের সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। বন্ধু সম্মিলন আয়োজনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বক্তৃতা করেন,খিজারীয়ান ৮৬’র বন্ধু কক্সবাজার-৩ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল ও খিজারীয়ান ৮৬’র সভাপতি সাংবাদিক খালেদ শহীদ।

আমরা আবারো যাবো নীল সমুদ্রের মাঝে স্বপ্নের দ্বীপ সেন্টমার্টিনে। নীল আকাশের নীচে উত্তাল জলরাশিতে ফোটে উঠা প্রতিচ্ছবি দেখতে। নীল জলরাশিতে ঝিনুকাকৃতির বাঁক, দূরের অথৈ পানিতে বালুকাময় সুবজ ভ‚খন্ড। দূর যাত্রার ক্লান্তি সহজেই দূর করে দেয়। সূর্যোদয়ের স্বর্ণালী ভোরে রক্তিম আভার বিকেলে সমুদ্র জলে হেটে চলা, প্রবাল পাথরে বসে ছবি তোলা এ যেন অনন্য সুখানুভ‚তি। প্রকৃতি দু’হাত মেলে সৌন্দর্য দিয়েছে সেন্টমার্টিনে। বালুকাময় সৈকত, প্রবাল পাথর, কেয়া ও নারিকেল গাছের সারি প্রবালদ্বীপের সৌন্দর্যকে অনেক অনেকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। জাহাজের পিছু পিছু গাংচিলের উড়াল দেখতে দেখতে ব্যকুলতা আরো বাড়িয়ে দেয় সেন্টমার্টিনের আবারও যাওয়ার।বাংলাদেশের অনন্য সুন্দর এ দ্বীপে প্রতিদিন হাজারো পর্যটক যায়, প্রকৃতির এ অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে।বন্ধু পরিবারের সাথে নিজ পরিবার-পরিজন নিয়ে জোৎ¯œা রাতে চিকচিক করা বালুচর, সমুদ্রের আছড়ে পড়া গর্জন, ফেলে আসা দিনের কথা বলতে সেন্টমার্টিনে যেতেই হবে, এমন অভ‚তি প্রকাশ করলেন খিজারীয়ন ৮৬’র বন্ধুরা।

স্মৃতিকথন, হাস্য-কৌতুক ও শিশুদের উচ্ছলতায় খিজারীয়ান ৮৬’র বন্ধু সম্মিলন এক আনন্দঘন অনুষ্ঠানে পরিণত হয়। এ আয়োজনকে আরো অনন্য করে তোলে খিজারীয়ান ৮৬’র বন্ধুপত্নী সৈয়দা সেলিনা আকতার, সাফিয়া ফারজানা রাফি, শাপলা বড়ুয়া, সেলিনা পারভীন, ফারহানা আকতার, রমা বড়ুয়া, শাপলা দে, বুলু রাণী শর্মা, মিলকি দাশ, মোক্ররমা বেগম, উম্মে কুলসুম, শারমিন আকতার, শিমলা প্রভা দে, রওশান আরা, ফারজানা হক, আসমাউল হোসনা, শাহানা আকতার, নাজিমুন নেছা, নাসরিন সুলতানা, শাহিনা আকতার, ফাতেমা জোহুরা, সীমা বড়ুয়া, জুবাইরা জাহান, ফরমুজা আকতার, নাহিদা আকতার রাণী, সেলিনা আকতার, জয়নাব ইয়াসমিনের উচ্ছাসমুখর আড্ডা।

শনিবার রাতে দীর্ঘযাত্রা শেষে রামু’র ওসমান ভবনে অনুষ্ঠিত হয়, র‌্যাফেল ড্র বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান। প্রথম স্থান বিজয়ী ‘ওসমান সরওয়ার আলম চৌধূরী’র হাতে পুরস্কার তোলে দেন, খিজারীয়ান ৮৬’র সভাপতি সাংবাদিক খালেদ শহীদ, সাধারণ সম্পাদক স্বপন বড়ুয়া, বন্ধু সম্মিলন ২০২০ উদযাপন পরিষদের আহবায়ক মো. আজিজুল হক সিকদার, অর্থ সচিব কিশোর কুমার বৈদ্য ময়না ও কক্সবাজার জেলা পরিষদ সদস্য নুরুল হক। র‌্যাফেল ড্র বিজয়ী আরো ১৯জনের হাতে পুরস্কার তোলে দেন সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি।