সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাউন্সেলর নিয়োগ দেবে সরকার

অনলাইন ডেস্কঃ
শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করতে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুইজন করে কাউন্সেলর নিয়োগ দেওয়া হবে বলে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি জানিয়েছেন।

তিনি বলছেন, প্রথমে প্রতিটি জেলায় এবং সম্ভব হলে প্রতিটি উপজেলায় কাউন্সেলর নিয়োগ দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একজন নারী ও একজন পুরুষ কাউন্সেলর নিয়োগ করা হবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষার্থীর সার্বিক নিরাপত্তা’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় শিক্ষামন্ত্রী এই তথ্য জানান।

দীপু মনি বলেন, “শিক্ষার্থীরা নানা বিষয়ে ট্রমার মধ্যে থাকে। বাবা-মায়ের চাপ, পড়াশোনার চাপ, ভালো ফলাফলের জন্য চাপ, পাড়া-প্রতিবেশীর চাপ, বন্ধু-বান্ধবদের চাপ। তার সঙ্গে শিক্ষার্থীরা নানা রকম সহিংসতা দেখে, নানা ঘটনা দেখে।

“এসব বিষয়ে শিশু-কিশোরদের মধ্যে ট্রমা তৈরি হয়। যদি আমরা যথাযথভাবে তা অ্যাড্রেস করতে না পারি তাহলে বড় সমস্য দেখা দেয়। প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়টিতে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন, সেই জন্যই আমরা চেষ্টা করছি।

“প্রথমে প্রতিটি জেলায়, সম্ভব হলে প্রতিটি উপজেলায় দুইজন করে কাউন্সেলর নিয়োগ দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে শিক্ষার্থীদের মানসিক দিক নিয়ে কাজ করার জন্য প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একজন নারী ও একজন পুরুষ কাউন্সেলর নিয়োগ করা হবে।”

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “আমরা শিক্ষায় অনেক এগিয়েছি, আমাদের অনেক সাফল্য। এখন কীভাবে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা যায়, সেই বিষয়টি আমাদের কাছে চ্যালেঞ্জ।

“একজন শিক্ষার্থী শুধু ভালো ফল করবে তা নয়, সচেতন ও সুনাগরিকও হবে, এটিই আসলে মানসম্মত শিক্ষা। একজন শিক্ষার্থীর জন্য মানসম্মত শিক্ষা অর্জন করতে হলে স্বাস্থ্যের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।”

শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানি প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নৈতিকতার শিক্ষা প্রয়োজন, মানুষের মধ্যে সংবেদনশীলতা দরকার এবং শিক্ষার্থীদের সাহসী হওয়া প্রয়োজন।

“প্রথমেই বড় ঘটনা ঘটে না। যখন হয়রানির শিকার হয়েও কেউ চুপ থাকে, তখন অপরাধীরা সুযোগ পেয়ে যায়। তখন অনেক সময় বড় ঘটনা ঘটে।”

বাংলাদেশ এডুকেশন রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত এই সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচর্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, গণমাধ্যম বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচার করলেই অপরাধীকে চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা সম্ভব হবে।

“শিক্ষকরাই শিক্ষার্থীদের নৈতিকতার শিক্ষা দেবে। যদি তা না হয় সেই লজ্জা শিক্ষককেই বহন করতে হবে।”

মতবিনিময় সভায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. ফসিউল্লাহ্, শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য সচিব শাহজাহান আলম সাজু, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ফওজিয়া রেজওয়ান, এডুকেশন রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি মোস্তাফা মল্লিক, সাধারণ সম্পাদক এস এম আব্বাস বক্তব্য দেন।

সূত্রঃ বিডিনিউজ