শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

এম.এ আজিজ রাসেল:
শহরের অনেক নালা নর্দমার উপর স্থাপনা নির্মাণ ও দখল হয়ে যাওয়ায় জলাবদ্ধতা এখন চরম আকার ধারণ করেছে। স্বল্প সময়ের মাঝারি বৃষ্টিপাতেই অনেক সময় রাস্তায় পানি জমে যায়। তাছাড়া বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতায় কখনো হাটু, কখনো কোমর পানি আবার কখনো ঘর বাড়িতে পানি উঠে পৌরবাসীকে দূর্ভোগে পড়তে হয়।

শহরের নালার উপর এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য অনেক দিন ধরে পৌরবাসী দাবি জানিয়ে আসলেও অদৃশ্য কারণে এতোদিন উচ্ছেদ করা হয়নি এসব স্থাপনা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে জলাবদ্ধতা থেকে পরিত্রান পেতে শহরের নালা-নর্দমাগুলো থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পৌরসভা ও জেলা প্রশাসন। যার ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় শহরের বড়বাজার এলাকার চাউলবাজারে নালার উপর নুরুল হক কোম্পানী কর্তৃক নির্মিত সেøপ এর অর্ধেক অংশ উচ্ছেদ করা হয়।

উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন কক্সবাজার পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র মাহবুবুর রহমান, জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাসেল, পৌরসভার সচিব মোঃ শামসুদ্দিন, পুলিশ, আনসার ব্যাটেলিয়ান সদস্যরা।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাসেল বিষয়টি নিশ্চিত করে আমাদের রামু ডটকমকে জানান, শহরের বিভিন্ন স্থানে নালা রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে ওইসব নালা দিয়ে শহরের পানি নিষ্কাশন হয়ে থাকে। কিন্তু বিভিন্ন এলাকায় নালা সমূহ অবৈধভাবে ভরাট করে দোকানপাট নির্মাণ করা হয়েছে। এতে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। তাই প্রশাসনের উদ্যোগে এ অবৈধ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। আগামীতে এ অবৈধ স্থাপনা সমূহ উচ্ছেদ করার অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র মাহবুবুর রহমান আমাদের রামু ডটকমকে জানান, মাত্র কয়েক জন নালা দখলকারীর কারণে ভোগান্তি পোহাচ্ছে পৌরবাসী। তাই এদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। প্রয়োজন হলে গনআন্দোলন করা হবে। তাতে কাজ না হলে জনগনকে সাথে নিয়ে চিহ্নিত সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।

জেলা প্রশাসক মো: আলী হোসেন আমাদের রামু ডটকমকে বলেন, যারা শহরে নালা দখল করেছে তাদের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান অব্যাহত থাকবে।এরজন্য তিনি সকলের সহযোগীতা কামনা করেন।

উল্লেখ্য, শহরের জলাবদ্ধতার চিত্র তুলে ধরে ২০১৫ সালের ৯ জুলাই কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষন পরিষদের উদ্যোগে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে একটি গোলটৈবিল বৈঠক অনুষ্টিত হয়। বৈঠকে একটি কমিটি গঠন করে ১৫ দিনের সময় দিয়ে শহরের নালা পরিমাপ করে দখলবাজদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেয়া হয়। কমিটি তাদের তৈরি প্রতিবেদনটি জেলা প্রশাসককে হস্তান্তর করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ওইসব স্থাপনা উচ্ছেদ করা ছাড়া জলাবদ্ধতা নিরসনে বিকল্প পথ নেই। শহরের নালা নর্দমা দখলকারী হিসেবে চিহ্নিত ১২৯ জন প্রভাবশালীর নাম রয়েছে। প্রতিবেদনেে আরো বলা হয়েছে নালা নর্দমার উপর এসব অবৈধ দখলকারীদের তৈরি স্থাপনার কারণে শহরে জলাবদ্ধতা হচ্ছে। ওইসব স্থাপনা উচ্ছেদ করা ছাড়া জলাবদ্ধতা নিরসনে বিকল্প পথ নেই।

সূত্র জানা যায়, প্রতিবেদনে ১২৯ জনকে শহরের নালা দখলকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এতে রয়েছে রাজনৈতিক নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি ও আইনজীবি সহ রয়েছে অনেকে রাঘব বোয়ালের নাম। এছাড়া কয়েকটি সুপারিশও করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

শহরে জলাবদ্ধতা নিরসন কমিটির অন্যতম সদস্য ও কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ফজলুদ কাদের চৌধুরী আমাদের রামু ডটকমকে জানান, দখলকারীরা সবাই শহরের সুপরিচিত মুখ। তারা ক্ষমতাশালীও। এ কারণে তালিকায় যাদের নাম রয়েছে তা প্রকাশ করা হচ্ছে না। তবে তাদের তৈরি স্থাপনা উচ্ছেদে একটি যৌথ অভিযান চালানোর জন্য প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কমিটির প্রতিবেদনে নালা দখলকারী হিসেবে যাঁদের নাম রয়েছে তাঁদের মধ্যে অন্যতম কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি ও আবু সেন্টারের স্বতাধিকারী আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা, পৌর বিএনপির সভাপতি আলহাজ্জ রফিকুল হুদা চৌধুরী, সাবেক পৌর কমিশনার আবু জাফর সিদ্দিকী, রাবেয়া কুটিরের স্বতাধিকারী, সাজ্জাদ ইলেকট্রিকের স্বতাধিকারী সাজ্জাদ, ভাতঘরের মালিক বিএনপি নেতা এস্তাফিজুর রহমান।

এছাড়া শহীদ সরণীর হাজী আমীর আলী ম্যানশন, পুলিশ সুপার অফিসের সামনে জাবেদুল আনোয়ার রুবেল, পৌর প্রিপার‌্যাটারী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক তাহেমুদিল ইসলাম ও বনানী বিতানের মালিকের ভবন সহ পেশকার পাড়া, নুরপাড়া ও খাদ্য গুদামের পশ্চিম পাশের কয়েকজনের নাম সহ আরো অনেক প্রভাবশালীর নাম তালিকায় স্থান পেয়েছে।