চকরিয়ায় হুমকির মূখে মসজিদ, মন্দির ও শিক্ষা প্রতিষ্টান

এ.এম হোবাইব সজীব,চকরিয়া:
কক্সবাজারের চকরিয়ায় ঘুর্ণিঝড় রোয়ানু’র তান্ডবে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে একাকার হয়ে গেছে। সামুদ্রিক জোয়ার ও বন্যার পানির প্রবল ধাক্কায় কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় ৩৩ কিলোমিটার এলাকার বর্তমানে ভেঙ্গে যাওয়া অন্তত ৪২টি পয়েন্টে জোয়ারের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে প্রতিদিন চলছে রীতিমত জোয়ার-ভাটা। সবসময় তোপের মূখে থাকে এ এলাকাটি। প্রতিটি দূর্যোগে বিশেষ করে উপজেলার ১২ টি ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশি ক্ষতি গ্রস্ত হয়। স্থায়িভাবে ব্ল-ক দিয়ে বেড়িবাঁধ সংস্কার না করার কারণে বার বার ক্ষতির সম্মুখীন হয় উপজেলার হাজার লোকজন।

এদিকে চকরিয়াবাসীর বেড়িবাঁধ সংস্কারের দাবি দীর্ঘদিনের হলেও নানা অজুহাত দেখিয়ে কাজের কোন প্রকার অগ্রগতি হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে। একারণে ১২ টি ইউনিয়নের মসজিদ, মন্দিরও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ ৫ সহস্রাধিক বসতঘর, হাসপাতাল-মাজার, স্কুল মাদ্রাসাসহ কয়েক’শ এককর আবাধি জমি গাছ-পালা বিপুল সম্পদ বিলীন হয়ে গেছে সর্বনাশা মাতামুহুরী নদীতে।

এমনকি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম মাতামুহুরী ব্রিজও নদীর ভাঙ্গনে হুমকির মূখে পড়েছে। যে কোন মুহুর্তে ধসে যাওয়ার আশংকা করছেন সচেতন লোকজন।

উপজেলার বেশির ভাগ পয়েন্টের বেড়িবাঁধের অংশ দিয়ে নিত্যদিন সামুদ্রিক জোয়ারের পানি ঢুকে পড়ার কারনে কোন স্থানে হাটু সমান আবার কোন স্থানে কোমড় সমান এলাকা পানিতে প্লাবিত হচ্ছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়ছে হাজার হাজার পরিবার। এ অবস্থার কারণে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় বেড়ে চলছে জনদুর্ভোগ। অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে এই মৌসুমে এলাকার বোরো চাষাবাদ।

সুত্রে জানা গেছে, ঘুর্ণিঝড় রোয়ানুর আঘাতে চকরিয়া উপজেলার ৬৫এ-৩ পোল্ডারের অধীন বরইতলী ইউনিয়নের পহরচাঁদা, ৬৫এ-১ পোল্ডারের চিরিঙ্গা ইউনিয়নের সওদাগরঘোনা এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে গেছে। একই ভাবে উপজেলার ৬৫ পোল্ডারের অধীন কোণাখালী ইউনিয়নের মরংঘোনা ও বিএমচর ইউনিয়নে ৬টি পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে একাকার হয়ে গেছে।

চকরিয়া উপজেলার কোণাখালী ইউপি চেয়ারম্যান দিদারু হক সিকদার আমাদের রামু ডটকমকে বলেন, রোয়ানু তান্ডবে ইউনিয়নের মরংঘোনা এলাকার অন্তত তিনশত মিটার বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে গেছে। বর্তমানে ভেঙ্গে যাওয়া অংশটি শাখা খালে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন সকালে ও রাতে দুই দফা জোয়ারের সময় সামুদ্রিক জোয়ারের পানি বেড়িবাঁেধর ভাঙ্গা অংশ দিয়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। এতে এলাকার শত শত পরিবার চরম দুর্ভোগের রয়েছে।

উপজেলার বরইতলী ইউপি চেয়ারম্যান জালাল আহমদ সিকদার বলেন, তার ইউনিয়নের একটি বিশাল অংশের জনগনের বসবাস মাতামুহুরী নদীর তীর এলাকায়। প্রতিবছর বর্ষা নামলে মাতামুহুরী নদীর ঢলের কারনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ গুলো ভেঙ্গে যায়। জুন মাসে কয়েকটি অংশ বেড়িবাঁধের মেরামত কাজ শেষ করা হলেও ঘুর্ণিঝড় রোয়ানুর আঘাতে ফের কয়েকটি স্থানে বেড়িবাঁধের ফাটল সৃষ্টি হয়।

তিনি বলেন, ইউনিয়নের পহরচাঁদা এলাকায় ভেঙ্গে যাওয়া অংশের বেড়িবাঁধ মেরামতে গতমাসে টেন্ডার হলেও এখনো কাজই শুরু করেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্টান। এ অবস্থার কারণে বেড়িবাঁধের ক্ষতিগ্রস্থ অংশ দিয়ে প্রতিদিন মাতামুহুরী নদীর জোয়ারের পানি ঢুকে গ্রামে গ্রামে বন্যার সৃষ্টি হচ্ছে। গত একমাস ধরে এলাকার শত শত পরিবার কার্যত পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো.সবিবুর রহমান আমাদের রামু ডটকমকে বলেন, রোয়ানুর তান্ডবে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন পোল্ডারে অন্তত ৩৩ কিলোমিটার এলাকার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরির্দশন করে জরুরী ভিত্তিতে তা মেরামতের জন্য অর্থবরাদ্ধ চেয়ে পাউবো’র সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন দপ্তরে লিখিত সার সংক্ষেপ পাঠানো হয়। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ১৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয় সাপেক্ষে ক্ষতিগ্রস্থ ৪২টি পয়েন্টের বেড়িবাঁধ মেরামতের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সকল ঠিকাদারী প্রতিষ্টানকে কাজের কার্যাদেশ দেওয়া হবে। তারপর শুরু করা হবে মেরামত কাজ।