রামুতে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন সম্পন্ন

প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষুঃ
সারাদেশের সাথে কক্সবাজারের রামু উপজেলাতেও ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলার এগার ইউনিয়ন জুড়ে রীতিমত সফলভাবে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন সম্পন্ন করেছে রামু উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। সকাল আটটা থেকে শুরু হয়ে টানা বিকাল চারটা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলে ক্যাম্পেইন।

সকাল আটটায় কর্মসূচীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে। মুক্ত আকাশে বেলুন উড়িয়ে ক্যাম্পেইন এর কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন কক্সবাজার জেলা সির্ভিল সার্জন ডাঃ আবদুল মতিন। এ সময় ঢাকা কিডনি হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডাঃ মিজবা্হ উদ্দিন আহমদ, রামু উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা প্রণয় চাকমা, রামু উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ নোবেল বড়ুয়া, রামু থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল খায়ের সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে কর্মসূচীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পরপর সির্ভিল সার্জন ডাঃ আবদুল মতিন রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহাবিহার সংলগ্ন স্থাপিত কেন্দ্র উদ্বোধনে চলে আসেন। এসময় রামু উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ নোবেল বড়ুয়া, কক্সবাজার জেলা বৌদ্ধ সুরক্ষা কেন্দ্রীয় পরিষদের সভাপতি প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষুসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

এরপর সির্ভিল সার্জন ডাঃ আবদুল মতিন রামু উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ নোবেল বড়ুয়াকে সাথে নিয়ে উপজেলার কচ্ছপিয়া, গর্জনিয়া, ফতেঁখারকুল, চাকমারকুল সহ বিভিন্ন ইউনিয়নে স্থাপিত বেশ কিছু কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

 

খোঁজ নিযে জানা যায়, উপজেলার এগার ইউনিয়নের ৩৩ ওয়ার্ডে মোট ২৬৪ টি কেন্দ্র খোলা হয়। প্রতি ওয়ার্ডে ৮টি করে কেন্দ্র খোলে শিশুদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়। এছাড়াও রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, চৌমুহনী গোলচত্বর এবং গর্জনিয়া বাজারে আরো একটি করে অতিরিক্ত ভ্রাম্যমান কেন্দ্র খোলা হয়।

এবারের ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনে রামু উপজেলার এগার ইউনিয়নের মোট ৫৯,৩৫০ জন শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্য ছিল। এই লক্ষ্য পূরণে রামু উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ পরিকল্পিতভাবে কার্যক্রম চালান। সংশ্লিষ্টদের নিয়ে দফায় দফায় আলোচনা সভা করেন রামু উপজেলার প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ নোবেল বড়ূুয়া। ক্যাম্পেইন পরবর্তী তিনি নিজেকে সফল মনে করছেন।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে ডাঃ নোবেল বড়ুয়া আমাদের রামু ডটকম কে বলেন, ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনে আমরা বলতে গেলে শতভাগ সফলকাম হতে পেরেছি। হাতেগোনা কিছু সংখ্যক শিশু ছাড়া অবশিষ্ট প্রায় সকল শিশুকে কেন্দ্রে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে। যে সীমিত সংখ্যক শিশু সঙ্গত কারণে বাদ পড়েছে বা অভিভাবকরা কেন্দ্রে আসেননি আমরা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেসব শিশুদেরকেও ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। মূলত, কোনো শিশুই বাদ যাবেনা। বাদ পড়াদের বিষয়ে আমাদের কাছে ডাটা আছে। কাজেই কোনো শিশুকেই আমরা ভিটামিন এ ক্যাপসুল কর্মসূচীর বাইরে রাখবোনা।

উল্লেখ্য, এবার রামু উপজেলার এগার ইউনিয়ন জুড়ে মোট ৫৯,৩৫০জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল রামু উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। তৎমধ্যে ঈদগড়, গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়া, কাউয়ারখোপ, ফতেঁখারকুল, জোয়ারিয়ানালা, রাজারকুল, দক্ষিণ মিঠাছড়ি, খুনিয়াপালং, চাকমারকুল, রশিদনগর সহ এগার ইউনিয়নের ৬ মাস থেকে ১২ মাস বয়সী মোট ৭৮৩১ জন এবং এর পাশাপাশি ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী মোট ৫১,৪৫৯ স্বাভাবিক শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল কেম্পেইনের আওতায় আনার কথা ছিল।

এছাড়াও ঈদগড়, জোয়ারিয়ানালা, রাজারকুল, দক্ষিণ মিঠাছড়ি, খুনিয়াপালং, চাকমারকুল, রশিদনগর ইউনিয়নের মোট ১৯ জন প্রতিবন্ধী শিশু এবং ঈদগড়, গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়া, কাউয়ারখোপ, জোয়ারিয়ানালা, রাজারকুল, দক্ষিণ মিঠাছড়ি, খুনিয়াপালং ইউনিয়নের মোট ৪১ জন প্রতিবন্ধী শিশুকেও একটি করে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল কেম্পেইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল কর্তপক্ষ।