ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল কেম্পেইনঃ আপনার করণীয় সম্পর্কে জেনে নিন

প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষুঃ
আগামীকাল ১১ জানুয়ারি একযোগে সারা দেশব্যাপী ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর কর্মসূচী শুরু হচ্ছে। প্রতিবারের ধারাবাহিকতায় এবারও সরকার আগামীকালের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল কেম্পেইন সফল করতে নানান উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তবে সরকারের পাশাপাশি আমাদের সবার দায়দায়িত্ব এবং করণীয় আছে।

এক নজরে জেনে নিন আপনার করণীয় সম্পর্কেঃ

নীল রঙের ক্যাপসুলঃ
৬ মাস থেকে ১২ মাস বয়সী শিশুদের জন্য নির্ধারিত।

লাল রঙের ক্যাপসুলঃ
১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের জন্য নির্ধারিত।

ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এর উপকারিতাঃ
ভিটামিন ‘এ’ অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব থেকে শিশুদের রক্ষা করে।
শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
ডায়রিয়ার ব্যাপ্তিকাল ও জটিলতা কমায়।
শিশুর মৃত্যু ঝুঁকি কমায়।

জেনে রাখা দরকারঃ
বাংলাদেশে ভিটামিন ‘এ’ এর অভাবজনিত সমস্যা প্রতিরোধে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাতীয় পুষ্টি, সেবা, জনস্বাস্থ্য প্রষ্টি প্রতিষ্ঠান বছরে দুইবার জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস কেম্পেইন করে থাকে। ২০১৯ সালের কেম্পেইনের দ্বিতীয় রাউন্ড হিসেবে আগামীকাল ১১ জানুয়ারি ২০২০ খ্রিস্টাব্দ ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল কেম্পেইন কর্মসূচী পালন করা হবে।

ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল যারা খেতে পারবেনাঃ
* ৬ মাসের কম বয়সী শিশু।
* ৫ বছরের বেশি বয়সী শিশু।
* ৪ মাসের মধ্যে ভিটামিন ‌এ’ ক্যাপসুল প্রাপ্ত শিশু।
* মারাত্নক অসুস্থ শিশু।

অভিভাবকদের যা খেয়াল রাখতে হবেঃ
* কান্নারত অবস্থায় কিংবা জোর করে শিশুকে ভিটামিন ‌‌‌‌‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো যাবেনা।
* কোনভাবেই শিশুকে আস্ত বা খোসাসহ ভিটামিন ‌‌‌‌‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো যাবেনা।
* ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলের মুখ কাঁচি দিয়ে কেটে ক্যাপসুলের ভেতরের তরল ভিটামিন ‌‌‌‌‘এ’ সঙ্গে সঙ্গে শিশুকে খাইয়ে দিতে হবে।
* কোনো শিশুই যেন ভিটামিন ‌‌‌‌‘এ’ ক্যাপসুল থেকে বাদ না পড়ে।
* প্রশিক্ষিত মাঠকর্মী, এনজিওকর্মী, স্বেচ্ছাসেবী কারো দ্বারা খাওয়াবেন। আপনি নিজেই খাওয়ানোর চেষ্টা করবেননা। আপনার শিশুর হাতেও দিবেননা।

সতর্ক থাকুনঃ
* কোনো ধরণের গুজব কিংবা অপপ্রচারে কান দিবেননা।
* যে বা যারা গুজব রটায় তার/তাদের বিষয়ে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করুন।

বিশ্বাস রাখুনঃ
* আপনার শিশুকে সরকার রাষ্ট্রের সম্পদ এবং ভবিষ্যত মনে করে।
* ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল শিশুর জন্য নিরাপদ।
* জনস্বাস্থ্য উন্নয়নের লক্ষে প্রদানকৃত এ ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেনা।
* কিছু কিছু লক্ষণ যেমন-বমি বমি ভাব অথবা বমি হওয়া, মাথা ব্যথা ইত্যাদি প্রকাশ পেতে পারে যা ১২-২৪ ঘন্টার মধ্যে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। এসব লক্ষণ দেখা দিলে প্রয়োজনে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করবেন।