বঙ্গবন্ধু যেভাবে পাকিস্তানি জেল থেকে মুক্ত হয়েছিলেন

মমতাজুল ফেরদৌস জোয়ার্দারঃ
বঙ্গবন্ধুকে শেষবার পাকিস্তানিরা গ্রেপ্তার করে বন্দি রেখেছিল মোট ২৮৮ দিন। মাসের হিসাবে ধরলে ৯ মাস ১৩ দিন। পাকিস্তানি স্বৈরশাসকেরা বঙ্গবন্ধুকে ইসলামাবাদ থেকে ২৩৫ কিলোমিটার এবং রাওয়ালপিন্ডি থেকে ২১৮ কিলোমিটার দূরে মিঁয়াওয়ালী কেন্দ্রিয় কারাগারে আটকে রেখেছিল। এই কারাগারের শেষদিন পর্যন্ত তিনি বন্দি ছিলেন মোট ২৭২ দিন। এই সময় জুলফিকার আলী ভুট্টো জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বাংলাদেশ সঙ্কট নিয়ে সমাধানের উপায় উপস্থাপন করছিল। কিন্তু ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ পাকিস্তানি সৈন্যবাহিনী বাংলাদেশের সঙ্গে যুদ্ধে পরাজয় বরণ করে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে। এমতাবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর ১৯৭১ ভুট্টোকে নিউ ইয়র্ক থেকে দ্রুত ফিরিয়ে আনার জন্য পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারওয়েজের একটা বিমান পাঠানো হয়েছিল। ২০ ডিসেম্বর তাকে রাওয়ালপিন্ডির রাষ্ট্রপতি ভবনে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে সে ইয়াহিয়া খানের কাছ থেকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি এবং প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক এর দায়িত্বভার নেয়।

ক্ষমতা হস্তান্তরকালে ইয়াহিয়া খান ভুট্টোর কাছে প্রার্থনা করেছিল যে, “আমার ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে শেখ মুজিবকে হত্যা করার অনুমতি দাও। আমার জীবনে যদি কোন ভুল করে থাকি তাহলো শেখ মুজিবকে ফাঁসি কাষ্ঠে না ঝোলানো।” ভুট্টো জানতো বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হলে এর পরিণতি ভাল হবে না। বাংলাদেশে আটক সকল পাকিস্তানি সৈন্যের ভাগ্যে করুণ পরিণতি নেমে আসবে, সেক্ষেত্রে পাকিস্তান সরকারকেই সকল দায়-দায়িত্ব বহন করতে হবে। তাছাড়া আন্তর্জাতিক চাপ ছিল- যদি শেখ মুজিবের কিছু হয় তার দায়দায়িত্ব পাকিস্তানকেই নিতে হবে। একজন রাজনীতিবিদ হিসাবে ভুট্টো ভাল করেই সেই পরিস্থিতি অনুধাবন করেছিল এবং সেই মতো ব্যবস্থা নিয়েছিল।

ভুট্টো বুঝেছিল ইয়াহিয়া খান যে কোন রকম খারাপ পদক্ষেপ নিতে পারে মিঁয়াওয়ালী জেলে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার জন্য কমান্ডো বাহিনী পাঠাতে পারে। সে রকম একটা পরিকল্পনা সেনাবাহিনীর ছিল, যার কারণে জেলের পাশে অনেক আগেই একটা কবর খুঁড়ে রাখা হয়েছিল। আর একটা পরিকল্পনা ছিল- কয়েদিদের দিয়ে বঙ্গবন্ধুর উপর আক্রমণ চালিয়ে তাঁকে হত্যা করা। এইসব কারণে ভুট্টো শঙ্কিত ছিল। তখন প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলী ভুট্টো ২২শে ডিসেম্বর মিঁয়াওয়ালী জেলের প্রিজন গভর্নর হাবিব আলীকে জরুরী বার্তা প্রেরণ করেন যে, “শেখ মুজিবকে কারাগার থেকে দ্রুত নিরাপদ কোন স্থানে সরিয়ে ফেলা হোক।”

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের খবর অনুযায়ী এর সত্যতা পাওয়া যায়। তারা লিখেছিল- “রাওয়ালপিন্ডি, পাকিস্তান, ২২শে ডিসেম্বর (রয়টার্স) – পূর্ব পাকিস্তানি স্বাধীনতা আন্দোলনের নায়ক শেখ মুজিবুর রহমানকে আজ পশ্চিম পাকিস্তানি কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং একটি অজ্ঞাত স্থানে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে।” অনেকেই লিখেছে বঙ্গবন্ধুকে ২৬ ডিসেম্বর জেল থেকে স্থানান্তর করে সিহালার পুলিশ রেস্ট হাউজে রাখা হয়েছিল। কিন্তু সেটা কোনভাবেই সত্য হতে পারে না। জেল থেকে স্থানান্তরের পর ২৬ ডিসেম্বর ভুট্টো বঙ্গবন্ধুর সাথে প্রথমবার দেখা করেছিলেন সেটা ঠিক।

১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার ছয়দিন পর ২২ ডিসেম্বর রাতে ভুট্টোর কাছ থেকে বার্তা পাবার পর হাবীব আলী একটা ট্রাক নিয়ে মিঁয়াওয়ালী কারাগারের দিকে যান। কারাফটক খুলে বঙ্গবন্ধুর সেলের কাছে গিয়ে দেখেন তিনি একটা কম্বল জড়িয়ে বিছানার উপর ঢুলছেন। এমন সময় সেখানে যারা কয়েদী ছিল তারা বঙ্গবন্ধুকে ফিসফিস করে বলছিল যে, “ওরা এসেছে।” বঙ্গবন্ধুও ফিসফিসিয়ে বলেছিলেন যে, “শেষ পর্যন্ত আমি মাথানত করব না।” তার আগে মিঁয়াওয়ালী কারাগারের সেলের সামনে খননকৃত কবরটা দেখিয়ে বঙ্গবন্ধু যখন জিজ্ঞেস করেছিলেন, “এটা কি?” তখন তাঁকে বলা হয়েছিল যে, “যুদ্ধ চলছে এটা বাঙ্কার। শেল্টার নেবার জন্য।” তখন শেখ মুজিবকে এক কয়েদী বলেছিল যে, “আসলে এটা কবর। আপনি যদি আজ বের হন আপনাকে মেরে এখানে কবর দেওয়া হবে।”

বঙ্গবন্ধু হাবিব আলীকে বলেছিলেন, “কবরকে আমি ভয় পাই না। আমি তো জানি ওরা আমাকে ফাঁসি দেবে। কিন্তু আমি জানি আমার বাংলাদেশ একদিন স্বাধীন হবে এবং আমি এও জানি যে, বাংলার দামাল ছেলেরা হাসিমুখে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে পারে, সেই বাঙালি জাতিকে কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না।” সেদিন তিনি মিনতি করে বলেছিলেন, “আমাকে হত্যা করে এই কবরে না, আমার লাশটি আমার বাংলার মানুষের কাছে পৌঁছে দিও। যে বাংলার আলো-বাতাসে আমি বড় হয়েছি সেই বাংলার মাটিতে আমি চিরনিদ্রায় শায়িত থাকতে চাই।”

হাবীব আলী সেলের মধ্যে গিয়ে যখন বঙ্গবন্ধুকে তার সঙ্গে যেতে অনুরোধ করেন তিনি তাকে বাধা দেন। তখন হাবীব আলী তাকে বলেন, “শেখ, আমি আপনার একজন শুভাকাঙ্ক্ষী, বন্ধু। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আপনাকে এখান থেকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যেতে এসেছি। কারণ, এখানে কমান্ডো আসতে পারে। তারা আপনাকে হত্যা করবে। আমার ওপর আপনি আস্থা রাখুন।” তারপর বঙ্গবন্ধুকে ট্রাকে তুলে, ট্রাকের মধ্যে লুকিয়ে, জেল থেকে আনুমানিক ৩৬ কিলোমিটার দূরে তার ‘চশমা ব্যারাজ’ এর বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে গিয়েই বঙ্গবন্ধু একটা টেলিফোন করতে চেয়েছিলেন তাঁর সহধর্মীনিকে। তখন প্রিজন গভর্নর তাকে বাধা দিয়ে বলেছিলেন, “না, আমার একমাত্র কাজ হল আপনার জীবন রক্ষা করা। আপনি টেলিফোন করতে পারবেন না।” তারপর বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, “আমি কি খবরের কাগজ পড়তে পারি?” তখনও তার উত্তর ছিল, “না।” এরপর বঙ্গবন্ধু বললেন, “আমি কি এক কাপ চা পেতে পারি।” তখন তাকে এক কাপ চা দেওয়া হয়েছিল। হাবীব আলীর চশমা ব্যারেজের বাড়িতে বঙ্গবন্ধুকে দুই দিন রাখা হয়েছিল।

এরপর বঙ্গবন্ধুকে সেখান থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে সিহালা পুলিশ রেস্ট হাউজে নিয়ে যাওয়া হয়। যেটা একসময় ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর রেস্ট হাউস ছিল। রাওয়ালপিন্ডি থেকে এই রেস্ট হাউজের দূরত্ব আনুমানিক ২৩ কিলোমিটার। এখানেই ভুট্টো প্রথম বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা করেন। একটা গল্প চালু আছে যে ২৬ ডিসেম্বর ভুট্টো যখন আসে তখন ভুট্টোকে দেখেই বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, “কি, তুমিও কি বন্দি।” ভুট্টো বলে ওঠে, “আমি প্রেসিডেন্ট।” বঙ্গবন্ধু ভুট্টোকে বললেন, “তুমি কী করে প্রেসিডেন্ট হলে? আমিতো তোমার চেয়ে দুইগুণ বেশি ভোট পেয়েছি?” ভুট্টো হেসে বললেন, “তাহলে আপনি প্রেসিডেন্ট হয়ে যান।”

উপরের এই গল্পের সত্যতা আমি জানি না, এধরনের কোন কথা সেদিন হয়েছিল কিনা। তবে হাবীব আলী যা বলেছেন তা কিছুটা অন্যরকম। তিনি বলেছেন, “ভুট্টো যখন আসেন তখন এক কর্নেল এসে মুজিবকে বলছিল, ‘পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসবে।’ তারপরে সেখানে ভুট্টো এলেন এবং মুজিবকে সালাম দিয়ে বললেন যে, ‘এখন আমি পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি এবং প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক।’ তারপরই শেখ মুজিবের প্রশ্ন ছিল, ‘ভুট্টো, আমাকে প্রথমে বল, আমি কি একজন বন্দি অথবা মুক্ত মানুষ।’ তখন ভুট্টো উত্তর দিয়েছিলেন, আপনি একজন বন্দিও না, আবার মুক্ত মানুষও না।’ তখন শেখ মুজিব বললেন, ‘সেক্ষেত্রে আমি তোমার সাথে কোন কথা বলব না।’ তখন জুলফিকার আলী ভুট্টো বলতে বাধ্য হল যে, ‘আপনি একজন মুক্ত মানুষ।’ এরপর শেখ মুজিব প্রেসিডেন্ট ভুট্টোর সঙ্গে কথা বলতে শুরু করলেন। তারপরে সে অনেক রকমের প্রস্তাব দিল। কীভাবে একটা কনফেডারেশন করা যায়, কীভাবে একসঙ্গে থাকা যায় ইত্যাদি। কিন্তু শেখ মুজিব কোন কথাই বললেন না। চুপ করে থেকে শুধু বললেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত আমি আমার প্রিয় সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে না পারব, ততক্ষণ আমার পক্ষে কিছুই বলা সম্ভবপর নয়।’ এরপর শেখ মুজিবকে একটা যৌথ ইশতেহার দেয়া হয়েছিল স্বাক্ষর করার জন্য। মুজিব সেটাও প্রত্যাখ্যান করলেন।” (অনেকটা একই রকম বর্ণনা পাওয়া যাবে রবার্ট পেইনের The Tortured and Damned গ্রন্থে। তবে তিনি একথা লেখেননি যে, ভুট্টো বঙ্গবন্ধুকে বলেছিল ‘আপনি একজন মুক্ত মানুষ।’)

উপরের কথকপোথন থেকে প্রমাণ হয় বঙ্গবন্ধু ২৬ ডিসেম্বর থেকেই মুক্ত, অন্তত পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি সেটা মেনে নিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি এরপরও ১২ দিন নিরাপত্তা হেফাজতে ছিলেন, কারণ তখন বঙ্গবন্ধুর নিরাপত্তা একটা বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছিল। এমনকি বাংলাদেশেও বঙ্গবন্ধুর জীবন নিরাপদ ছিল না। ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে যে সমাবেশ হয়েছিল ভিড়ের মধ্যে থেকে একজন ছুরি এবং বোমাসহ ধরা পড়েছিল, তার উদ্দেশ্য ছিল বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা। পরিশেষে বঙ্গবন্ধু ভুট্টোকে প্রশ্ন করলেন, “আমি কি এখন দেশে যেতে পারি?” ভুট্টো বললেন, “হ্যাঁ, যেতে পারেন। কিন্তু কীভাবে যাবেন? পাকিস্তানের পিআইএ ভারতের ওপর দিয়ে যায় না।”

এরপর ডিসেম্বরের ২৯ বা ৩০ তারিখের দিকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আজিজ আহমেদ সিহালায় আসে ভুট্টোর বার্তা নিয়ে। বঙ্গবন্ধুকে দেশে পাঠাবার ব্যবস্থা চলছে বলে জানিয়ে বলেন, “তবে কিছুটা সময় লাগবে।” তিনি প্রস্তাব দিলেন, পিআই-এর বিমানে নেওয়ার। কিন্তু আকাশপথে ভারতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় পিআই-এর বিমানে নেয়া সম্ভব নয় সরাসরি বাংলাদেশে। সেক্ষেত্রে তৃতীয় কোন দেশের সহায়তা লাগবে। তেহরান হতে পারে সেই তৃতীয় দেশ। বঙ্গবন্ধু আপত্তি জানালেন। বললেন, “না।” তবে কোন নিরপেক্ষ দেশ হলে তিনি যেতে পারেন। পাকিস্তান প্রস্তাব দিল তাহলে লন্ডন হতে পারে। বঙ্গবন্ধু লন্ডন যেতে সম্মতি দিয়েছিলেন।

এরপর আজিজ আহমেদ এসে বঙ্গবন্ধুকে রাওয়ালপিন্ডি নিয়ে যান। সেখানে ভুট্টো বঙ্গবন্ধুর সম্মানে ডিনারের আয়োজন করে। খাবার টেবিলে যাওয়ার এক ফাঁকে ভুট্টো বঙ্গবন্ধুকে বলে, “পাকিস্তানতো আপনারা বানিয়েছেন। আমিতো সেসময় ছাত্র ছিলাম। যা হয়েছে দুঃখজনক। কিছু একটা লিঙ্ক রাখা যায় কিনা?” বঙ্গবন্ধু বললেন, “আমি তোমার প্রশ্ন শুনলাম। এর উত্তর আমি এখানে দিতে পারবো না। ঢাকায় নেমে সঙ্গে-সঙ্গে জানাবো।”

এরপর ভুট্টো জানায়, “আমরা আজ আপনার যাবার ব্যবস্থা না করে কাল সকালে করতে চাই, কারণ কাল ইরানের শাহ আসবেন। আপনার সঙ্গে দেখা করবেন।” বঙ্গবন্ধু বুঝতে পারলেন, ইরানকে দিয়ে একটি সমঝোতার চেষ্টা চালাবে ভুট্টো। এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে তিনি বললেন, “আমার এসব ভালো লাগছে না। আমরা ডিনার করবো না। আজকে রাতের মধ্যে যদি পাঠানোর ব্যবস্থা করো তবে যেতে পারি। না হলে, তুমি আমাকে কারাগারে পাঠাও।”

বেগতিক দেখে সেক্রেটারিকে ডেকে ভুট্টো বললেন, “প্লেন আনার ব্যবস্থা করো।”

করাচি থেকে প্লেন আসতে দুই ঘণ্টা সময় লাগতো। প্লেন আসছে শোনার পর বঙ্গবন্ধু খেতে রাজি হলেন। ৭ তারিখ অর্থাৎ ৮ তারিখ প্রথম প্রহরে রাত ২টার দিকে বঙ্গবন্ধু, ড. কামাল হোসেন ও পিআই-র তৎকালীন চেয়ারম্যান এই তিনজনকে নিয়ে বিমান লন্ডনের উদ্দেশে রাওয়ালপিন্ডি ছাড়ে। ভুট্টো নিজে বিমানবন্দরে এসে বঙ্গবন্ধুকে বিদায় জানান। বলা হল, “এটা স্ট্রাটেজিক কার্গো হিসেবে ননস্টপ লন্ডন যাবে। কাউকে জানানো হবে না যে, আপনি বিমানে আছেন। লন্ডন বিমানবন্দরে নামার আধঘণ্টা আগে জানানো হবে বিমানে আপনি আছেন।” এভাবেই মুক্ত হয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু।

হাবিব আলী সম্বন্ধে বিস্তারিত জানতে তার ফোন নাম্বারের জন্য আমার একমাত্র পাকিস্তানি বন্ধুকে ফোন করেছিলাম। সে খোঁজ খবর নিয়ে জানাল- “লীপু এই ব্যাপারে তোমাকে কোন সাহায্য করতে পারছি না কারণ তিনি সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। কোন খোঁজ নিতে গেলে আমার পরিবারের পিছে গোয়েন্দা বাহিনীর লোক লেগে যাবে। আমাদের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলবে, বর্তমান পাকিস্তানের অবস্থা তুমি জান না।”

আমার এই বন্ধুকে আরও জিজ্ঞাসা করেছিলাম ‘মিয়াঁ ওয়ালী’ না ‘মিয়ানওয়ালী’- কী হবে জেলের নাম। সে আমাকে জানিয়েছে ইংলিশে যাই লিখুক এটা ‘মিয়ান ওয়ালী’ নয়। বাংলাদেশের অনেক পত্রিকাতে দেখবেন ’মিয়ান ওয়ালী’ বা ‘মিয়াঁওয়ালী’ লেখা হয়েছে।

মমতাজুল ফেরদৌস জোয়ার্দার, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অল ইউরোপিয়ান বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন এবং জার্মান বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন।

সূত্রঃ বিডিনিউজ