বঙ্গবন্ধু বিরাজ করেন মানুষের মাঝে: আনিসুজ্জামান

অনলাইন ডেস্কঃ
বাংলাদেশ স্বাধীন হল, কিন্তু বাঙালি অপেক্ষায় ছিল কবে ফিরবেন বঙ্গবন্ধু। অবশেষে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশের মাটিতে পা রাখলেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি।

জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা শুরুর প্রাক্কালে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান স্মরণ করেছেন তার দেখা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কথা।

অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলনে সামনের কাতারে থাকা আনিসুজ্জামান মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলিতে ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য।

তার ভাষায়, “পৃথিবীর ইতিহাসে নেলসন ম্যান্ডেলা, মার্টিন লুথার কিং এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান- এরা তিনজন অসহযোগ আন্দোলনকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে সফলভাবে ব্যবহার করেছেন। তিনজনের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর কৃতিত্ব সবচেয়ে বেশি বলে আমার মনে হয়।”

মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোতে বঙ্গবন্ধু ছিলেন পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি। কিন্তু বাংলার মাটিতে যুদ্ধ পরিচালিত হয়েছে তারই নামে।

আনিসুজ্জামান বলেন, বঙ্গবন্ধুকে নেতা মেনেই প্রতিটি মানুষ স্বাধীনতার স্বপ্ন নিয়ে যুদ্ধে গেছে। তাদের প্রেরণা যুগিয়েছে বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ভাষণ- ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম’।

পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটল।

সেই সময়ের কথা স্মরণ করে আনিসুজ্জামান বলেন, “মানুষ উল্লাসে একেবারে মত্ত। এবং এতবড় পাওয়া তাদের জীবনে আর হয়নি বলে সবাই মনে করেছে। … কিন্তু স্বাধীনতার স্বাদ সম্পূর্ণ হয়নি, কেননা তখনও বঙ্গবন্ধু কারাগারে।

“আমরা খুবই প্রত্যাশা করছিলাম যে বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তান ছেড়ে দেবে। কেননা, বিশ্ব জনমত বঙ্গবন্ধুর মুক্তির পক্ষে এবং যেহেতু বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়ে গেছে, তখন একটা বাড়তি চাপ পাকিস্তানের ওেপর তৈরি হয়েছে।

“কাজেই আমরা অপেক্ষা করছিলাম কবে বঙ্গবন্ধুকে আমরা ফিরে পাব। সেটিই হলো (মুক্তি) ৮ জানুয়ারিতে এবং ১০ জানুয়ারিতে দেশের মাটিতে পা রাখলেন জননেতা।”

সেই স্বাধীন দেশে মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়।

আনিসুজ্জামান বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধুকে যারা হত্যা করেছিল, তারা ছিল পাকিস্তানপন্থি সামরিক অফিসার।

“এটা অপ্রত্যাশিত ছিল কিন্তু তাদের ষড়যন্ত্র খুব সফল হয়েছিল। মানুষের মনে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের যে ধাক্কা লেগেছিল, তার থেকে স্বাভাবিক হতে, সকলেরই সময় লেগেছিল।”

স্বাধীনতাবিরোধীদের শত চেষ্টার পরও বাংলাদেশের মানুষের মন থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম যে মুখে ফেলা যায়নি, সে কথা তুলে ধরে আনিসুজ্জামান বলেন, “প্রত্যেক মানুষের মধ্যে বঙ্গবন্ধু বিরাজ করছে।”

এ বছর ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী। সেদিন থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পর্যন্ত বাংলাদেশ উদযাপন করবে মুজিববর্ষ হিসেবে।

শুক্রবার বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে শুরু হবে সেই উদযাপন শুরুর ক্ষণগণনা।

আনিসুজ্জামানের প্রত্যাশা, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের শোষণহীন, বৈষম্যমুক্ত দেশ গড়ার পথে এই এক বছরে আরও একটু অগ্রসর হবে বাংলাদেশ।

সূত্রঃ বিডিনিউজ