নিয়ন্ত্রণের পরেও ওজন না কমার কারণ

লাইফস্টাইল ডেস্কঃ
খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তান ও ব্যায়াম করেও ওজন না কমার কারণ রয়েছে অনেক।

ওজন কমানো নিয়ে কমবেশি সবার মনেই আফসোস থেকে যায়। খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ আর শরীরচর্চা করেও যারা ওজন স্বাস্থ্যকর মাত্রায় নামাতে পারছেন না তাদের কাছে খাদ্যাভ্যাস আর শরীরচর্চার গল্প যেন দু’চোখের বিষ।

ব্যায়াম আর খাবার নিয়ন্ত্রণ করে ওজন কমানো মানুষের সাফল্যের গল্প পড়ে তাদের অনুপ্রেরণা পাওয়ার বদলে হয়ত আক্ষেপ জাগে যে, আমার সঙ্গে এমন কেনো ঘটে না।

বাস্তবতার কথাও ভাবতে হবে। শরীরচর্চা আর খাদ্যাভ্যাসের পেছনে ব্যয় করার মতো পর্যাপ্ত সময় ও অর্থ সবার থাকে না। নিজের প্রতি যতটা সম্ভব যত্নবান হওয়াই প্রতিটি মানুষের লক্ষ্য হওয়া উচিত। তবে সবকিছুর পরও ওজন কমাতে ব্যর্থ হতে পারেন, যার পেছনে দায়ী হয়ত কোনো রোগ বা শারীরিক সমস্যা।

স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনের জানানো হল এমন কিছু শারীরিক সমস্যা সম্পর্কে যা ওজন কমানোর পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

প্রোটিনের অভাব:
শরীরের কোষের ক্ষয়পূরণ আর নতুন কোষ উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল এই প্রোটিন। গরু, খাসি ইত্যাদি লাল মাংস প্রোটিনের ভালো উৎস। তবে ওজন কমানোর দিক থেকে এগুলো উপকারী নয়। তাই মাংসের ক্ষেত্রে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ জরুরি। আর মাংস ছাড়াও আরও অনেক প্রোটিনের উৎস রয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা সিএনএন’য়ের দেওয়া স্বাস্থ্যবিষক একটি প্রতিবেদনের তথ্য মতে, প্রোটিন গ্রহণের মাত্রা প্রয়োজনের তুলনায় কম হলে ‘বডি ফ্যাট ইনডেক্স’য়ের মাত্রা বেড়ে যায় উল্লেখযোগ্য হারে। কারণ পেশি গঠনের একটি অপরিহার্য উপাদান হল এই প্রোটিন, যা পক্ষান্তরে চর্বি খরচে সহায়ক।

মানসিক চাপ:
মানসিক চাপ শরীরের স্বাভাবিক কার্যাবলীর শৃঙ্খলা নষ্ট করে। যুক্তরাষ্ট্রের দ্য মেয়ো ক্লিনিক’য়ের তথ্য মতে, দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ধরে রাখাকে দুষ্কর করে তোলে। আর মানসিক চাপগ্রস্ত অবস্থায় ‘কমফোর্ট ফুড’ হিসেবে পরিচিত অস্বাস্থ্যকর খাবারের উপর জোর বেড়ে যায়। এছাড়াও শরীর অনেকসময় মানসিক চাপ বিপদের ইঙ্গিত হিসেবে গণ্য করে। যে কারণে বিপদের সঙ্গে মোকাবেলা করার প্রস্তুতি হিসেবে শরীর চর্বি সংরক্ষণ করতে শুরু করে।

কুশিং সিনড্রোম:
এই রোগে শরীরে ‘কর্টিসল’ হরমোনের মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে যায়। এই হরমোনের মাত্রা বেড়ে অস্বাভাবিকভাবে ওজন বেড়ে যায়, বিশেষত, শরীরের মাঝের অংশে ও দুই হাতে। এক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ মাফিক চিকিৎসা নিতে হবে।

হাইপোথাইরয়ডিজম:
‘থাইরয়েড’ গ্রন্থির সমস্যার পরিণতি হিসেবে অস্বাভাবিক ওজন বৃদ্ধি স্বাভাবিক ঘটনা। ‘থাইরয়েড’ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত ‘থাইরয়েড’ হরমোন শরীরের বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। আমেরিকান থাইরয়েড অ্যাসোসিয়েশন’য়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, “হাইপোথাইরয়ডিজম’ রোগে ‘থাইরয়েড’ গ্রন্থির কার্যক্ষমতা স্বাভাবিক তুলনায় কমে যায়। আর একারণে শরীরের অন্যান্য স্বাভাবিক কার্যাবলীর গতি কমে এবং ওজন বাড়ে।”

পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম:
মেয়ো ক্লিনিকের মতে, নারীদের শরীরে অতিরিক্ত পুরুষালী হরমোনের উপস্থিতি থেকে এই রোগের সুত্রপাত। ফলে ঋতুস্রাবের চক্র বিশৃ্ঙ্খল হয় এবং অন্যান্য সকল হরমোনের ভারসাম্যই কমবেশি নষ্ট হয়। এই রোগের একটি সাধারণ উপসর্গ হল অস্বাভাবিক ওজন বৃদ্ধি।

সিনড্রোম এক্স:
চিকিংসাবিষয়ক ওয়েবসাইট ওয়েবএমডি’য়ের মতে, “এই রহস্যময় সমস্যাটি বিপাকক্রিয়াজনীত সমস্যা। সাম্প্রতিক সময়ে সনাক্ত হওয়া এই সমস্যায় প্রতি ছয়জনের মধ্যে একজন আক্রান্ত হন, এমনটাই দাবি বিভিন্ন পরিসংখ্যানের। তিনটি ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়ের মিশ্রণ এই ‘সিনড্রোম এক্স’, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে অতিরিক্ত শর্করা এবং উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরল।”

হতাশা:
শুধু শারীরিক সমস্যা নয়, মানসিক সমস্যাও যে শরীরের ওজনকে প্রভাবিত করতে পারে তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ হল হতাশা থেকে ওজন বৃদ্ধি। শরীরের প্রতিটি প্রক্রিয়া একে অপরের সঙ্গে জড়িত। আর তাই একজন হতাশাগ্রস্ত ব্যক্তি ওজন বৃদ্ধিসহ আরও বিভিন্ন জটিলতার শিকার হতে পারেন। হয়ত তারা বেশি খাচ্ছেন, হয়ত পর্যাপ্ত শরীরচর্চা করছেন না।

রজঃবন্ধ:
বয়সের সঙ্গে নারীর শরীরে থাকা হরমোনের মাত্রায় পরিবর্তন আসে। সেই সঙ্গে পরিবর্তন আসে হজম এবং পেশি গঠন প্রক্রিয়ায়। এই দিক থেকে প্রতিটি নারী ভিন্ন, ফলে কারও ক্ষেত্রে ওজন কমানো অত্যন্ত দুষ্কর হয়ে যায় রজঃবন্ধের পর।

জন্ম নিয়ন্ত্রণ:
জন্ম নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন উপায় ব্যবহারের একটি পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া হল ওজন বৃদ্ধি। এর পেছনের হরমোনের তারতম্যও দায়ী। তবে এই সমস্যা সাময়িক, অর্থাৎ জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির সঙ্গে শরীর মানিয়ে নিতে পারলে ওজন স্বাভাবিক হয়ে আসে।

সূত্রঃ বিডিনিউজ