রামুর বিশিষ্ট রাজনীতিক ফতেখাঁরকুল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহ আলম বাদলের ১৭তম মৃত্যু বার্ষিকী

খালেদ শহীদ, রামুঃ
শাহ আলম বাদল রামু-উখিয়ার প্রাচীন জনগোষ্ঠি আবদুল আলী সিকদার বংশের একাদশ পুরুষ ও রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। ২০০২ ইংরেজি’র ২০ ডিসেম্বর, শুক্রবার তিনি ইন্তেকাল করেন। ২১ ডিসেম্বর ২০১৯ ইংরেজি, শুক্রবার তাঁর ১৭তম মৃত্যু বার্ষিকী। আল্লাহ যেন তাঁকে বেহেশত দান করেন। আলাহুম্মা আমিন।

শাহ আলম বাদল অল্প বয়সে তারুণ্যময় উদ্যম ও তেজস্বীয়তায় রামু উপজেলা আওয়ামীলীগ রাজনীতির একজন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন। নিজ জন্মস্থান রামুতে ব্যবসা-বানিজ্যের পাশাপাশি রাজনীতি, সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া ও সামাজিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েন। রামু উপজেলা আওয়ামীলীগকে সু-সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর ক্রীড়ামনষ্ক চিন্তা চেতনায় একজন সফল ক্রীড়া সংগঠকের সুখ্যাতি পায়। বিভিন্ন সমাজসেবামুলক কর্মকান্ডে ন্যায় বিচারক পরিচিতি লাভ করেন এবং গ্রামের মানুষের ভালোবাসায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি ১ মে ১৯৯২ ইংরেজি’র থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৮ ইংরেজি পর্যন্ত রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ছিলেন। ওই সময়ে তিনি ‘মরহুম মেহের আলী স্মৃতি বৃত্তি’ নামে ইউনিয়ন ভিত্তিক তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের জন্য প্রাথমিক বৃত্তি প্রচলন করে, রামু উপজেলার শিক্ষা বিস্তারে বিশেষ অবদান রাখেন।

বাঁকখালী নদীতে রামু উপজেলার ঐতিহ্যবাহী লোকজক্রীড়া ‘কেন্দ্রীয় নৌকা বাইচ’ প্রতিযোগিতার ধারাবাহিকতা প্রচলন রাখাও শাহ আলম বাদল চেয়ারম্যানের অবদান অনস্বীকার্য। একজন সফল ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে তিনি শত বছরের লোকজক্রীড়া নৌকা বাইচ খেলা ‘মরহুম আজিজুল ইসলাম স্মৃতি নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা’ নামে, তাঁর মৃত্যুর পূর্ব সময় পর্যন্ত চালু রেখে ছিলেন।

মরহুম শাহ আলম বাদল চেয়ারম্যান, তৎকালীন কক্সবাজার মহকুমার প্রথম মুসলিম গ্র্যাজুয়েট মেহের আলী মিঞা’র নাতি। রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের অফিসেরচর সিকাদার পাড়া এলাকার মরহুম নুরুল ইসলাম বাচ্চু মিঞা’র বড় ছেলে।

রামুর বিশিষ্ট ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, ফতেখাঁরকুল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহ আলম বাদলের ১৭তম মৃত্যু বার্ষিকীতে তারুণ্যদ্বীপ্ত রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাকে স্মরণে রেখে দোয়া কামনা করেন, রামু-উখিয়ার প্রাচীন জনগোষ্ঠির সংগঠন ‘আবদুল আলী সিকদার বংশ সংহতি সংঘ’র নেতৃবৃন্দ। তাঁর মৃত্যু রামু উপজেলার রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া অঙ্গনের একজন অভিভাককে হারিয়েছে।