রামুতে এ্যাডভোকেসি সভাঃ কিশোরী মায়েদের মাতৃমৃত্যুর হার বয়সী মায়েদের দ্বিগুন

সোয়েব সাঈদ, রামুঃ
কৈশোরকালীন মাতৃত্ব কমিয়ে আনা বাংলাদেশের জন্য এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে এ চ্যালেঞ্জ সফলতার সাথে মোকাবেলা করতে হবে। বিডিএইচএস-২০১৪ অনুযায়ি বাংলাদেশে ৫৯ শতাংশ নারীর ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই বিয়ে হয়। ১৫-১৯ বছর বয়সে প্রতি হাজারে ১১৩ জন কিশোরী গর্ভধারণ করে। কিশোরী মায়েদের মধ্যে মাতৃমৃত্যুর হার ২০ বছরের বেশী বয়সী মায়েদের তুলনায় দ্বিগুন বেশি। আবার ১৪ বছর বা তার কমবয়সী কিশোরী মায়েদের মধ্যে গর্ভজনিত জটিলতার কারণে মৃত্যু ঝূঁকি পাঁচগুন বেশি এবং তাদের সন্তানদের মৃত্যুঝূঁকিও অনেক বেশি। শিশু জন্মদানে সৃষ্ট জটিলতা কিশোরী মায়েদের মৃত্যুর অন্যতম কারণ। বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশে মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যু হার কমানোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। গবেষকদের মতে, এ সাফল্যের মূলকারণ নারীশিক্ষা, সফল টিকাদান কর্মসূচি এবং পরিবার পরিকল্পনা। অনেকসময় কিশোরী মায়ের মৃত্যু এসব সাফল্যকে ম্লান করে দেয়। তাই কৈশোরকালীন মাতৃত্ব কমিয়ে আনতে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তা ও মাঠকর্মীদের নিষ্ঠা ও দক্ষতার সাথে কাজ করতে হবে।
রামুতে পরিবার কল্যাণ সেবা ও প্রচার সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত এ্যাডভোকেসি সভা ও প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব তথ্য ও অভিমত প্রকাশ করেন। মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় রামু উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে আয়োজিত সভায় জানানো হয় আগামী ৭ থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশব্যাপী সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সেবা কেন্দ্রে পরিবার কল্যাণ সেবা ও প্রচার সপ্তাহ উদযাপন করা হবে।

রামু উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাদেকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথির বক্তব্য রাখেন, কক্সবাজার পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডা. পিন্টু ভট্টাচার্য্য, ডিষ্ট্রিক কনসালটেন্ট ডা. মো. রকিব উল্লাহ, রামু উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল সরওয়ার কাজল, রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণয় চাকমা, রামু উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডা. মেজবাহ উদ্দিন, রামু উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. সালাহ উদ্দিন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আফসানা জেসমনি পপি, ইউএনএফপি এর কনসালটেন্ট রবিউল হোসেন, রামু সূর্যের হাসি ক্লিনিকের ব্যবস্থাপক খন্দকার দেলোয়ার হোসেন, রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সাংবাদিক সোয়েব সাঈদ।

এছাড়া অনুষ্ঠানে রামু উপজেলায় কর্মরত পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এবং মাঠ কর্মীরা বক্তব্য রাখেন। সভায় আগামী ৭ থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিবার কল্যাণ সেবা ও প্রচার সপ্তাহ উদযাপনে সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়। এবার সেবা ও প্রচার সপ্তাহের প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে “পরিবার পরিকল্পনা সেবা গ্রহণ করি, কৈশোরকালীন মাতৃত্ব রোধ করি”।

রামু উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান সভায় জানান, পরিবার কল্যাণ সেবা ও প্রচার সপ্তাহ চলাকালীন সময়ে প্রতিদিন উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনার অস্থায়ী, দীর্ঘমেয়াদী ও স্থায়ী পদ্ধতির বিশেষ ক্যাম্পের আয়োজন এবং সেবা প্রদান করা হবে।