রামুর জোয়ারিয়ানালায় মসজিদের স্থাপনা ভাংচুর, আহত ৩

সোয়েব সাঈদ, রামুঃ
রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের নন্দাখালী বড়পাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের স্থাপনা (প্রসাবখানা) ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। ভাংচুরে বাধা দেয়া ভূমিগ্রাসী চক্রের বেপরোয়া হামলায় মসজিদ কমিটির সভাপতি সহ ৩ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (২২ নভেম্বর) জুমার নামাজের পর এ ভাংচুর ও মারধরের ঘটনা ঘটে।
হামলায় আহতরা হলেন, নন্দাখালী বড়পাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি রশিদ আহমদ, মাহফুজুর রহমানের ছেলে সাদ্দাম হোসেন ও বাঁচা মিয়ার ছেলে জাফর আলম। আহতদের মধ্যে সাদ্দাম হোসেন ও জাফর আলমকে প্রথমে রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

আহতরা জানান, ওই এলাকার মৃত তমিম গোলালে ছেলে চিহ্নিত ভূমিদস্যু কাশেম আলী ও তার ছেলে রেজাউল করিম এবং জিয়াবুল করিম ভূট্টোর নেতৃত্বে এ হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। তাঁরা আরো জানান, হামলাকারিরা গত ১৭ অক্টোবর ভোরে নন্দাখালী বড় পাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের প্রসাবখানা ভেঙ্গে দেয়। ওই সময় মসিজদ কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় মুসল্লিরা সেটি পূননির্মাণ করে। ওই ঘটনায় গত ১৮ অক্টোবর মসজিদ কর্তৃপক্ষ রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রণয় চাকমারা কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে বিষয়টি বিচারাধিন থাকাকালেই কাশেম আলীর নেতৃত্বে একদল ভাড়াটে নারী-পুরুষ লাটি-সোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মসজিদের নবনির্মিত প্রসাবখানাটি ফের ভাংচুর শুরু করে। এসময় জুমার নামাজ পড়তে আসার মুসল্লীরা ভাংচুরের বাধা দিতে গেলে ভাংচুরকারিরা মুসল্লীদের উপর হামলা শুরু করে। বেপরোয়া হামলায় মুসল্লী সাদ্দাম হোসেন ও জাফর আলম গুরুতর জখমপ্রাপ্ত হন। এসময় উভয় পক্ষকে নিবৃত করতে আসা মসজিদ কমিটির সভাপতি রশিদ আহমদকেও লাটি-সোটা দিয়ে পিটিয়ে আহত করে কাশেম আলী ও তার সহযোগিরা।

স্থানীয় মুসল্লী সাবেক মেম্বার মো. ইসলাম, আবদুল হাকিম, হাফেজ আশেকুর রহমান এবং মসজিদের খতিব মাওলানা জালাল উদ্দিন জানান, মাসখানেক পূর্বে কোন কারণ ছাড়াই কাশেম আলী মসজিদের প্রসাব খানা ভাংচুর করে। পরে তিনি ভাংচুরের বিষয়টি অস্বীকার করলে মসজিদ কমিটি তা পূননির্মাণ করে। এরপর সম্প্রতি কাশেম আলী ওই জমিটি নিজের বলে দাবী করলে মসজিদ কর্তৃপক্ষ শুক্রবার জুমার নামাজের পর উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করে বিষয়টি নিষ্পত্তির ঘোষনা দেয়। কিন্তু কোন বৈঠক বা বিচারের তোয়াক্কা না করে জুমার নামাজের পরপরই পরিকল্পিতভাবে কাশেম আলী লোকজন নিয়ে নবনির্মিত প্রসাবখানাটি ভাংচুর শুরু করে। এসময় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের স্থাপনা এভাবে ভাংচুরের প্রতিবাদ জানালে ভাংচুর কারীরা মসজিদ কমিটির সভাপতি ও মুসল্লিদের ব্যাপক মারধর করে এবং প্রসাবখানাটি গুড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় মসজিদ কর্তৃপক্ষ মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বর্বরোচিত এ হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় এলাকায় জনমনে ক্ষোভ বিরাজ করছে।