কক্সবাজারের হিন্দু ধর্মীয় দুই নেতাকে হত্যার হুমকি দিয়ে আইএস এর নামে চিঠি

 স্টাফ রিপোর্টার :

দেশের বিভিন্ন স্থানে জঙ্গী হামলা, ধর্মীয় পুরোহিত হত্যার ঘটনার পর এবার আন্তর্জাতিক জঙ্গী সংগঠন আইএস এর নামে পৃথক উড়ো চিঠি পেলেন কক্সবাজার জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। ডাকযোগে প্রেরিত এই চিঠি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাদের হাতে আসে। কাঁচা হাতে ভুলে ভরা বানানে লেখা ওই চিঠিতে আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন মন্দিরে হামলা চালানোর এবং সকল মন্দিরের পুরোহিত সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে খুন করারও হুমকি দেওয়া হয়।

index

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট রনজিদ দাশ বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন স্থানে জঙ্গী হামলা, ধর্মীয় পুরোহিত হত্যার ধারবাহিকতায় আমাদের কাছে আইএস এর নামে আমাদের কাছে একটি চিঠি এসেছে। এতে সংবাদ প্রেরক হিসেবে দুই ব্যক্তির ভূঁয়া নাম ব্যবহার করা হয়েছে। চিঠিটি দেওয়া হয়েছে কক্সবাজার শহরের সৈকত পোষ্ট অফিস থেকে মাত্র এক কিলোমিটারে কাছাকাছি দূরত্বে থাকা কক্সবাজার ডাকঘরে। আমাকে এবং সাধারণ সম্পাদক বাবুল শর্মাকে পাঠানো চিঠি দেখে মনে হয়েছে, দু’টো চিঠিই একই ব্যক্তির হাতে লেখা। আমার কাছে পাঠানো চিঠির প্রেরকের নাম-ঠিকানা লেখা হয়েছে, সুমন রাইকান, আইনজীবী, কক্সবাজার ঠিকানা দিয়ে। চিঠিতে ডাক টিকিট লাগানো হয়েছে এবং ডাকঘরের সীলমোহরও পড়েছে।বিষয়টি পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ এবং কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেনকে অবহিত করা হয়েছে। তাঁরা আমাকে এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরী করার পরামর্শ দিয়েছেন।’

রনজিত জানান, একইভাবে সাধারণ সম্পাদককেও পাঠানো চিঠির প্রেরকের নাম-ঠিকানা লেখা হয়েছে এড: আবুল কালাম আজাদ, চকরিয়া আইনজীবি সমিতি কক্সবাজার। চিঠিতে বলা হয়, সর্বপ্রথম কক্সবাজার জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্র লালদীঘির পাড়ে অবস্থিত ব্রাহ্ম মন্দিরে হামলা চালানো হবে। পরে কালী বাড়ি, স্বরস্বতী বাড়ি, লোকনাথ সেবাশ্রম, অনুকুল চন্দ্রের আশ্রম, ইসকন মন্দির, কৃষ্ণানন্দধাম, শংকর মঠ ও রামকৃষ্ণ সেবাশ্রমে হামলা চালানো হবে। চিঠির উপরে লেখা হয়েছে ‘দেশ পূজা উদযাপন কমিটি কক্সবাজার’ এর ঠিক নিচে লেখা হয়েছে, ‘আই.এস জঙ্গি সংগটন’।

ভুল বানানে ভরা চিঠিটি হুবহু তুলে ধরা হলো: ‘

আগামী ৩০ জুলাই এর মধ্যে ককসবাজারের সর্বপ্রথম মন্দিরে হামলা চালাব। ব্রাক্ষ মন্দিরে, এরপর কালী বাড়ী, স্বরস্বতী বাড়ী, লোকনাথ সেবাশ্রম, অনুকুল চন্দের আশ্রম, ইসকন মন্দিও, কৃষ্ণানন্দধাম, শংকর মঠ, বড় ধরনের হামলা চালাব রামকৃষ্ণ সেবাশ্রম। তোমরা যতদিন না পর্যন্ত হিন্দুরা ইসলাম ধর্ম গ্রহন করবে না ততদিন পর্যন্ত এই জিহাদ চলবে। আমরা জঁঙ্গি আমরা ইসলাম চাই কক্সবাজারের সমস্ত মন্দিরের পুরোহিত সভাপতি সেক্রেটারী এদের আমরা আল্লাহ আকবরের নামে খুঁজে খুঁজে বের করে খুন করব। আমরা আইএস জঁঙ্গি পারিসত ভারতে পালিয়ে যা। আর না পারলে তোদের গলা কেটে হত্যা করব। যত বড় প্রশাসন আসুক না কেন হত্যা অবশ্যই করব। তারপরে মহেশখালী আদিনাথ মন্দিরে বহুবার চেস্টা করেছি পারিনি এইবার আর রেহাই নেই। আল্লাহ আকবর আই.এস জঁঙ্গি সংগটন।’

এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৯টার দিকে মুঠোফোনে জানতে চাইলে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ বলেন, ‘পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা এরকম একটি চিঠি পাওয়ার বিষয়ে আমাকে অবহিত করেছেন। আমি তাদের একটি সাধারণ ডায়েরী করার পরামর্শ দিয়েছি। তাদের সাথে সমন্বয় করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারা চিঠি দিয়েছে বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।’