শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সিরিজ পাকিস্তানের

ক্রীড়া ডেস্কঃ
ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেললেন দানুশকা গুনাথিলাকা। শেষটায় ঝড় তুলে শ্রীলঙ্কাকে তিনশ রানের কাছে নিয়ে গেলেন দাসুন শানাকা। তবুও পেরে উঠলো না সফরকারীরা। ফখর জামান, আবিদ আলি ও হারিস সোহেলের ফিফটির ওপর ভর করে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে জিতে সিরিজ ঘরে তুলেছে পাকিস্তান।

রোমাঞ্চকর ম্যাচে ৫ উইকেটে জিতেছে সরফরাজ আহমেদের দল। ২৯৮ রানের লক্ষ্য ১০ বল বাকি থাকতে পেরিয়ে গেছে পাকিস্তান। বৃষ্টিতে প্রথম ম্যাচ ভেসে যাওয়ার পর শেষ দুটিতে জিতল তারা।

করাচি ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে বুধবার টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি শ্রীলঙ্কার। শুরুতেই আভিশকা ফার্নান্দোকে ফিরিয়ে দেন মোহাম্মদ আমির।

এরপর টানা তিনটি পঞ্চাশ ছোঁয়া জুটিতে দলকে টানেন গুনাথিলাকা। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পাওয়া এই ওপেনার অধিনায়ক লাহিরু থিরিমান্নের সঙ্গে ৮৮, অ্যাঞ্জেলো পেরেরার সঙ্গে ৫০ ও মিনোদ ভানুকার সঙ্গে ৭৪ রানের জুটি উপহার দেন। আগের সেরা ১১৬ ছাড়িয়ে থামেন ১৩৩ রানে। ১৩৪ বলে খেলা তার দায়িত্বশীল ইনিংসটি গড়া ১৬ চার ও এক ছক্কায়।

শেষ ৫ ওভারে ৫০ রান তোলে শ্রীলঙ্কা। এতে বড় অবদান শানাকার। ২৪ বলে দুই ছক্কা ও ৫ চারে খেলেন ৪৩ রানের খুনে ইনিংস।

৫০ রানে ৩ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের সেরা বোলার আমির। ঝড় বয়ে গেছে আরেক বাঁহাতি পেসার ওয়াহাব রিয়াজের ওপর দিয়ে। ১০ ওভারে ৮১ রান দিয়ে নেন একটি উইকেট। সেটিও এসেছে ইনিংসের শেষ বলে।

ইমাম-উল-হকের চোটে দলে আসা আবিদ শুরুতেই চড়াও হন বোলারদের ওপর। শট খেলতে শুরু করেন ফখরও। দ্রুত এগোতে থাকে পাকিস্তান। দারুণ গুগলিতে আবিদকে এলবিডব্লিউ করে ১২৩ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন ভানিদু হাসারাঙ্গা। ৬৭ বলে ১০ চারে ৭৪ রান করেন আবিদ।

আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করা বাবর আজম ও মনোযোগী ছিলেন দ্রুত রান তোলার দিকে। খুব সময়ের মধ্যে জমে যায় ফখরের সঙ্গে তার জুটি। নুয়ান প্রদিপের বলে বাবর এলবিডব্লিউ হলে ভাঙে পঞ্চাশ ছোঁয়া জুটি।

এরপর বেশিক্ষণ টিকেননি ফখর। প্রদিপের বলে থার্ড ম্যানে ক্যাচ দিয়ে শেষ হয় এই ওপেনারের ইনিংস। ৯১ বলে ৭ চার ও এক ছক্কায় করেন ৭৬ রান।

থিতু হয়ে বিদায় নেন সরফরাজ আহমেদ। লাহিরু কুমারার শর্ট বল টেনে আনেন স্টাম্পে। দায়িত্বশীল ফিফটিতে দলকে জয়ের কাছে নিয়ে যান হারিস। ৫০ বলে বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান করেন ৫৬। ওয়াহাবকে নিয়ে বাকিটা সারেন ইফতিখার। ছক্কা ও চারে ম্যাচ শেষ করা এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান অপরাজিত থাকেন ২৮ রানে।

একাদশে ফেরার ম্যাচে আক্রমণাত্মক ফিফটির জন্য ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন আবিদ। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরি ও এই ম্যাচের ৩১ রানের জন্য সিরিজ সেরার পুরস্কার জেতেন বাবর।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

শ্রীলঙ্কা: ৫০ ওভারে ২৯৭/৯ (গুনাথিলাকা ১৩৩, আভিশকা ৪, থিরিমান্নে ৩৬, অ্যাঞ্জেলো ১৩, ভানুকা ৩৬, জয়াসুরিয়া ৩, শানাকা ৪৩, হাসারাঙ্গা ১০, সান্দাক্যান ০, প্রদিপ ১*; আমির ১০-০-৫০-৩, উসমান ৮-১-৪১-১, ইফতেখার ৯-১-৪৩-০, ওয়াহাব ১০-০-৮১-১, শাদাব ৯-০-৫০-১, নওয়াজ ৪-০-২৪-১)

পাকিস্তান: ৪৮.২ ওভারে ২৯৯/৫ (ফখর ৭৬, আবিদ ৭৪, বাবর ৩১, সরফরাজ ২৩, হারিস ৫৬, ইফতেখার ২৮*, ওয়াহাব ১*; প্রদিপ ৯.২-১-৫৩-২, শানাকা ৫-০-২৮-০, কুমারা ৭-০-৫৫-১, সান্দাক্যান ১০-০-৬২-০, হাসারাঙ্গা ১০-০-৫৪-১, জয়াসুরিয়া ৭-০-৩৯-১)

ফল: পাকিস্তান ৫ উইকেটে জয়ী

সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে জয়ী পাকিস্তান

ম্যান অব দা ম্যাচ: আবিদ আলি

ম্যান অব দা সিরিজ: বাবর আজম

সূত্রঃ বিডিনিউজ