লামায় জাতীয় কৃমিনিয়ন্ত্রণ সপ্তাহের উদ্বোধন

লামা প্রতিনিধি : বান্দরবানের লামা উপজেলায় বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদেরকে কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়ানোর মধ্যে দিয়ে জাতীয় কৃমি নিয়ন্ত্রণ সপ্তাহের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) সকাল ১০.০০টায় লামা পৌরসভার চম্পাতলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কৃমি নিয়ন্ত্রণ সপ্তাহের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন লামা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মোঃ জহিরুল ইসলাম।

জাতীয় কৃমি নিয়ন্ত্রণ সপ্তাহের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদুল হক। স্বাস্থ্য পরিদর্শক (ইনচার্জ) সমীরণ বড়–য়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি পৌর মেয়র মোঃ জহিরুল ইসলাম বলেন, কৃমি মানুষের খাদ্যের পূষ্টিটুকু খেয়ে ফেলে, কৃমির কারণে শিশুরা পূষ্টিহীন হয়ে পড়ে। পেট থেকে রক্ত শোষণ করে। শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধির ব্যাঘাত ঘটায়। কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা যাতে ওষুধ খাওয়া থেকে বাদ না পড়ে সেজন্য তিনি স্বাস্থ্য ও শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সময় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদুল হক বলেন, শিশুদের রক্তশূন্যতার অন্যতম কারণ কৃমি। এছাড়া ক্ষতিকর কৃমির প্রভাবে প্রতিবছর হাজার হাজার শিশু অপুষ্টিজনিত রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়। ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গিয়ে শিশুদের মানসিক ও দৈহিক বিকাশ বাধাগ্রস্থ হয়। শিশুদের সুরক্ষার জন্য বর্তমান সরকার জাতীয় পর্যায়ে বছরে দুইবার সপ্তাহব্যাপী কৃমি নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সবাই এগিয়ে এলে শিশুদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। এসময় তিনি জাতীয় এ কর্মসূচি শতভাগ সফল করতে সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি আরো বলেন, যাদের পেটে কৃমি বেশি, ওষুধ খেলে তাদের বমি বমি ভাব হতে পারে। এছাড়া পেট ও মাথাব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে এগুলো বড় ধরনের কোনও সমস্যা নয়। খালি পেটে কৃমিনাশক ওষুধ না খাওয়ার পরামর্শ দেন। যদিও বড় ধরনের কোন সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগাযোগ করার জন্য বলেন তিনি।

এসময় চম্পাতলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মরিয়ম মোস্তফাসহ শিক্ষক-শিক্ষিকা, স্বাস্থ্য কর্মী ও ছাত্র-ছাত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। প্রসংগত, ১ থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত সারাদেশে সপ্তাহব্যাপী প্রতিটি মাধ্যমিক ও প্রাথমিক এবং মাদ্রাসা সমূহে ৫ থেকে ১৬ বছর বয়সী সকলকে কৃমিনাশক ট্যাবলেট ওষুধ খাওয়ানো হবে।