টেকনাফে আওয়ামীলীগ নেতা হত্যা মামলার আসামি শীর্ষ ডাকাত আবসার আটক: আর কত হত্যা হলে টেকনাফবাসী সন্ত্রাস মুক্ত হবে?

গিয়াস উদ্দিন ভুলু , টেকনাফ:
টেকনাফে আওয়ামীলীগ নেতা সিরাজ মেম্বার হত্যার মামলার আসামি শীর্ষ ডাকাত নুরুল আবসার নুরু (২৭) কে আটত করেছে পুলিশ। সে টেকনাফ পৌরসভার পুরাতন পল্লান পাড়া এলাকার মোঃ সেলিম প্রকাশ সেলিম মিস্ত্রির ছেলে।

সত্যতা নিশ্চিত করে টেকনাফ মডেল ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল মজিদ আমাদের রামু ডটকমকে জানান, ১১ জুলাই গভীর রাতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক কাঞ্চন কান্তি পালের নেতৃত্বে একদল পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উখিয়া উপজেলার তেলখোলা পাহাড়ী এলাকা থেকে তাকে আটক করে। সে টেকনাফ সদর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সিরাজ মেম্বার হত্যা মামলার পাঁচ নাম্বার আসামী।

index

ওসি আবদুল মজিদ আরো জানান, আটক নুরুল আবছার কুখ্যাত শীর্ষ ডাকাত বহু মামলার পলাতক আসামী আবদুল হাকিম ডাকাতের একান্ত সহযোগি এবং সদর ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। তাকে উক্ত মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে কক্সবাজার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই কাঞ্জন কান্তি দাশ বলেন, সিরাজ মেম্বার হত্যার ২নং ও ৫নং আসামী শীর্ষ ডাকাত নজির আহমেদ ও নুরুল আবসার নুরু (২৭) কে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৪ জুলাই রোববার রাত দেড়টার দিকে সদর ইউনিয়নের নতুন পল্লান পাড়া তিন রাস্তার মাথায় বাড়িতে ঢুকে সিরাজ মেম্বারকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এসময় গুলির শব্দ শুনে তার স্ত্রী ইয়াছমিন আক্তার এগিয়ে আসলে তাকেও গুলি করে সন্ত্রাসীরা। পরে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা ফাঁকা গুলি করে পালিয়ে যায়।

খবর পেয়ে টেকনাফ মডেল থানার ওসি আবদুল মজিদের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গুলিবিদ্ধ দম্পতিকে উদ্ধার করে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সিরাজকে কর্মরত চিকিৎসক শহিদুল ইসলাম মৃত ঘোষণা করেন।

পরের দিন নিহতের ছেলে আবদুল ফারুক বাদি হয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আজম উল্লাহকে প্রধান করে ১৫ জনকে এজাহার নামীয়সহ আরো ১০/১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি হত্যা মামলা দয়ের করা হয়।

এব্যাপারে টেকনাফের সুশীল সমাজের বেশ কয়েকজন আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, আর কত হত্যা হলে টেকনাফবাসী সন্ত্রাসী ও ডাকাতদের কবল থেকে মুক্তি পাবে। কারণ যেভাবে হঠাৎ করে দিনের পর দিন বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ড, হত্যা ও অপহরণ বেড়ে যাচ্ছে। এক প্রকারে বলতে গেলে টেকনাফের সাধারণ মানুষ এখন চরম আতংক বয়ে বেড়াচ্ছে।

যদি নিজের বসতবাড়ির দরজা ভেঙ্গে বর্তমান সরকারের পরীক্ষিত একজন নেতাকে নির্মম ভাবে গুলি করে হত্যা করে পালিয়ে যেতে পারে, তাহলে এইভাবে চলতে থাকলে এলাকার আইনশৃংখলা চরম অবনতি ধারণ করবে। তাই আমাদের দাবি যারা এই সমস্ত অপরাধ কর্মকান্ড ও হত্যায় জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের সদস্যদের অভিযানকে আরো কঠোর করতে হবে।