কক্সবাজারে বেতার শিল্পীদের মানববন্ধন ও সমাবেশঃ অবিলম্বে আরডি মাহফুজের অপসারণ না হলে কঠোর আন্দোলনের হুমকী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
কক্সবাজার বেতারের আঞ্চলিক পরিচালক মো.মাহফুজুল হক ও কতিপয় কর্মচারীর আর্থিক অনিয়ম,অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির প্রতিবাদ এবং তাদের দ্রুত অপসারণ ও দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবিতে ভারী বর্ষন উপেক্ষা করে মানব বন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন বেতারের শিল্পীরা।

গতকাল বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সামনে কক্সবাজার বেতার শিল্পী সমন্বয় পরিষদ প্রতিবাদী এ কর্মসুচির আয়োজন করে। এ কর্মসুচিতে কক্সবাজার বেতারের শিল্পী-কলাকুশলীছাড়াও ,সংস্কৃতিসেবী,রাজনৈতিক ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তরা বলেন,পর্যটন শহর এবং ভৌগলিক অবস্থানগত কারণে শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশে ও সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাছে এই কক্সবাজার বেতার কেন্দ্রটির গুরুত্ব অনেক বেশি। এছাড়াও এখানে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অবস্থানের কারণে এই বেতার কেন্দ্রটির গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়।

কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হল, বর্তমানে এই বেতার কেন্দ্রটি দূর্নীতি ও নানা অনিয়মের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। বর্মান আঞ্চলিক পরিচালক (আরডি) মাহফুজুল হক, দুইজন কর্মমচারীর সহযোগিতায় বহিরাঙ্গন অনুষ্ঠান এবং শিল্পীখাত এবং ইউনিসেফের প্রকল্প থেকে অন্তত দুইকোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতি করেছেন।

যে কারণে আজ শিল্পী সমাজকে মাঠে নামতে হয়েছে। সমাবেশে অবিলম্বে এই দুর্নীতিবাজ আরডিকে অপসারণ এবং তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের ঘোষনা দেন শিল্পী নেতৃবৃন্দ।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বেতারের নাট্য প্রযোজক স্বপন ভট্ট্যাচার্য্য বলেন, মোটা অংকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে স্থানীয় শিল্পী, কলাকুশীল এবং সুশীল সমাজের আন্দোলনের মুখে ২০১৭ সালের জুলাই মাসে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত আঞ্চলিক পরিচালক মো. হাবিবুর রহমানকে ষ্ট্যান্ড রিলিজ করে সিলেটে বদলী করা হয়। কিন্তু অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও কর্তৃপক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা না নেওয়ায় কক্সবাজার বেতার কেন্দ্রে সেই দূর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধ হয়নি। যে কারণে শিল্পীদের আবারও রাস্তায় নামতে হয়েছে।

সংগঠনের সিনিয়রসহ-সভাপতি অধ্যাপক রায়হান উদ্দিন বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির ব্যপারে জিরো টরালেন্স। আমরা শিল্পী সমাজ চাই, অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে দুর্নীতিবাজ আরডিসহ কর্মচারীদের অপসারণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কক্সবাজার বেতারকে দুর্নীতিমুক্ত করবে। অন্যথায় আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক রায়হান উদ্দিন বলেন, শুধু কোটি কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মই নয়, নিরুপা পাল নামের এক ক্যাজুয়াল স্টাফের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কেও জড়িয়ে পড়েন এই আরডি। যা বেতারের ভাবমূর্তিকে দারুণভাবে ভুলুন্ঠিত করেছে। আমরা এই আরডির কঠোর শাস্তি চাই।

কক্সবাজার বেতার শিল্পী সমন্বয় পরিষদের সভাপতি ও বেতারের সংগীত প্রযোজক অধ্যাপক রায়হান উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের অর্থ সম্পাদক সুশান্ত পাল বাচ্চুর সঞ্চালনায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন, সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও বেতারের নাট্য প্রযোজক জসীম উদ্দিন বকুল, কক্সবাজার সম্পদ রক্ষা আন্দোলন এর সদস্য সচিব মফিজুর রহমান, সংগঠনের সহ-সভাপতি ও বেতারের সংগীত প্রযোজক বশিরুল ইসলাম, সংগীত প্রযোজক দ্বীপলাল চক্রবর্তী,কক্সবাজার সন্মিলিত সাংস্কৃতিক পরিষদের সভাপতি সত্যপ্রিয় চৌধুরী দোলন,সংগঠনের সহ সাধারণ সম্পাদক পরেশ কান্তি দে, বেতারের সংগীত শিল্পী মো, শাহ আলম, ইসকান্দার মীর্জা,বনানী চক্রবর্তী, সংগীত বড়ুয়া, রেডিও এনাউন্সার ক্লাবের সভাপতি সুনীল বড়ুয়া, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক তৌফিকুল ইসলাম লিপু, অনুষ্ঠান ঘোষক দীপক বড়ুয়া, নাট্য শিল্পী শাহানা মজুমদার চুমকী,সংগীত শিল্পী আবুল কাশেম উপস্থাপক দীপক বড়ুয়া প্রমুখ।

উল্লেখ্য, কক্সবাজার বেতারের আরডি মাহফুজুল হকের নানা অনিয়ম নিয়ে প্রথমআলো,সমকাল,জনকন্ঠ,বাংলানিউজটোয়েন্টিফোরডটকম,দৈনিক আজাদী, দৈনিক আজকের দেশবিদেশ,দৈনিক কক্সবাজার,দৈনিক সকালের কক্সবাজার,সহ বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রপত্রিকায় দফায় দফায় সংবাদ প্রকাশের পর তিন সদস্যর তদন্ত কমিটি গঠন করে তথ্য মন্ত্রনালয়।