রামুতে বন্দুকযুদ্ধে ডাকাত জসিম নিহত হওয়ার ঘটনায় পুলিশের ব্যাখা

প্রেস বিজ্ঞপ্তি:

অফিসার ইনচার্জ প্রভাষ চন্দ্র ধর এর নেতৃত্বে এস আই/ মোঃ আবুল খায়ের ,এসআই/স্বপন চন্দ্র বড়ুয়া, এসআই/ আহসান হাবিব, এসআই/ মোঃ বিল্লাল হোসেন, এএসআই/ মোরশেদ আলম, এএসআই/ শিমুল কান্তি চৌধুরী সঙ্গীয় কং/৪১৬ মোঃ ইব্রাহিম,কং/১০১২ রুবেল মজুমদার,কং/, ড্রাইভার কং/৫৮৬ মোঃ সোহেল রানা, সকলেই রামু থানা, জেলা-কক্সবাজার  এবং কং/১১৬৩ মোঃ আতিকুর রহমান, কং/১৫৯৭ নাঈমুল হাসান কাজী, উভয়ই বান্দরবান জেলা, বর্তমানে পুলিশ লাইন্স, কক্সবাজার সহ  ১। রামু থানার মামলা নং-২৯,তারিখ-২৯/৬/১৬ ইং ধারা- ৩৯৯/৪০২ পেনাল কোড, ২।  রামু থানার মামলা নং-৩০, তাং-২৯/৬/১৬ ইং, ধারা-The arms Act.1878 এর 19 A, ৩। রামু থানার মামলা নং-০৩,তারিখ-০৩/৭/১৬ ইং ধারা-৩৯৯/৪০২ পেনাল কোড, ৪। রামু থানার মামলা নং-০৪, তাং-০৩/৭/১৬ ইং, ধারা-.The arms Act. 1878 এর 19 A,  এর  সন্দিগ্ধ আসামী জসিম উদ্দিন খোকন (৩৫), পিতা-মৃত অহিদুল ইসলাম, সাং-পশ্চিম পাড়া, বারুয়াখালী, ১নং ওয়ার্ড, থানা-কক্সবাজার সদর, জেলা-কক্সবাজারকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রামু থানাধীন রশিদনগর জেডি রাস্তার মাথা হইতে গত ১০/৭/১৬ ইং তারিখ দুপুর ১২:৩০ ঘটিকার সময় গ্রেপ্তার করিয়া উল্লেখিত মামলার ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িত তাহার সহযোগী আসামীদেরকে গ্রেপ্তারের নিমিত্তে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ভয়ভীতি প্রলোভন মুক্ত অবস্থায় সে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তি প্রদান করে যে, ঘটনায় ব্যবহৃত ৭টি অবৈধ দেশীয় তৈরী পাইপ গান ও ৭০ রাউন্ড কার্তুজ, ৩টি চাপাতি, ২টি ছুরি বর্তমানে রামু থানাধীন উত্তর মিঠাছড়ি চা-বাগান এর পূর্ব দিকে অনুমান ৪০০ গজ দূরে পাহাড়ের উপরে ১টি রাবার গাছের গোড়ায় রহিয়াছে। সেখানে তাকে নিয়া গেলে সে অস্ত্রশস্ত্র ও গুলি বাহির করিয়া দিবে।

বিষয়টি রামু থানার জি, ডি নং-৩৮৪, তাং-১১/৭/১৬ ইং মূলে লিপিবদ্ধ করা হয়। অতঃপর তাহার স্বীকারোক্তি মোতাবেক আসামীকে সহ অস্ত্রশস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের জন্য পুলিশ বর্ণিত স্থানে অদ্য ১১/৭/১৬ ইং তারিখ রাত ০২:০০ ঘটিকার সময় পৌছিবার পরে বর্ণিত আসামী নিজের হাতে ১টি রাবার গাছের গোড়া হইতে  দেশীয় তৈরী ১টি পাইপগান ও ১৩ রাউন্ড তাজা কার্তুজ বাহির করিয়া দেওয়ার সময় ঘটনাস্থলের পূর্বে অন্ধকারের মধ্যে জঙ্গলের ভিতর থেকে পূর্ব থেকে ওৎপেতে থাকা তাহার সহযোগী ডাকাতেরা পুলিশ ও ডাকাত খোকনকে লক্ষ্য করিয়া বৃষ্টির মত এলোপাতাড়ি গুলি বর্ষণ শুরু করে।

তখন পুলিশ  আত্মরক্ষার্থে ও সরকারি অস্ত্রগুলি রক্ষার্থে কং/৪১৬ মোঃ ইব্রাহিম তাহার নামীয় ইস্যুকৃত সরকারি শর্টগান দ্বারা ২০ রাউন্ড এবং কং/১০১২ রুবেল মজুমদার তাহার নামীয় ইস্যুকৃত সরকারি শর্টগান দ্বারা ২০ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে, কং/১১৬৩ আতিকুর রহমান তাহার নামীয় সরকারি ইস্যুকৃত শর্টগান হইতে ১৬ রাউন্ড এবং কং/১৫৯৭ নাইমুল হাসান কাজী তাহার নামীয় সরকারি শর্টগান হইতে ১৭ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে।

উভয়ের মধ্যে অনুমান ০২ ঘন্টা গোলাগুলি হয়। অজ্ঞাতনামা ডাকাতেরা আগ্নেয়াস্ত্র দ্বারা প্রায় ১০০/১৫০ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে। অজ্ঞাতনামা ডাকাতদের গুলিতে ডাকাত জসিম উদ্দিন খোকন গুলি বিদ্ধ হইয়া ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়ে এবং এস,আই/ আবুল খায়ের, কং/১০১২ রুবেল মজুমদার, কং/৪১৬ মোঃ ইব্রাহিম এবং কং/১১৬৩ আতিকুর রহমান গুরুতর জখম প্রাপ্ত হয়। উভয়পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির একপর্যায়ে অজ্ঞাতনামা ডাকাতরা অবস্থা বেগতিক দেখিয়া তাদের সঙ্গে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি নিয়ে জঙ্গলের ভিতরে পালিয়ে যায়।

ইতিমধ্যে পুলিশের শোর চিৎকার শুনিয়া স্থানীয় সাক্ষী ১। আজিজ (২৬), পিতা-নুর হোসেন, সাং-উত্তর মিঠাছড়ি, (চা-বাগান), ২। জাহিদ (২৫), পিতা-সোলেমান, সাং-উত্তর মিঠাছড়ি (চৌধুরী পাড়া), ৩। কায়েস (২০), পিতা-মোস্তফা কামাল, সাং-ঐ, ৪। জাকের হোসেন (৪০), পিতা-মন্তাজ  আহাম্মদ, সাং-উত্তর মিঠাছড়ি, ৫। নুরুল ইসলাম (৩০), পিতা-মৃত মোঃ শফি, সাং-উত্তর মিঠাছড়ি (পাহাড়ীয়া পাড়া), সর্ব থানা-রামু, জেলা-কক্সবাজারগন সহ আরো ১৫/২০ জন লোক আসিলে তাদের উপস্থিতিতে সেই এলাকায়  তল্লাশী চালাইয়া একই তারিখ রাত ০৪:১০ ঘটিকার সময়  উপরে বর্ণিত উপস্থিত সাক্ষী ১। আজিজ, ২। জাহিদ, ৩। কায়েসদের সম্মুখে ১। ১২ বোর এর ১টি দেশীয় তৈরী পাইপগান, ২। ১৩ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৩। ২টি চাপাতি জব্দ তালিকা মূলে জব্দ করা হয়।

আহত ডাকাতকে চিকিৎসার জন্য দ্রুত প্রথমে রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করেন। তাহাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল নিয়ে গেলে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করেন। অজ্ঞাতনামা ডাকাতদের গুলিতে ডাকাত জসিম উদ্দিন খোকন গুলি বিদ্ধ হইয়া মৃত্যুবরণ করিয়াছে।

বিজ্ঞ ম্যাজিষ্ট্রেট এর উপস্থিতিতে সুরুতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত সহ লাশ ময়না তদন্তের ব্যবস্থা করা হয়। আহত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসা করা হয়। অজ্ঞাতনামা ডাকাতেরা বেআইনীজনতাবদ্ধে দলবদ্ধ হইয়া আগ্নেয়াস্ত্র নিয়া পুলিশের আইনগত কর্তব্য পালনে আক্রমণ ও বাধা প্রদান করিয়া সাধারণ ও গুরুতর জখম সহ হত্যা করিয়া পেনাল কোড ১৪৩/১৮৬/৩৩২/৩৩৩/৩৫৩/৩০২ ধারা তৎসহ ১৮৭৮ সনের The arms Act. 1878 এর 19 A,  ধারার অপরাধ করিয়াছে।

উল্লেখ্য, উক্ত জসিম উদ্দিন খোকন ডাকাত এর বিরুদ্ধে ১। কক্সবাজার সদর থানার মামলা নং-১৮, তাং- ১৭/৪/০৬; জি আর নং-১০৫/০৬ ধারা- ১৪৩/৪৪৮/৩৮৫/৩২৩ /৩২৪/৩২৬/৩০৭ /৩৭৯ পেনাল কোড-। ২। কক্সবাজার সদর থানার মামলা নং-৪, তারিখ- ০১ /১১/০৬; জি আর নং-২০১/০৬(সদর),  ধারা- ১৪৩/৩২৩/৩৪২/৩৮৫/৩৭৯ পেনাল কোড। ৩।  কক্সবাজার সদর থানার মামলা নং-৪২, তারিখ- ১৭ /৮/০৬; জি আর নং-২৭২/০৬(সদর), ধারা- ১৪৩/৩২৩/৩২৬/৩০৭/৩৭৯ পেনাল কোড।

৪। কক্সবাজার সদর থানার মামলা নং-১৫, তারিখ- ০৯ /১১/০৬; জি আর নং-৪২১/০৬(সদর), ধারা- ১৪৩/৪৪৭/৩৮৫/৩৭৯/৪২৭ পেনাল কোড-১৮৬০; ৫। কক্সবাজার সদর থানার মামলানং-১৫, তারিখ- ০৮ /০১/১৪; জি আর নং-১৫/১৪(সদর),  ধারা- ১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩২৪ /৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩৭৯ পেনাল কোড-১৮৬০; ৬। কক্সবাজার সদর থানার এফ আই আর নং-২২, তারখি- ১২ /৮/১৩; জি আর নং-৫৭৬/১৩(সদর), ধারা- ৩৯৫/৩৯৭/৪১২ পনোল কোড-১৮৬০; ৭।  কক্সবাজার সদর থানার এফ আই আর নং-১৬, তারিখ- ০৭/০১/১৪; জি আর নং-৪১৯/১৪ (সদর),  ধারা- ৩৪১/৩২৩/৩৭৯/৩৮৫/৫০৬ পনোল কোড-১৮৬০; ৮। কক্সবাজার সদর থানার এফ আই আর নং-৪৮, তারিখ- ২২ /০১/১৪; জি আর নং-৪৮/১৪(সদর), ধারা- ১৪৩/১০৯/৫০৬ পেনাল কোড তৎসহ ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইন এর ১৬(২)। ৯।  কক্সবাজার সদর থানার এফ আই আর নং-১৩, তারিখ- ০৮/০১/ ২০১৪; জি আর নং-১৩/১৪(সদর), ধারা- ১৪৩/১৪৪/৩২৩/৩২৪ /৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩৭৯ /৫০৬ পেনাল কোড ১০। কক্সবাজার এর কক্সবাজার সদর থানার এফ আই আর নং-৩৪, তারিখ- ১৬/২/১৪ইং, ধারা-১৯৯০ সনের মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনরে ১৯(১) এর ৯(খ), জি আর ১০৪/১৪। ১১। কক্সবাজার এর কক্সবাজার সদর থানার এফ আই আর নং-৩৫, তারিখ- ১৬/২/১৪ ইং, ধারা-১৯৯০ সনের মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনের ১৯(১) এর ৯(ক), জি. আর ১০৫/১৪। ১২। কক্সবাজার এর কক্সবাজার সদর থানার এফ আই আর নং-০৭, তারিখ- ৪/২/১৫ইং, ধারা-অস্ত্র আইনের ১৯-এ।  ১৩। কক্সবাজার এর কক্সবাজার সদর থানার এফ আই আর নং-০৮, তারিখ- ৪/২/১৫ইং, ধারা-ধারা-১৯৯০ সনের মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনের ১৯(১) এর ৯(খ)। উক্ত আসামী উপরোক্ত মামলা গুলির এজাহারনামীয় আসামী এবং ১৪। রামু থানার মামলা নং-২৯,তারিখ-২৯/৬/১৬ ইং ধারা- ৩৯৯/৪০২ পেনাল কোড। ১৫।  রামু থানার মামলা নং-৩০, তাং-২৯/৬/১৬ ইং, ধারা-The arms Act. 1878 এর 19 A,  ১৬। রামু থানার মামলা নং-০৩,তারিখ-০৩/৭/১৬ ইং ধারা-৩৯৯/৪০২ পেনাল কোড। ১৭।  রামু থানার মামলা নং-০৪, তাং-০৩/৭/১৬ ইং, ধারা-The arms Act. 1878 এর 19 A. উপরোক্ত মামলা গুলির সন্দিগ্ধ আসামী হয়।

উক্ত ডাকাত কক্সবাজার জেলার রামু থানা, কক্সবাজার সদর থানা, চকরিয়া থানা, মহেশখালী থানা, টেকনাফ থানা এলাকায় ডাকাতি, খুন, অস্ত্র ব্যবসা, ইয়াবা ব্যবসা, চাঁদাবাজী সহ সকল জঘন্য অপরাধের একজন কুখ্যাত সন্ত্রাসী। তাহার নিহত হওয়ার সংবাদে এলাকার মধ্যে সাধারণ মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলিতেছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে আতংক কাটিয়াছে। অনেক জায়গায় আনন্দে মিষ্টি বিতরণ করিতেছে। এই সংক্রান্তে পুলিশের পক্ষ থেকে বাদী হইয়া নিয়মিত মামলা রুজু করা হইতেছে। তদন্ত অব্যাহত আছে।