নিরাপত্তা দাবিতে বান্দরবানে পাহাড়িদের মানববন্ধন

বান্দরবান প্রতিনিধি:

স্বাভাবিক জীবন যাপনের নিশ্চয়তা ও জীবনের নিরাপত্তার দাবিতে রোববার সকালে বান্দরবান প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন জেএসএসের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হত্যার হুমকিরমুখে জেলা সদরে পালিয়ে এসে আশ্রিত শতাধিক পাহাড়ি পরিবারের সদস্যরা।

রোয়াংছড়ি উপজেলার তারাছ ইউনিয়নের দুর্গম তালুকদার পাড়াসহ ৪টি পাড়া থেকে জনসংহতি সমিতির সশস্ত্র সদস্য ও সমর্থকদের দেয়া হত্যার হুমকিরমুখে গত ৫দিন ধরেই জেলা সদরের বিভিন্ন আবাসিক হোটেল এবং স্বজনদের ঘরে অবস্থান করছেন এসব পরিবারের সদস্যরা।

জীবননাশের হুমকিরমুখে থাকা মারমা ও ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের নানাবয়সী লোকজন রোববার দুপুরে সাংবাদিকদের জানান, গত ৫ জুলাই সন্ধ্যায় রোয়াংছড়ি উপজেলার দুর্গম তারাছা ইউনিয়নের তালুকদার পাড়া এলাকায় অবৈধভাবে সংগ্রহ করা চাঁদার টাকার ভাগাভাগির ঘটনা নিয়ে জনসংহতি সমিতির চাঁদাবাজ বিমল চাকমা ও উগ্য চাকমার গ্রুপের মধ্যে মারামারি হয়। এক পর্যায়ে বিমল চাকমা গুরুতর আহত হলে তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এঘটনার জন্য স্থানীয় পাড়াবাসীকে অহেতুক দায়ী করা হয় এবং পরবর্তীতে পাড়াবাসীকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। ফলে নিরাপত্তাজনিত কারণে ওইসব এলাকার শতাধিক মারমা ও ত্রিপুরা সম্প্রদায়ভুক্ত পরিবারের সদস্যরা গত ৬ জুলাই তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে আসেন জেলা সদরে। সেখানে বিভিন্ন আবাসিক হোটেল ও স্বজনদের ঘরে তারা আশ্রয় নিয়েছেন।

প্রশাসন কিংবা নিরাপত্তা বাহিনীর কোন কর্তৃপক্ষই প্রাণনাশের হুমকিরমুখে থাকা ভয়ে আতংকগ্রস্ত ও জেলা সদরে আশ্রিত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা সহায়তায় কোন উদ্যোগ এখনও গ্রহণ করেনি বলেও তারা অভিযোগ তুলেছেন। তবে জেলা আওয়ামীলীগ এসব পরিবারকে মানবিক সহায়তা প্রদান করছেন বলে জানিয়েছেন দলের জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ও পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য লক্ষ্মীপদ দাস। অপরদিকে সদর উপজেলার জামছড়িমুখ পাড়া থেকে সাবেক ইউপি সদস্যা আওয়ামীলীগ নেতা মংপু মারমাকে গত ১৩জুন অপহরণের পর সদর থানায় দায়েরকৃত মামলার বাদীসহ তার স্বজনদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হচ্ছে। জনসংহতি সমিতির সশস্ত্র সদস্যদের হুমকির মুখে সেই জামছড়িমুখ এলাকা থেকেও প্রায় ৫টি পরিবারের সদস্যরা গত এক সপ্তাহ আগেই জেলা সদরে নিরাপদস্থানে সরে আসতে বাধ্য হন।

রোববার সকালে সন্ত্রাসীদের হত্যার হুমকির মুখে জেলা সদরে আশ্রিত শতাধিক পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের জীবনের নিরাপত্তার দাবিতে ঘন্টা ব্যাপী এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। মানববন্ধনে নেতৃত্ব দেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হ্লাথেয়াই হ্রী, তারাছা ইউপি চেয়ারম্যান উথোয়াই মারমা এবং মহিলা কুহালং ইউপির নারী সদস্যা আনুমা মারমা।

রোববার সকালে জেলা সার্কিট হাউসের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মাসিক আইনশৃংখলা কমিটির সভায় পার্বত্য জনসংহতি সমিতির প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি, অপহরণ, গুম ও হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর নিস্ক্রিয়তার কঠোর সমালোচনা করেন খোদ সরকারি দলের শীর্ষ নেতারা।