টেকনাফে বিভিন্ন অপরাধ ও হত্যা কান্ড বেড়েই চলছে : প্রশাসনের সাঁড়াশি অভিযান আরো কঠোর করার দাবি

গিয়াস উদ্দিন ভুলু:
টেকনাফে দিনের পর দিন বেড়েই চলছে মানুষ হত্যা ও বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ড। এর একমাত্র কারণ হচ্ছে অবৈধ টাকার গরম, স্কুলে লেখাপড়া করা কম বয়সী ছাত্র ও যুবকদের হাতে কোটি কোটি টাকা, সেই টাকা দিয়ে তারা ক্রয় করছে অবৈধ অস্ত্র, গড়ে তুলেছে নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী। আবার এই সন্ত্রাসী বাহিনীদেরকে ব্যবহার করে করছে জমি দখল, করছে ডাকাতি, করছে মানুষ হত্যাসহ সংগঠিত করছে বিভিন্ন প্রকারের হামলা ও অপরাধ কর্মকান্ড।

বলতে গেলে টেকনাফ উপজেলার প্রতিটি এলাকায় এই সমস্ত সন্ত্রাস বাহিনীর এবং অবৈধ টাকার মালিকদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে এই এলাকার সাধারণ মানুষ। কারণ বর্তমানে কম বয়সী যুবকদের হাতে রয়েছে অবৈধ অস্ত্র। এই অস্ত্রধারী যুবকদের ভয়ে কেউ সহজে মুখ খুলতে চায়না।

এদিকে এই অপরাধী ও সন্ত্রাস বাহিনীকে নির্মুল করতে বিভিন্ন প্রশাসনের সদস্যরা সাঁড়াশি অভিযান চালালেও অপরাধীদের মুল হোতারা বার বার থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। কারণ এদের পিছনে রয়েছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালীদের ছত্রছায়া। এতে অপরাধী ও সন্ত্রাস দমন করতে এক প্রকার বাধা গ্রস্ত হয়ে পড়ে স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরা।

গত ৭ জুলাই ঈদের দিন সন্ধ্যা ৭ টার দিকে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের হাজম পাড়া এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কচুবনিয়া এলাকার মো: হাবিরানের ছেলে হেলাল নামে এক যুবকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে রাস্তায় পেলে রাখে। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে টেকনাফ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তার অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসা জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

খবর পেয়ে টেকনাফ থানার এস আই কাঞ্চন কান্তি দাসের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরির্দশন করে এবং ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অপরাধে অভিযান চালিয়ে মহেষখালীয়া পাড়া এলাকার সাবেক মেম্বার নুরুল ইসলামের ছেলে তারেক ও তার সহযোগি রবিউল নামে দুই যুবকে আটক করে।

তার পর রাত ১২টার দিকে হামলার শিকার হওয়া হেলালের মামা মোহাম্মদ শরীফ বাদি হয়ে হাজমপাড়া এলাকার নুর মোহাম্মদের ছেলে সন্ত্রাসী আবছারকে প্রধান আসামী করে ১০ জনকে এজাহারভুক্ত করে টেকনাফ থানায় একটি মামলা দায়ের করে। টেকনাফ থানা পুলিশ উক্ত মামলার দুই আসামী তারেক ও রবিউলকে আদালতে প্রেরণ করে।

উল্লেখ্য , গত ৪ জুলাই টেকনাফে সদর ইউনিয়ন নতুন পল্লান পাড়া এলাকায় মুখোশধারী ডাকাত ও সন্ত্রাসীরা গুলি করে সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাবেক মেম্বার সিরাজুল ইসলাম (৬৮) নির্মমভাবে হত্যা করে সু-কৌশলে পালিয়ে যায়। উক্ত ঘটনায় নিহত সিরাজুল ইসলামের ছেলে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মো: ফারুক বাদি হয়ে বর্তমান ইউপি সদস্য হাজম উল্লাহকে প্রধান আসামী করে ১৫ জন এজারভুক্ত ও ১০-১২জনকে অজ্ঞাত নামা আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।

এব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিশ্চুক টেকনাফ সুশীল সমাজের কয়েকজন অভিমত প্রকাশ করে বলেন, টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কম বয়সী যুবকরা এখন অবৈধ টাকার বিনিময়ে গড়ে তুলেছে সন্ত্রাসী বাহিনী, ব্যবহার করছে অবৈধ অস্ত্র, এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে জিম্মি করে রেখেছে সাধারণ মানুষদেরকে এদের বয়ে কেউ সহজে মুখ খুলতে চায়না।

তাই আমাদের দাবি প্রশাসনের সাঁড়াশি অভিযান আরো কঠোর ভাবে দমন করে অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে এসে উদ্ধার করা হোক অবৈধ অস্ত্র।

এব্যাপারে টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল মজিদ আমাদের রামু ডটকমকে জানান, সন্ত্রাস ও অপরাধীদের দমন করতে পুলিশ সদস্যরা সদা তৎপর রয়েছে আর বিভিন্ন এলাকায় যে সমস্ত অপরাধ কর্মকান্ড সংগঠিত হয় খবর পাওয়ার সাথে সাথে আমাদের পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে আসামীদের ধরতে সক্ষম হচ্ছে।

পাশাপাশি এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সজাগ থাকলে যারা অপরাধ কর্মকান্ড ও হত্যা সাথে জড়িত তাদেরকে ধরতে আমাদের পুলিশ সদস্যদের সাঁড়াশি অভিযানে আরো সফলতা আসবে।