চাঙা হয়ে জয়ের পথে ছুটবে দল, আশা কোচের

ক্রীড়া ডেস্কঃ
টনটনের আকাশের কান্না চলছে সকাল থেকে। ক্রিকেটাররা সবাই এক রকম হোটেলে বৃষ্টিবন্দী। স্টিভ রোডসকে দেখা গেল হোটেলের লবিতে। বাংলাদেশ কোচ অপেক্ষায় ফিল্ডিং কোচ রায়ান কুকের। বৃষ্টির মধ্যেই কোথাও বের হবেন দুজন। দুই দিনের ছুটি সবাই নিজের মতো করেই আয়েশ করে কাটাচ্ছেন। তবে বের হওয়ার আগে বাংলাদেশ কোচ বলে গেলেন, বিশ্রামের পর শুরু আসল চ্যালেঞ্জ, হাঁটতে হবে জয়ের পথ ধরে।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ার পর ব্রিস্টল থেকে বাংলাদেশ দল এসেছে টনটনে। বুধ ও বৃহস্পতিবার কোনো অনুশীলন নেই দলের। শারীরিক ও মানসিক ধকল কাটিয়ে সবাইকে চাঙা ও ফুরফুরে করে তুলতে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে দুই দিন। শুক্রবার আবার শুরু হবে অনুশীলন, তবে সেদিনও ঐচ্ছিক অনুশীলন।

হোটেলের লবিতে পরিচিত দু-একজন সংবাদকর্মী দেখে এগিয়ে এসে কুশলাদি জানতে চাইলেন রোডস। বিশ্রামটা কত জরুরি ছিল জানিয়ে কোচ বললেন, সামনের কঠিন সময়ের জন্য দলকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করবে এই ছুটি।

“গলফ খেলছি, একটু ঘুরে বেড়াচ্ছি, বিশ্রাম নিচ্ছি। গত কিছুদিনে আমাদের অনেক খেলা ছিল। এছাড়াও অনুশীলন, অনেক ভ্রমণ মিলিয়ে ক্লান্তি পেয়ে বসা স্বাভাবিক। এই সব সময়ে বিশ্রাম খুব জরুরি। সবাই চাঙা হয়ে উঠবে আশা করি। সামনে অপেক্ষায় চ্যালেঞ্জ। এখন জেতা শুরু করতে হবে আমাদের।”

জয় দিয়েই বিশ্বকাপ শুরু করেছিল দল। তবে এরপর হেরেছে টানা দুই ম্যাচ। একটি ভেস্তে গেছে বৃষ্টিতে। দলের বিশ্বাস পোক্ত করতে, সেমি-ফাইনালের সমীকরণে টিকে থাকতে পরের ম্যাচে জয়টা খুব করে চাই দলের।

রোডসের কোচিংয়ে ওয়ানডেতে জয়টাই বেশি পেয়েছে বাংলাদেশ। গত বছরের মাঝামাঝি ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেন এই ইংলিশ কোচ। বাংলাদেশের ক্রিকেটে তার একবছর পূর্ণ হয়েছে সম্প্রতি। এই সময়টায় ২৫ ওয়ানডের ১৫টি জিতেছে বাংলাদেশ। ৬ টি-টোয়েন্টিতে জয় ৩টি, ৮ টেস্টে জয় ৩টি।

ইংলিশ কাউন্টি ক্রিকেটে তিনি ছিলেন অনেক অভিজ্ঞ ও শ্রদ্ধেয় কোচ। জাতীয় দলের কোচ হিসেবে প্রথম দায়িত্বের প্রথম বছরে ফিরে তাকিয়ে তৃপ্তিটাই বেশি তার।

“জয়-হার ছিল। ওঠা-নামা এসেছে। তবে সব মিলিয়ে এই এক বছর বেশ ভালো কেটেছে। আমার নিজের জন্য এটি ছিল অনন্য অভিজ্ঞতা। অনেক কিছু শিখেছি, শেখানোর চেষ্টা করেছি। দারুণ উপভোগ করছি নিজের কাজ। ছেলেরা খুব ভালো সাড়া দিয়েছে, তাতে আমার কাজ সহজ হয়েছে।”

দায়িত্বের শুরুতে অবশ্য বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল রোডসকে। সেসবের সঙ্গে মানিয়ে এগিয়ে চলাও বেশ উপভোগ করছেন, জানালেন কোচ।

“নতুন, নতুন পরিবেশ, নতুন দায়িত্ব। অনেক কিছুর সঙ্গেই মানিয়ে নিতে হয়েছে। আমার তো এমন কিছুর অভিজ্ঞতা আগে ছিল না। বিশেষ করে ভাষার দূরত্ব একটি বড় বাধা ছিল।”

“তবে ভাষা খুব বড় সমস্যা হয়নি। কারণ ক্রিকেটের একটি নিজস্ব ভাষা আছে। ক্রিকেটের ভাষা জানলে অন্য কিছু আর লাগে না। অনেকে হয়তো খুব ভালো ইংরেজি পারে না, আমি বাংলা কিছুই পারি না। কিন্তু ক্রিকেটের ভাষা দিয়েই আমরা সেই দূরত্ব ঘুচিয়ে দিয়েছি।”

দায়িত্ব নেওয়ার পর দলের পারফরম্যান্সে উন্নতি হলেও রোডসের বড় একটি পরীক্ষা এই বিশ্বকাপ। মূলত ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের ভাবনাতেই ইংলিশ কন্ডিশনে অভিজ্ঞ এক কোচকে নিয়োগ দিয়েছিল বাংলাদেশ। কোচের কাছে প্রত্যাশা তাই অনেক। সামনের কয়েকটি ম্যাচই বলে দেবে প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির অবস্থান।

সূত্রঃ বিডিনিউজ