শোক বুকে হিংসা জয়ের ঈদ

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই দেশে প্রতিবছর মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয় নজরুলের গানের সুরে ‘দোস্ত-দুশমন’ ভুলে, সব ধর্মের মানুষ ‘হাতে হাত মিলিয়ে’।

এবারও হিংসা-বিদ্বেষ পেছনে ফেলে ঈদ সবার জন্য আনন্দ বয়ে আনবে বলে প্রত্যাশা করেছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দেশবাসীকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তারা, জানিয়েছেন সম্প্রীতির আর সৌহার্দ্যের আহ্বান।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় এবার ৩০ রোজা শেষে ঈদ করছেন বাংলাদেশের মুসলমানরা। তারা ঈদ করছেন ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় দেশি-বিদেশি ২০ প্রাণ ঝড়ে যাওয়ার শোক বুকে নিয়েই।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হিসাবে রাজধানীর অর্ধকোটির বেশি মানুষ এবারও স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে গ্রামে গেছেন। যানজট আর পথের ভোগান্তির সঙ্গে সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলায় পর সৃষ্ট উৎকণ্ঠার পরও দেশের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে উৎসবের রঙ।

দেশের কোটি কোটি মুসলমান বৃহস্পতিবার সকালে ঈদগাহে কিংবা মসজিদে ঈদের নামাজ পড়বেন। বরাবরের মতো এবারও রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত হবে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে, সকাল সাড়ে ৮টায়।

এছাড়া সকাল ৭টা থেকে এক ঘণ্টা পরপর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে হবে ঈদের পাঁচটি জামাত। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে সকাল ৯টায় বায়তুল মোকাররমের জামাতই ঈদের প্রধান জামাত হবে।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, সুপ্রিম কোর্টের  বিচারপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, রাজনীতিবিদসহ সব শ্রেণি পেশার মানুষ জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নেবেন।

প্রতিবারের মতো এবারও দেশের বৃহত্তম ঈদ জামাত হবে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে। ঈদের দিন সকাল ১০টায় এই জামাত পরিচালনা করবেন মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ।

বৃহস্পতিবার আষাঢ়ের ২২তম এই দিনে দেশের কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার বৃষ্টি উৎসবের আনন্দে বাগড়া দিতে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। আর গুলশান হামলার কথা মাথায় রেখে প্রতিটি ঈদগাহ, মসজিদ ও বিনোদন কেন্দ্রে থাকছে নিরাপত্তার কড়াকড়ি।