ঘুরে আসুন মেঘের দেশে

আকাশে মেঘের আনাগোনা। যেন হাত বাড়ালেই ধরা যাবে। চারদিকে সবুজের চাদরে ঢাকা সারি সারি পাহাড়, পাশে সুন্দর কটেজ আর পরিচ্ছন্ন পিচঢালা পথ। এমন পরিবেশে কার না মন জোড়ায়। আর এই মনজুড়ানো স্থানের নাম সাজেক উপত্যকার রুইলুইপাড়া।

রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলা থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে সাজেক ইউনিয়নের সাজেক উপত্যকার অবস্থান সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় সাড়ে সতেরো শ ফুট ওপরে। ফিতার মতো এঁকেবেঁকে চলে যাওয়া উপত্যকার দুই পাশে খাড়া ঢাল। নিচে তাকালে পাহাড়ের গায়ে মেঘ জমে থাকতে দেখা যায়। ৪০ কিলোমিটার লম্বা পুরো সাজেক উপত্যকায় আছে ছয়টি মৌজা। তার প্রথমটিই রুইলুই। এই মৌজার রুইলুইপাড়ার দুই থেকে তিন কিলোমিটারজুড়ে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে গড়ে তোলা হয়েছে পর্যটনকেন্দ্র। সুদৃশ্য সড়কে সড়কবাতি আর খানিক পরপর বসার ব্যবস্থা রয়েছে। গাছের ছায়ায় বসে পর্যটকেরা মেঘ ও পাহাড়ের মিতালি দেখতে পাবেন। চোখে পড়বে এঁকেবেঁকে বয়ে চলা সাজেক নদী ও ভারতের মিজোরামের পাহাড়সারি। রুইলুইয়ে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে গড়ে উঠেছে তিনটি রিসোর্ট। এগুলো হলো সাজেক, রুনময় ও ঝারবুজ। এর মধ্যে বিলাসবহুল সাজেক ও রুনময় রিসোর্টে রয়েছে পাঁচটি করে কক্ষ। অপর দিকে ঝারবুজ রিসোর্টে আছে চারটি কক্ষ। বুকিং দেওয়ার জন্য যোগাযোগ করতে হবে: ০১৭৮৩৯৬৯২০০, ০১৭৬৯৩০২৩৭০ নম্বরে। এ ছাড়া বেসরকারিভাবে রয়েছে আরও ১৮টি রিসোর্ট। এসবের মধ্যে নিরিবিলি রিসোর্ট ০১৮৬৬৯৫৭৭২৯ ও আলো রিসোর্টে ০১৮৬৩৬০৬৯০৬ নম্বরে বুকিং দেওয়া যায়।

যেভাবে যাবেন: রাঙামাটি জেলার মধ্যে পড়লেও সাজেকে আসতে হলে ঢাকা বা চট্টগ্রামের পর্যটকদের খাগড়াছড়ি হয়ে আসতে হবে। খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক আসতে চাইলে জিপ ভাড়া করে আসা যায়। সময় লাগবে দুই থেকে তিন ঘণ্টা। রাঙামাটি হয়ে আসতে চাইলে কাপ্তাই হ্রদ পাড়ি দিয়ে বাঘাইছড়ি সদরে আসতে হবে প্রথমে। এখান থেকে সাজেক আসতে সময় লাগে বড়জোর দুই ঘণ্টা।

রুইলুই ভ্যালিতে যেতে হলে সাজেকের বাঘাইহাটে সকাল সাড়ে দশটা অথবা বিকেল তিনটায় অবশ্যই পর্যটকদের পেঁৗছাতে হবে। দিনের এই দুই সময় সেনাবাহিনীর প্রহরায় পর্যটকবাহী গাড়িগুলো রুইলুই ভ্যালিতে আসে। বাঘাইহাট থেকে রুইলুই পর্যন্ত যেতে চোখে পড়বে জুমখেত, কমলাবাগান আর পাহাড়ের গায়ে লেগে থাকা ছোট ছোট পাহাড়ি মাচাংঘর। রুইলুইপাড়ায় লুসাই, পাংখোয়া ও ত্রিপুরাদের জীবনযাত্রা দেখার সুযোগ আছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য মানহানিকর এমন আচরণ থেকে বিরত থাকতে হেব পর্যটকদের।