খাদ্যে ভেজালকারীরা মানুষকে তিলে তিলে হত্যা করছে: নাসিম

অনলাইন ডেস্কঃ
খাদ্যে ভেজালকারীরা মানুষকে তিলে তিলে হত্যা করছে। তারা সমাজের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী। এদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত। সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘নিরাপদ খাদ্য ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে মোহাম্মদ নাসিম এ কথা বলেন। ভেজাল ও মাদকবিরোধী আন্দোলন এ বৈঠকের আয়োজন করে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত মুনাফার লোভে খাদ্যে ভেজাল দেওয়ার মাধ্যমে অগণিত মানুষকে তিলে তিলে হত্যা করছে। সবার জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, খাদ্যের মতো রাজনীতিতেও ভেজাল ঢুকে পড়েছে। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকায় আওয়ামী লীগেও ভেজাল অনুপ্রবেশ করেছে। আগামীতে সারাদেশের জেলা ও উপজেলায় যেসব সম্মেলন হবে, তাতে আওয়ামী লীগকে ভেজালমুক্ত করা হবে।

জাসদ সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, জঙ্গি দমন করা গেলে খাদ্যে ভেজাল বন্ধ করা যাবে না কেন? দেশের প্রচলিত আইনেই খাদ্যে ভেজাল বন্ধ করা যাবে। তিনি আরও বলেন, রাজনীতিতে যে ভেজাল আছে, বিএনপি-জামায়াত ও রাজাকারদের বর্জন করে রাজনীতির সেই ভেজাল বন্ধ করতে হবে।

সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ূয়া বলেন, খাদ্য ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুসারে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি মোহাম্মদ মমতাজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ভেজাল প্রদানকারীদের শাস্তি দিতে আইন আছে। সেই আইন প্রয়োগ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আ ব ম ফারুক বলেন, ১৯টি টেক্সটাইলের রঙ খাদ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ কারণে ক্যান্সার-কিডনি রোগী বাড়ছে। শিশুরা পড়ালেখায় অমনোযোগী হচ্ছে। ভেজালমুক্ত খাবার না খেতে পারলে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি মুহাম্মদ আতা উল্লাহ খানের সভাপতিত্বে আরও বক্তৃতা করেন গণআজাদী লীগের সভাপতি এস কে শিকদার, বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবুল খায়ের, কৃষিবিদ ড. মো. আলী আফজাল প্রমুখ।

সূত্রঃ সমকাল