গর্জনিয়ায় বিয়ের আসর থেকে পালালো বর ও কাজি

হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী :
বাড়িটিতে হইচই আর আনন্দ। অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর (১৩) বিয়ের আয়োজন চলছে। পুলিশ আসার পর ভেস্তে গেল বিয়ে।

গত রোববার রাত বারটার দিকে কক্সবাজারের রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের দুর্গম বড়বিল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

গর্জনিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া একই ইউনিয়নের পূর্ববোমাংখিল গ্রামের ওই মেয়েকে নিজের বাড়িতে নিয়ে বিয়ের কার্যক্রম শুরু করছিলেন গর্জনিয়া ইউনিয়নের বড়বিল গ্রামের ইয়াসিন আরাফাত (২৫)।

সময়মতো লোকজনও এসেছেন। বিয়ে সম্পন্ন করতে প্রস্তুত কাজি। হঠাৎ বিয়েবাড়িতে সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে উপস্থিত হন গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বর ও কাজি কৌশলে পালিয়ে যান। সঙ্গে সঙ্গে বরের মা’কে আটক করে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

গতকাল সোমবার দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে বরের মাকে পাঁচ হাজার টাক জরিমানা করেন রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লুৎফুর রহমান। এ সময় প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত কনেকে ছেলের বউ না করার জন্য মুছলেকা নেওয়া হয়।

গর্জনিয়া ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা তানজীদ রায়হান বলেন- সমাজে বাল্যবিবাহবিরোধী মনোভাব সৃষ্টি হয়েছে। এ জন্য যত গোপনেই বাল্যবিবাহের আয়োজন করা হোক না কেন, সেই খবর বেরিয়ে আসছে।

রামুর ইউএনও লুৎফুর রহমান আমাদের রামু ডটকম কে বলেন- পরিবারের লোকজন, বিশেষ করে মা-বাবা বাল্যবিবাহবিরোধী হলেই এ উপজেলা বাল্যবিবাহমুক্ত করা সম্ভব হবে ।