হ্রদ–পাহাড়ের রাঙামাটি

পাহাড়ের কোলে হ্রদের স্বচ্ছ জলরাশি। ঝরনার কলতান। পাহাড়চূড়ায় মেঘের খেলা। ছুটি কাটানোর স্থানটি যদি এমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা হয়, ভালো না লেগে উপায় আছে! বলছিলাম রাঙামাটির কথা। তাহলে আর দেরি কেন? এখনই ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়ুন রাঙামাটির উদ্দেশে। তবে হাতে কমপক্ষে দুই দিন রাখতে হবে।

শহর থেকে দূরে: শহর থেকে নৌপথে যাবেন সুবলং ঝরনায়। যাওয়ার পথে নদীর দুই পাড়ের সৌন্দর্য আপনাকে মুগ্ধ করবে। পাহাড়ি গ্রামগুলো মনে হবে ছবির মতো। একই পথে বেসরকারি তিনটি পর্যটন স্পট পেদাটিং টিং (পেট ভরে খাওয়া), চাং পাং (চাই পাই) ও টুক টুক ইকো ভিলেজ। ঢুঁ মারতে পারেন সেখানেও। এসব বেসরকারি পর্যটনকেন্দ্রে রয়েছে উন্নত মানের দেশ–বিদেশি খাবারের ব্যবস্থা। বনরূপা সমতা ঘাট, রিজার্ভ বাজার ও তবলছড়ি লঞ্চঘাট ও পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের ঝুলন্ত সেতু এলাকা থেকে ট্রলারে এসব পর্যটনকেন্দ্রে যাওয়া যায়। পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্স থেকে স্পিডবোটও পাওয়া যায়।

শহরে এক চক্কর: রাঙামাটি শহরে রয়েছে পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের ঝুলন্ত সেতু, বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান রাজবন বিহার ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট জাদুঘর। জাদুঘরে রয়েছে পার্বত্য জাতিগোষ্ঠীর ইতিহাস, ঐতিহ্য, কৃষ্টি-সংস্কৃতির অনেক নিদর্শন এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা, বোমাং ও মং রাজা পরিবারের ব্যবহৃত রাজকীয় পোশাক, তলোয়ার, কামান, তৈজস ও দলিল–দস্তাবেজ। এ ছাড়া শহরের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে পাহাড়িদের পরিচালিত রেস্তোরাঁ, যেখানে খেতে পারেন পাহাড়ি খাবার।

রাইন্যা টুগুন: ইকো-টুরিজমের ধারণা নিয়ে গড়ে ওঠা বেসরকারি পর্যটনকেন্দ্র রাইন্যা টুগুন। কাপ্তাই জেটিঘাট থেকে আসামবস্তি সড়ক দিয়ে সাত কিলোমিটার দূরে কাপ্তাই হ্রদের পাশে গড়ে উঠেছে রাইন্যা টুগুন। অসাধারণ এই পর্যটনকেন্দ্রে পরিবার–পরিজন নিয়ে কাটাতে পারেন একটি দিন। রাতে থাকার ব্যবস্থাও রয়েছে। দেখা মিলবে হরেক রকম পাখির। যোগাযোগ: ০১৫৫১৭০৮২৪৪

আরণ্যক রিসোর্ট: রাঙামাটি শহরের সেনানিবাস এলাকায় রয়েছে আরণ্যক রিসোর্ট। কাপ্তাই হ্রদে ঘেরা ছিমছাম পরিবেশ এ রিসোর্ট আপনাকে মুগ্ধ করবেই। রিসোর্টে থাকা–খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা কেন্দ্রটি সেনাবাহিনী দ্বারা পরিচালিত। যোগাযোগ: ০১৭৬৯৩১২০৩০

মুন্সী আবদুর রউফ স্মৃতিসৌধ: বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে যে সাতজন বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবে ভূষিত হয়েছিলেন, তাঁদের একজন ল্যান্স নায়েক মুন্সী আবদুর রউফ। রাঙামাটি শহর থেকে নৌপথে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে স্বচ্ছ জলরাশিবেষ্টিত ছোট একটি দ্বীপে রয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আবদুর রউফ স্মৃতিসৌধ। সৌধের চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটকদের বিমোহিত করে।

কীভাবে যাবেন: ঢাকা থেকে বিভিন্ন পরিবহনের বাস রাঙামাটি আসা-যাওয়া করে। অধিকাংশই নন–এসি বাস। শীতাতপনিয়ন্ত্রিত গাড়িতে আসতে চাইলে বিলাসবহুল বাসে চট্টগ্রাম এসে মাইক্রোবাসে বা রেন্ট–এ–কার নিয়ে যেতে পারেন রাঙামাটি। চট্টগ্রাম নগরের অক্সিজেন মোড় থেকে বেসরকারি পরিবহনের বাস এবং কদমতলী থেকে বিআরটিসির বাস পাওয়া যায়।

কোথায় থাকবেন: রাঙামাটি শহরে পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্স ছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন হোটেল-মোটেল। পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সে যোগাযোগ ০৩৫১-৬৩১২৬। হোটেলের মধ্যে রয়েছে হোটেল সুফিয়া ইন্টারন্যাশনাল: ০৩৫১-৬২১৪৫/০১৯৩৫১৪৭১৩৮, হোটেল প্রিন্স: ০১৭৭৫১৯৬৬৬৪, মোটেল জজ: ০৩৫১-৬৩৩৪৮/০১৯১২৭৭২৮০১, গ্রিন ক্যাসেল: ০৩৫১-৬১২০০, হোটেল সাংহাই: ০৩৫১৬১৪০২/০১৭৩০১৯৫৭৭৮।

[প্রথম আলো]