‘সংবিধানে সব জাতি গোষ্ঠীকে স্বীকৃতি দিতে হবে’

পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংখ্যালঘু জাতিগুলোর স্বাভাবিক ও জন্মগত জাতীয় পরিচয় মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। তাদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত করা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ কখনো এক জাতির দেশ নয়, এখানে অনেক জাতিসত্তা আছে। এই সত্যকে স্বীকার করে সরকারের উচিত সংবিধানে সব জাতিগোষ্ঠীর স্বীকৃতি দেওয়া।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ‘পঞ্চদশ সংশোধনী ও সংখ্যালঘু জাতিসমূহের সাংবিধানিক স্বীকৃতি’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটি চট্টগ্রাম নগরের থিয়েটার ইনস্টিটিউটে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অংগ্যা মারমার সভাপতিত্বে আলোচক হিসেবে ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক রইসুল হক বাহার, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মুহাম্মদ আমীর উদ্দিন, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল পূর্ব অঞ্চলের সভাপতি ভুলন লাল ভৌমিক ও পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘের সভাপতি সোনালী চাকমা। আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম চট্টগ্রাম মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক সুকৃতি চাকমা, সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক থুইক্যসিং মারমা।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দেশের সংখ্যালঘু জাতিগুলোকে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করার জন্য সরকার তাঁদের অস্তিত্ব অস্বীকার করছে। শাসকগোষ্ঠীর উগ্র জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির কারণে পঞ্চদশ সংশোধনীতে বাংলাদেশের সব জনগণকে জাতি হিসেবে ‘বাঙালি’ স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এতে অন্য জাতিগোষ্ঠীগুলোর স্বতন্ত্র জাতীয় পরিচয় মুছে দিয়ে তাদের ওপর কৃত্রিমভাবে বাঙালি জাতীয়তার পরিচয় আরোপ করা হয়েছে।

বক্তারা বলেন, সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক অধিকার না থাকলে কোনো জাতিগোষ্ঠীর পক্ষে এগোনো সম্ভব নয়। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো এলাকা নয়। এখানকার জনগণের সমস্যাকে পুরো বাংলাদেশের সমস্যা হিসেবে দেখতে হবে। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ভূমি সমস্যার সমাধান করতে হবে। প্রতিটি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীকে তাদের পৃথক স্বীকৃতি ও অধিকার দিতে হবে।

[প্রথম আলো]