চালিয়াতলী-মাতারবাড়ী ভাঙা সড়ক সংস্কার করা হয়নি: ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষের দূর্ভোগ

চকরিয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর চালিয়াতলী-মাতারবাড়ি সড়কের আধা কিলোমিটার অংশ এক মাসের ও বেশি সময় হলেও সংস্কার হয়নি। ফলে আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থানরত শিক্ষক, ছাত্র, ব্যবসায়ী চাকরিজীবিসহ বিভিন্ন পেশার ঘরমূখী মানুষ ভাঙ্গা সড়ক দিয়ে চলাচলে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। একই সাথে প্রতিদিন যাতায়াত করা মাতারবাড়ী ও ধলঘাট ইউনিয়নের প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ।

খানাখন্দে ভরা চালিয়াতলী-মাতারবাড়ি সংযোগ সড়কে দীর্ঘদিন থেকে অনেকটা জোঁড়াতালি দিয়ে কোন রকম যানবাহন চলাচল করলেও গত ২১ মে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর আঘাতে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে সড়কটি ভেঙ্গে যায়। সড়কের চারটি অংশে বড় ধরনের ভাঙনের সৃষ্টি হওয়ায় দূর্ভোগে পড়েছে মাতারবাড়ি ধলঘাটার লাখো মানুষ। এখনো জোয়ার ভাটা চলতে থাকায় ক্রমেই বাড়ছে ভাঙ্গনের পরিধি। মেরামতের ব্যবস্থা না নিলে আগামীতে বাড়বে মাত্রাতিরিক্ত নির্মাণ ব্যয় এমনই জানান অভিজ্ঞ মহল।

স্থানীয় লোকজন জানান, মাতারবাড়ী চেয়ারম্যান মোঃ উল্লাহ নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে বসে নেই যেখানে ইউনিয়নবাসী দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সে খানে মানুষের কষ্ট লাগবে প্রাণ প্রণে ছুটে যাচ্ছেন তিনি। সড়কটি দ্রুত সংস্কারের জন্য তিনি সাংবাদিকদের দৃষ্টি আর্কষণ করে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করতে অনুরোধ জানানোর পর দেশের গন্যমাধ্যমে তথ্যবহুল সংবাদ প্রকাশ হলেও আচঁড় লাগেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

আজ বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, চারকিলোমিটার সড়কের ধারাখাল এলাকায় প্রায় আধা কিলোমিটার অংশে হাটাঁর অবস্থা নেই। জোয়ার আসলে সড়কটি পানিতে ডুবে যাওয়ায় ঈদের ফেরা ঘরমূখি মানুষ ও স্থানীয় লোকজন অসুস্থ রোগি পার হচ্ছেন পাশের কুহোলিয়া নদীতে নৌকাযোগে। এ ছাড়া আরও এক কিলোমিটার সড়কজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত।

মাতারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ উল্লাহ আমাদের রামু ডটকমকে বলেন, সড়কের ভাঙা অংশের পারাপারে জন্য এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যাগে সাঁকো স্থাপন করেছিল। ১৬ দিন আগে সাঁকোটি ভেঙে যায়। এখন ঝুঁকি নিয়ে ঈদ উদযাপন করার লক্ষে ঘরমূখী মানুষ ও স্থানীয় লোকজন নৌকাযোগে পারাপার করছে।

তিনি আরো জানান, ভাঙা সড়ক সংস্কারের জন্য উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিতভাবে আবেদন করে ও কোন কাজ হচ্ছে না।

মাতারবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এস.এম আবু হায়দার ও দক্ষিণ রাজঘাটের বাসিন্দ্রা যুবদল নেতা হোছাইন মাসুম বলেন, উপজেলা সদরসহ চকরিয়ার বদরখালী যাওয়ার একমাত্র মাধ্যম চালিয়াতলী-মাতারবাড়ী সড়কটি। অথচ এক মাসের ও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও সড়ক সংস্কারের কোনে উদ্যোগ দেখা যাচ্ছেনা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী রিয়াদুল কুদ্দুস আমাদের রামু ডটকমকে বলেন, ভাঙা সড়কটি সংস্কারের জন্য ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ চেয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু বরাদ্দ না পাওয়ায় সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছেনা।