ঈদকে ঘিরে পোষাক তৈরীতে দর্জিরা ব্যস্ত সময় পার করছে

এ.এম হোবাইব সজীব:
ঈদকে সামনে রেখে মহাব্যস্ত এখন দর্জি বাড়ি। জনপদ কিংবা শহরের অলিগলি, ভর দুপুর হোক বা ভোর রাতে সেহেরির ফাঁকে ফাঁকে রাস্তায় হাঁটতেই কানে ভেসে আসে দর্জিদের সনাতনী সুঁই সুতার সেই চির চেনা সেলাই মেশিনের ’খর’ ’খর’ ’খর’ ’খর’ মিষ্টি আওয়াজ।

রাত দিন অবধি থেমে নেই কলের চাকা। উর্পাজনের মোক্ষম সময়ে লোহার যন্ত্রের সাথে পোষাক কর্মীরাও যেন হয়ে গেছে লৌহ মানবের মত। ”ক্লান্তি আমায় ক্ষমা করো” সমান তালে চালিয়ে যাচ্ছে দু’পা। একেতো মাস ব্যাপী কোপা আমেরিকা কাপ ফুটবলের মহারণ উপভোগের বাইক্যা ঘুম, তার উপর সারা বছরের অলসতা কাটিয়ে ঈদ পার্বনে দু’পয়সা কামিয়ে নেয়ার মহাধুম। দু’য়ে মিলে কলুর বলদের ন্যায় যারপরনাই খেটে যাচ্ছে দর্জিরা।

আসন্ন ঈদকে ঘিরে কক্সবাজারের চকরিয়ায় তথা কক্সবাজার জেলাব্যাপী পনের সহস্রাধিক দর্জি কারিগরেরা আরামের ঘুম হারাম করে র্নিঘুম মহাব্যস্ত সময় পার করছে।

জানা যায়, জেলার ৮ উপজেলা চকরিয়া, মহেশখালী, পেকুয়া, কুতুবদিয়া, উখিয়া, টেকনাফ, রামু এবং কক্সবাজার সদরের প্রত্যন্ত গ্রামগঞ্জে পনের সহস্রাধিকেরও বেশি দর্জিরা ঈদ মৌসুমে তাদের কাজ কর্ম নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে। ঈদকে সামনে রেখে ভোর থেকে গভীর রাত অবধি ব্যস্ত সময় কাটায় দর্জি দোকানের কারিগরেরা। এমনকি বড় টেবিলে কায়দা করে কাপড় বিছানো, তারপর কচ্ কচ্ করে কাঁচি চালানো এবং পাশে থাকা সেলাই মেশিনের ’খর’ ’খর’ ’খর’ ’খর’ শব্দে পুরো জেলাজুড়ে উৎসবের আওয়াজে মাতোয়ারা হয়ে উঠছে দর্জি পরিবার গুলো।

ক্রেতাদের চাহিদা মোতাবেক কিংবা অর্ডার করা পোশাক তৈরীতে মধ্য রমজান থেকে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে দর্জি সমাজ। এমতাবস্থায় দেশের অন্যান্য জেলার সাথে তাল মিলিয়ে পর্যটন নগরী কক্সবাজারও একধাপ এগিয়ে। সরেজমিনে দেখা যায়, আর মাত্র কদিন দিন পর বিশ্ব মুসলিম সমাজের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব আনন্দময় ঈদ। তাই এ আনন্দঘন ঈদকে সামনে রেখে জেলার ৮ উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের ক্রেতাদের পছন্দ মোতাবেক কাপড় তৈরীতে পনের সহস্রাধিক দর্জিদের দম ফেলানোর যেন ফুরসত নেই।

প্রতিদিনই সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দেশীয় পোষাক শ্রমিক দর্জিদের সেলাই মিশিনের আকর্ষনীয় শব্দে জেলাব্যাপী মুখরিত হয়ে উঠছে। মহা খুশির ঈদে যেমন বাড়ছে সাধারণ মানুষদের কেনাকাটা, তেমনি করে বৃৃদ্ধি পাচ্ছে দর্জিদের কর্ম ব্যস্ততা। বিভিন্ন উপজেলার হাটবাজার গুলোর অলিগলিতে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ছোট বড় টেইলার্স সহ কারখানা। এসব দর্জিদের স্থানে সারা বছর কাপড় তৈরীর প্রক্রিয়া থাকলেও ঈদ মৌসুমে তা দ্বিগুন আকারে বেড়েই গেছে। এমনকি আসন্ন ঈদ মৌসুমে দর্জিরা অধিক আয়ের আশায় রাতের সুখের ঘুম হারাম করে পোষাক তৈরীর কাজে মেতে উঠছে।

ঈদ বাজারের একাধিক টেইলার্স কিংবা কারখানায় এমনি অবস্থাই চোখে পড়ছে। চকরিয়ায়র একজন গ্রাহক তোফাইল রেজাউল করিম জানান, ছোট বেলা থেকে আমি দর্জি দোকানে শরীরের মাপ মত তৈরী করা শার্ট প্যান্ট পরি। এবারের ঈদেও তাই হবে। বদরখালী বাজারের দর্জি করিমের সাথে কথা হলে তিনি জানান, বিগত বছরের তুলনায় এবছর অর্ডার একটু বেশি। ফলে মধ্য রমজানের পর থেকে তাদের ব্যস্ততার যেন কমতি নেই। কাজের চাপের দরুন ১৫ রমজান থেকেই অর্ডার নেয়া বন্ধ করে দিতে হয়েছে।

কথা হয় কক্সবাজার শহরের একটি অভিজাত টেইর্লাসে ঈদ পোষাক বানাতে যাওয়া এনজিও সংস্থা রিক এর আঞ্চলিক কর্মকর্তা এ,বি রাজু’র সাথে। পোষাক শিল্পী দর্জিদের হালহকিকত সর্ম্পকে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি আমাদের রামু ডটকমকে জানান, আধুনিক যুগে প্লাষ্টিকের আসবাবপত্রের প্রসার ঘটে যেমন মাটির তৈরী হাঁড়ি পাতিল কিংবা এ্যালুমুনিয়ামের তৈরী বাসন কোসনের কদর কমে গেছে, ইদানিং পোষাকের জগতে গার্মেন্টেসের তৈরী পোষাকে আধুনিকতার ছোঁয়া লেগে দর্জিদেরও কদর কমে গেছে। আগেকার দিনের সেই জৌলুস এখন আর নেই। তবুও ঈদ পুজো এলে দর্জিদের কদর এটু বাড়ে বৈকি।