শান্তা মারিয়ার কবিতা

নরমেধ যজ্ঞের বলি

(শ্রীলংকা, নিউজিল্যান্ড, ফ্রান্স, গুলশানসহ বিশ্বে সংঘটিত যাবতীয় নরমেধ যজ্ঞের প্রতিবাদে)

ভীষণ বিপন্ন আমি, অসহায় খুব
তোমার কন্যাকে হনন করেছি
হত তাই আমার সন্তান।
আমার বোনের মৃত্যু
মূল্য শোধ করেছিল তোমার ভগিনী
শোধ আর প্রতিশোধ
নিরন্তর ঘৃণার প্রবাহ
নরমেধ যজ্ঞের অন্তিম বলি
যাবতীয় মানবসন্তান।
একমাত্র সভ্যরাই পারে হয়তো এমন সীমাহীন অসভ্যতা।
এরচেয়ে সুখী হবো নরমাংসভোজী হলে।
সভ্যতার ঋণশোধে
আর কত ক্রাইস্টচার্চ, কলম্বো, গুলশান, ফ্রান্স
কত আর সিমোনা মন্টি, আনা ফ্রাংক, রহিমন
হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানকে হত্যা করতে গিয়ে
মানুষ কেবল নিজেকেই হত্যা করে ক্রমাগত
পিশাচের হাতে ক্রমশ নিহত হন পরম ঈশ্বর
মৃত স্রষ্টা শুয়ে থাকে মৃত মানুষের পাশে
নররক্তপান করে হেসে ওঠে রক্তচোষা বাদুরের দল।
দোহাই সভ্যতা,
এই করতলে ঢেলে দাও কালকূট, আসুক প্রলয়।
রক্তস্রোতে ভেসে যাক যাবতীয় ক্ষেপণাস্ত্র
কূটচালী দেব নয়, জন্ম নিক সহস্র রাক্ষস
নরমাংস ভোজনের মহাযজ্ঞ হোক
অন্তিম শয়ানে যাক মৃতবত্সা সভ্যতার শেষ বংশধর।
নুহের প্লাবন হোক, দেখা দিক মত্স্যঅবতার।
আদিম অরণ্য, বিস্তৃত ফসলের ক্ষেত
লাঙলের খাত থেকে উঠে এসো নতুন মৃন্ময়ী।
মুসলমান, খ্রিস্টান, হিন্দু, বৌদ্ধ নয়
নবীনা প্রসূতি
জন্ম দাও মানবসন্তান।