সংসদে অর্থবিল-২০১৬ পাস

তৈরি পোশাকসহ বিদ্যমান কিছু খাতে কর ও শুল্ক হারের পরিবর্তনের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে অর্থবিল-২০১৬ সংশোধিত আকারে পাস করা হয়েছে।

তৈরি পোশাকসহ সব ধরনের পণ্যে রফতানিমূল্যের ওপর ১ দশমিক ৫ শতাংশ উৎসে কর আদায়ের যে প্রস্তাব অর্থমন্ত্রী করেছিলেন, তা কমিয়ে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশে নামিয়ে আনাসহ বেশ কয়েকটি সংশোধনী এনে অর্থবিল-২০১৬ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। একই সঙ্গে তথ্য-প্রযুক্তি সেবায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানের স্থান ও স্থাপনা ভাড়ার ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট পুরোপুরি অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

বুধবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন। বিলটি গত ২ জুন জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়।

২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ দুটি বিষয়সহ বেশ কিছু প্রস্তাবে পরিবর্তন আনতে অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ জানান। প্রধানমন্ত্রীর পর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত তার নিজের দেওয়া বাজেটের উপর সমাপনী বক্তৃতা শেষে বলেন, প্রধানমন্ত্রী বেশ কয়েকটি প্রস্তাব করেছেন। তার এই প্রস্তাবকে আমি অনুশাসন মনে করি, কারণ আমি তার হয়েই কাজ করি। প্রধানমন্ত্রী যেহেতু বলেছেন, তার সব প্রস্তাবই গ্রহণ হয়ে গেছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

বিলে ২০১৬ সালের ১ জুলাই থেকে শুরু অর্থবছরের জন্য আর্থিক বিধান সম্বলিত কর ও শুল্ক প্রস্তাবের জন্য কতিপয় আইন ও বিধানের সংশোধন করা হয়েছে। তাছাড়া বিলে উল্লেখিত বিধানসমূহ ২০১৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর করারও বিধান করা হয়েছে। উত্থাপিত বিলের বিভিন্ন কর প্রস্তাবের ওপর মোট ১৮টি সংশোধনী গ্রহণ করা হয়।

বিলের ওপর সরকারি দলের হুইপ শহীদুজ্জামান সরকার, গোলাম দস্তগীর গাজী, মো. শাহাবুদ্দিন, মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী, জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ, ফখরুল ইমাম, নুরুল ইসলাম মিলন, মো. নুরুল ইসলাম ওমর, বেগম নূর-ই-হাসনা লিলি চৌধুরী, মো. মামুনুর রশীদ স্বতন্ত্র সদস্য রুস্তম আলী ফরাজী বিলের ওপর জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে প্রেরণ ও সংশোধনীর প্রস্তাব আনেন। জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে প্রেরণের প্রস্তাবগুলো কন্ঠ ভোটে নাকচ হয়ে যায়।

সরকারি দলের হুইপ মো. শাহাব উদ্দিন ও শহীদুজ্জামান সরকার, সরকারি দলের গোলাম দস্তগীর গাজী ও মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর ১৮টি সংশোধনী গ্রহণ করে জাতীয় সংসদ। বাকি সংশোধনী প্রস্তাবগুলো কন্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতার সময় স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী সংসদের সভাপতিত্বে থাকলেও পরে ডেপুটি স্পিকার দায়িত্ব নেন। পরে ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিযার সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা রওশান এরশাদের উপস্থিতিতে অর্থ বিল ২০১৬ জাতীয় সংসদে পাস হয়।

বুধবার সকালে বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় সংসদের সরকার দলীয় সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরী ও বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ। পরে সংসদ নেতা শেখ হাসিনা তার বক্তৃতায় কয়েকটি প্রস্তাবে সংশোধনী আনতে বলেন।

অর্থমন্ত্রী তার সমাপনী বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশগুলো গ্রহণ করে ‘সরকারের আর্থিক প্রস্তাবাবলি কার্যকরণ এবং কতিপয় আইন সংশোধনে আনীত অর্থবিল-২০১৬’ সংসদে উত্থাপন করলে পরে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

[বাংলা ট্রিবিউন]