টেকনাফে বৈধ ব্যবসার আড়ালে চালিয়ে যাচ্ছে ইয়াবা পাচার: ধরাছোঁয়ার বাইরে ভদ্রবেশী মুখোশধারী ব্যক্তিরা

গিয়াস উদ্দিন ভুলু:
টেকনাফ উপজেলায় এক সময়ের দিন মজুর, রিক্সা চালক, পান বিক্রেতা, লবন চাষি মুরগির বিষ্টা বিক্রেতা এবং এলাকার মুখোশধারী ভদ্র লোক, সমাজ সেবকরা প্রশাসনের চোঁখকে ফাঁকি দিয়ে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে মরন নেশা ইয়াবা ব্যবসা করে রাতারাতি কোটিপতি ও বহু সম্পদের মালিক। এরা এলাকায় ভদ্রবেশী সাধারণ মানুষ ও সমাজ সেবক হিসাবে পরিচিত।

সরেজমিনে অনুসন্ধান করে তথ্য নিয়ে জানা যায়, টেকনাফ সদর ইউনিয়ন, হ্নীলা ইউনিয়ন, সাবরাং ইউনিয়নের যারা এক সময় রিক্সা চালিয়ে, পান বিক্রি করে, মুরগির বিষ্টা বিক্রি করে কষ্ট করে সংসার চালাত তারা এখন প্রশাসনের চোঁখকে ফাঁকি দিয়ে নিজস্ব ব্যবসার অন্তরালে প্রতিনিয়ত লক্ষ লক্ষ ইয়াবা পাচার করে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ বনে গেছে।

অথচ এই কৌশল অবলম্বনকারি ইয়াবা ব্যবসায়ীরা বার বার থেকে যাচ্ছে তাদের নিজস্ব ব্যবসার অন্তরালে। তাদেরকে স্ব-চোখে দেখলে মনে হবে না তারা ইয়াবা ব্যবসা করে কোটিপতি হয়েছে। তাদের চাল চলনের বেশ দেখলে মনে হয় সাধারণ একজন ভাল মানুষের মত। চিহ্নিত ভদ্রবেশধারী এই অবৈধ ব্যবসায়ীদের নামের তালিকা প্রশাসনের কাছে নেই। সেই খুশিতে তারা দিনের পর দিন এই অবৈধ মরণ নেশা ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে নির্ভয়ে।

সেই সুত্র ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে সাবরাং ইউনিয়নের পানছড়ি পাড়া এলাকায় স্থানীয়দের সুত্রে জানা যায়, পানছড়ি পাড়া অলি আহম্মদের ছেলে মো: কালাম দুয়েক বছর আগে মুরগির বিষ্টা বিক্রি করে কোন রকম সংসার চালাত। অথচ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে মুরগির বিষ্টা বিক্রেতা কালাম এখন কোটি কোটি টাকা ও বহু সম্পদের মালিক।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, প্রথম প্রথম ইয়াবা ব্যবসায় লিপ্ত হয়ে কিছু দিন যেতে না যেতেই একটি মাছের ট্রলার ক্রয় করে। সেই ট্রলারে করে মাছ ব্যবসার অন্তরালে মিয়ানমার থেকে নিয়ে আসছে ইয়াবার বড় বড় চালান।

সম্প্রতি গত ১৬ জুন টেকনাফে বিজিবি সদস্যরা বিশেষ অভিযান চালিয়ে সাবরাং ইউনিয়নের মুন্ডার ডেইল এলাকার কালামের ইয়াবা বহনকারী আবদুল করিমকে ১০ হাজার ইয়াবা সহ আটক করে। এসময় অন্য এক অভিযানে বিজিবির আরেকটি দল মুন্ডারডেইল বিচ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২ লক্ষ ৫০ হাজার মালিক বিহীন ইয়াবা উদ্ধার করে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, এই ইয়াবাগুলোর মূলহোতা হচ্ছে সাবরাং ইউনিয়নের পানছড়ি পাড়ার মুরগির বিষ্টা বিক্রেতা কালাম। তাই এলাকাবাসী মনে করেন, এসমস্ত ইয়াবা গডফাদারদেরকে আইনের আওতায় আনা না হলে এউপজেলা ইয়াবা ব্যবসা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে না। আর এসমস্ত ইয়াবা গডফাদাররা দিনের পর দিন তাদের ব্যবসা অব্যাহত রাখার জন্য বহনকারী হিসেবে টার্গেট করবে হতদরিদ্র মানুষগুলোকে।

এব্যাপারে টেকনাফ ২ বর্ডার গার্ড বিজিবি ব্যাটলিয়ন অধিনায়ক লে: কর্ণেল আবুজার আল জাহিদ আমাদের রামু ডটকমকে বলেন, বৈধ ব্যবসার আড়ালে যারা ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে, সে সমস্ত অপরাধী ও ইয়াবা ব্যবসায়ীদেরকে ধরতে বিজিবি সদস্যরা সদা তৎপর রয়েছে। কিছু কিছু অভিযানে পাচারকারীরা বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে সুকৌশলে পালিয়ে যায়।

গত ১৬ জুন সাবরাং মুন্ডারডেইল এলাকার অভিযানে ২ লক্ষ ৫০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। সে ইয়াবাগুলোর সাথে জড়িত থাকার অপরাধে সাবরাং ইউনিয়নের পানছড়ি পাড়ার কালামকে পলাতক আসামী দেখিয়ে থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে।