মাতামুহুরী তীর সংরক্ষণ প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতি: বৃষ্টিতেই ধসে গেল দেড় কোটি টাকার বাঁধ

এ.এম হোবাইব সজীব:
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার মাতামুহুরী নদীতে বন্যা প্রতিরোধে নির্মিত বাঁধ বন্যা আসার আগেই ধ্বসে পড়েছে। নির্মাণ ক্রটি এবং সিমেন্টের বদলে শুধু বালুর বস্তা দিয়ে নির্মাণের কারণে সাম্প্রতি একদিনের সামান্য বৃষ্টিতেই বাঁধটি ধ্বসে পড়তে শুরু করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এর ফলে প্রায় দেড় কোটি টাকায় নির্মিত মাতামুহুরী নদী তীর রক্ষা বাঁধের পুরোটাই পানিতে বিলীনের আশঙ্কা করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

সম্প্রতি কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সবিবুর রহমান নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। একদিনের বৃষ্টিতেই নির্মিত বাঁধের বিশাল অংশ ধ্বসে যাওয়ার স্থান স্বচক্ষে দেখতে পান। এ ব্যাপরে তিনি বলেন, ‘নির্মাণ ত্রুটির কারণে বাঁধের শেষের দিকে কিছু অংশ ধ্বসে পড়েছে। মাটি কেটে সমান করা নদী তীরের ঢালু ঠিকমতো না হওয়ায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ধ্বসে পড়া অংশ নতুন করে নির্মাণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ঠিকাদারকে।

জানা গেছে, মাতামুহুরী নদীর প্রপার কাকারা অংশের তীর রক্ষা বাঁধ (সিসি ব্লক) ধ্বসে পড়ে বিগত ২০১৫ সালের জুন মাসে। এর ফলে কাকারার সাথে চকরিয়া উপজেলার চলাচলের একমাত্র সড়কটি ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ভাঙন ঠেকাতে জরুরী ভিত্তিতে বরাদ্দ দিয়ে সিমেন্ট কংক্রিট (সি.সি) ব্লকের বদলে সিমেন্ট মিশ্রিত বালি দিয়ে কাজ শুরু করার ঘোষণা দেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু সেই জরুরি মেরামতের কাজ শুরু হয় দশমাস পর গত ফেব্রুয়ারিতে।

তীর সংরক্ষণ বাঁধে ২০ হাজারের মতো বস্তা ফেলার কথা থাকলেও সেখানে ১২ হাজারের বেশি বস্তা পাওয়া যাবে না বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ওই বাঁধ পরিদর্শন করতে আসার খবর পেয়ে তোড়জোড় করে প্রকল্পের ঠিকাদার চকরিয়া ডেভলপমেন্ট সোসাইটির কর্ণধার ফরিদুল আলম সেখানে গিয়ে ছেঁড়া বালুর বস্তাগুলো খুঁজে খুঁজে সেখানে নতুন বস্তা বসিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু সেখানে এই ধরনের বিপুল পরিমাণ বস্তা রয়েছে। সেগুলোর কী হবে তার কোন নির্দেশনা দেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড।

এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীও ঠিকাদারের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বস্তায় বালি ও সিমেন্ট মিশ্রণ যথাক্রমে ৮ঃ১। ফলে কোন কোন স্থানে হয়তো কম পড়েছে তাই বস্তা ছিঁড়ে গেছে।’

এ বিষয়ে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাহেদুল ইসলাম আমাদের রামু ডটকমকে বলেন, ‘বিষয়গুলো তো পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর ভাল করে দেখার কথা। আগামী উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় এই বিষয়টি আমি তুলে ধরবো। তিনি বলেন, সামনে বন্যা আর বন্যা আসলেই সব দায়ভার তো নিতে হয় আমাদেরকে। সুতরাং সরকারের এতগুলো টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত আমাদেরকেই করতে হবে।