প্রতিদিনের ঈদ বাজার: গাবাডিং প্যান্টের দিকে ঝুঁকছে তরূণরা

হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী:
আমাদের রামু ডটকম:

ঈদের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে কক্সবাজারে জমে উঠেছে ঈদ বাজার। সকাল থেকে গভীর রাত অবধি চলছে বেচাকেনার ধুম। অভিজাত বিপণী বিতান থেকে ফুটপাত পর্যন্ত প্রতিটি দোকানে লক্ষ্য করা যাচ্ছে উপচেপড়া ভিড়।

জেলার বিভিন্ন মার্কেটে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। মধ্যরাত পর্যন্ত বেচাকেনায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। বাহারি রঙের পোশাকে দোকানগুলোতে সাজসাজ অবস্থা।

শুক্রবার (২৪ জুন) সরেজমিনে শহরের কোরাল রীফ প্লাজা, এ-ছালাম শফিং কমপ্লেক্স, হাজেরা শফিং কমপ্লেক্স, ফজল মার্কেট, পৌরসভা মার্কেট, নিউ মার্কেট, সমবায় সুপার মার্কেট, ফিরোজা শফিং কমপ্লেক্স, আলমাছ কমপ্লেক্স সহ বেশ কিছু মার্কেট ঘুরে এ চিত্র পাওয়া যায়।

দেখা যায়, বিপনী বিতানগুলো কিশোর-কিশোরী, তরূণ-তরূণীসহ সব বয়সের মানুষের পদচারণায় মুখরিত। ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে বেচাকেনা ততই বাড়ছে। কেনাকাটা নির্বিঘেœ নেওয়া হয়েছে পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ঈদ উপলক্ষে তরূণরা এবার গাবার্ডিং ও জিন্স প্যান্টের দিকে ঝুঁকছে বেশি।

কোরাল রীফ প্লাজার সে ইয়েস দোকানের মালিক মো: ইমদাদুল হক বলেন, ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রিও বাড়ছে। এবার তরূণদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে জিন্স ও গাবাডিং প্যান্ট। প্রতিটি প্যান্ট বিক্রি হচ্ছে ৮০০-২০০০ টাকায়।

আবদুল্লাহ আল মামুন নামের এক ক্রেতা জানান, সে ইয়েস দোকান থেকে অন্যান্য দোকানের চেয়ে খুব কম দামে সুবিধামত ও পছন্দের ৫টি গাবাডিং প্যান্ট ক্রয় করেছে।

কোরাল রীফ প্লাজার মেক্সো দোকানের ম্যানেজার মোহাম্মদ ভুট্টো জানান, ঈদ উপলক্ষে দোকানগুলোতে দেশীয় পোশাকের পাশাপাশি স্থান পেয়েছে ভারতীয় পোশাক। তাঁর দোকান থেকে ভারতীয় পোষাক ভালোই বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে বিভিন্ন মার্কেটের ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে পোশাক এসেছে রাজশাহী সিল্ক, পিকে জিন্স, অ্যান্ডিকটন, সুতি ও তসর, টাপুর-টুপুর, জলনূপুর, পাঙ্খখুরি, আশিকি-২, বিপাশা বসু, তুমিলি, মেয়েদের লেহেঙ্গা, গেঞ্জিসেট, টপসেটসহ বাহারি পোশাক।

ঈদ বাজারে নারীদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন রকমের শাড়ি ও লেহেঙ্গা। জর্জেট, ধুপিয়ান সিল্কের শাড়ি পছন্দ করছেন তাঁরা। শাড়িসহ বিভিন্ন পোশাক পাওয়া যাচ্ছে ৫শ’ থেকে ৩০ হাজার টাকায়।

তরূণীদের জন্য রয়েছে থ্রিপিস, বিপাশা বসু, জান্নাত, আশিকি, পাঙ্খখুরি, চেন্নাই, সোনাক্ষী, তুমিলি, ছানছান, ছাম্মাক ছালো, উলালা, ঝিলিক-২, খুশি, আনারকলিসহ বিভিন্ন বাহারি পোশাক।

বাচ্চাদের শার্ট-প্যান্ট পাওয়া যাচ্ছে ৬০ থেকে ২ হাজার টাকায়।
ব্যবসায়ীরা বলেন, ঈদের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে ততই জমে ওঠছে বেচাকেনা। এখন দম ফেলার ফুসরত নেই। সব মার্কেটে একই চিত্র।

কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটির আইন বিভাগের ছাত্র হাসান আল মামুন জানান, এবার মার্কেটগুলোতে ভালো মানের পোশাক এসেছে। তবে দাম বেশি হলেও পছন্দমতো পোশাক পাওয়া যাচ্ছে।

বাবা-মার সঙ্গে কেনাকাটা করতে আসা ৭ বছরের শিশু সিনহা ইসলাম বলে, জামা কিনতে এসেছি। নিজেরটা শেষ করে বোনেরটাও কিনবো।

ব্যবসায়ী জিয়া জানান, ঈদের বাজার জমে উঠেছে। বেচাকেনা বেশ ভালো। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে বেচাকেনা।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি মো.আসলাম হোসেন আমাদের রামু ডটকমকে বলেন, শহরের মার্কেটগুলোতে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রেখেছে পুলিশ। যেকোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সাদা পোশাকে প্রতিটি মোড়ে পুরুষ ও নারী সদস্যরা তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করছে।