রমজানে ইবাদতের ফজিলত

মোহাম্মদ নঈমুদ্দীন :

রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস মাহে রমজানকে এবাদতের মাসও বলা হয়। এমাসে দিনে রাতে যত বেশি ইবাদত বন্দেগি করা যায় তত বেশি সওয়াব লাভ করা যায়।

এজন্য এই রমজান মাসে ফরজ নামাজের পাশাপাশি সুন্নত ও নফল নামাজে যত্নবান হওয়া দরকার। কোরআন তেলাওয়াত, দান সদকাসহ সব ভাল কাজই রোজার এবাদতে পরিগণিত হবে।

এই মাস অন্য সব মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। রমজান হল সেই মাস যে মাসে মহান আল্লাহ তা’আলা নিজেই মুমিনদের ভাল কাজের প্রতিদান বাড়িয়ে দেন এবং মুমিনদের ক্ষমা করে থাকেন।

হযরত আবু হুরাইরাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, প্রত্যেক আদম সন্তান ভাল কাজের প্রতিদান দশ থেকে সাতশ’ গুণ বেশি পাবে। রোজা আল্লাহর জন্য। আল্লাহ নিজেই এর প্রতিদান দেবেন। (মুসলিম–২৭০৭)

ভাল কাজ বলতে কোরআন তেলাওয়াত, দান-সদকা, জিকির আসকার, এবাদত বন্দেগি ইত্যাদি বোঝায়। রোজা রেখে যদি কেউ ভাল কাজ করেন আল্লাহ পাক তার এই উত্তম কাজের প্রতিদান নিজেই দান করবেন।

মাহে রমজান আসার সঙ্গে সঙ্গেই প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) বেশি মাত্রায় এবাদতে মগ্ন হয়ে যেতেন। সাহাবাগণও তাঁকে অনুসরণ করতেন।

উম্মুল মুমেনিন আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন রমজান মাস আসতো, তখনই রাসুলুল্লাহ (সা.) আল্লাহ পাকের এবাদতের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত ও তৎপর হয়ে যেতেন। আর গোটা মাসেই নিজের বিছানা মোবারকের ওপর তাশরীফ আনতেন না। (দুররে মানসুর, ১ম খণ্ড, ৪৪৯পৃষ্ঠা)।

মাহে রমজানে বান্দার উচিত আল্লাহর দরবারে খালেছ নিয়তে এবাদত করা। আল্লাহর ভয় অন্তরে জাগ্রত করে যত বেশি কান্নাকাটি করা যায়, দোয়া করা যায়, ততই উত্তম।

আরেক হাদিসে আছে, উম্মুল মুমেনিন আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন, যখন রমজানের আগমন হতো, তখন প্রিয়নবী (সা.) এর রং মুবারক পরিবর্তন হয়ে যেতো। আর তিনি বেশি নামাজ পড়তেন, খুব কান্নাকাটি করে দোয়া করতেন এবং আল্লাহর ভয় তাঁকে আচ্ছন্ন করতো। (শুয়াবুল ঈমান, ৩য় খণ্ড, ৩১০ পৃষ্ঠা)।

মাহে রমজানে রোজা রেখে সবসময় আল্লাহ পাকের জিকির করা এবং তাঁর হাবিবের প্রতি দরুদ পাঠ করা এবাদত।

আমিরুল মুমেনিন হযরত ওমর ফারুক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেন, জাকেরুল্লাহে ফি রামাদানা ইয়্যুগফেরুলাহু ওয়া সায়েলুল্লাহে ফী’হে লা ইয়াখিবু। অর্থাৎ- রমজান মাসে আল্লাহ তা’আলার জিকিরকারীকে ক্ষমা করা হয় এবং আল্লাহ তা’আলার দরবারে প্রার্থণাকারী বঞ্চিত হন না। (শুয়াবুল ঈমান, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩১১)।

প্রকৃতপক্ষে তারা অনেক বেশি সৌভাগ্যবান যারা এই রমজান মাস পেয়ে রোজা রেখে আল্লাহর এবাদতে মগ্ন থাকেন।

বরকতময় এ মাসে যে ব্যক্তি প্রত্যেকটি রোজা, প্রত্যেক রাকাত নামাজ সঠিকভাবে আদায় করেন তার জন্য রয়েছে হাজারগুণের চেয়েও বেশি সওয়াব। তিনিই আল্লাহর মকবুল বান্দা। তার জন্য দুনিয়ায় কল্যাণ এবং পরকালে মুক্তি রয়েছে। তিনিই আল্লাহ পাক ও তাঁর প্রিয় হাবিবের দিদার লাভে সক্ষম হবেন।

হযরত ইব্রাহিম নাখই (রা.) বলেন, রমজান মাসে একদিন রোজা রাখা অন্যসময়ে এক হাজার রোজা রাখার চেয়ে উত্তম। রমজান মাসে একবার তসবিহ পাঠ করা এবং এক রাকাত নামাজ পড়া অন্য মাসে একহাজার বার তাসবিহ পাঠ ও একহাজার রাকাত নামাজ পড়ার চেয়েও উত্তম। (দুররে মানসুর, ১ম খণ্ড, ৪৫৪ পৃষ্ঠা)।