সরকারি নির্দেশ উপেক্ষা করে লবণ পরিবহন: কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুর্ঘটনা বাড়ছে

এ.এম হোবাইব সজীব:
কক্সবাজার জেলার উপকূলীয় এলাকা সদরের ঈদগাহ, টেকনাফ, চকরিয়া, পেকুয়াসহ মহেশখালী উপজেলাতে পুরোদমে লবন উৎপাদনের পর পরিবহন ও শুরু হয়েছে। জানা গেছে, মারাত্মক ব্যাপার হচ্ছে উপকূলীয় এলাকা থেকে লবন পরিবহনে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সরকারী নির্দেশনা চরমভাবে লঙ্গন করা হচ্ছে।

কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে লবণ পরিবহনে দুর্ঘটনা বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে কক্সবাজার সদর, টেকনাফ, চকরিয়া, পেকুয়াসহ মহেশখালী উপজেলা প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কোন তৎপরতা দেখা যাচ্ছেনা। লবণ বোঝাই ট্রাকে আবশ্যিকভাবে পলিথিন বা ত্রিপল ব্যবহার, যত্রযত্র ডাম্পিং এবং প্রধান সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে লবণ লোড না করার কঠোর নির্দেশনা থাকলেও উক্ত উপজেলা সমূহে তা মোঠেও মানা হচ্ছেনা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রধান সড়কে ট্রাক দাঁড় করিয়ে লবণ বোঝাই করা হচ্ছে। এতে লবনের পানি পড়ে সড়ক পিচ্ছিল হয়ে দুর্ঘটনা ঘটছে। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়ক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

তাছাড়া যত্রতত্র ডাম্পি এবং প্রধান সড়কে দাঁড়িয়ে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে ট্রাকে লবণ লোড করায় জনভোগান্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। ট্রাকে লবণ বোঝাই করার জন্য লোডিং পয়েন্ট নির্ধারণ করাসহ বিষয় গুলো নিয়ে উপকুলীয় উপজেলায় আইনশৃংখলা বিষয়ক একাধিক সভায় গুরুত্ব সহকারে আলোচনা এবং সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও রহস্যজনক কারণে তা বাস্তাবায়িত হচ্ছেনা।

ফলে এক দিকে সরকারি নির্দেশনার চরম লঙ্গন হচ্ছে। অন্যদিকে ক্ষতির মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। একটি জরিপে দেখা গেছে প্রতি মাসে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৪/৫ টি দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে অকালে জরে যাচ্ছে অনেক মানুষের তাজা প্রাণ।

জানা যায়, কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় জেনারেল সেকশন থেকে স্মারক নং ০৫,২০,২২০০,১১০,০৬,০১৪,১২,-৩৯ মূলে এতদসংক্রান্ত একটি চিটি ইস্যু করা হয়েছিল। এতে বলা হয়েছিল , লবণ পরিবহনের সময় গাড়িতে পলিথিন/ ত্রিপল ব্যবহার এবং ডাম্পিং না করা বাধ্যধাতামুলক। কিন্তু তা পালিত হচ্ছে না। পলিথিন ও ত্রিপল বিহীন লবণবাহী এসব ট্রাক থেকে নির্গত পানি পড়ে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে দুর্ঘটনা ঘটছে এবং রাস্তার কাপোটিংসহ রাস্তা সমূহের সাধিত হচ্ছে।

তবে অপরিকল্পিতভাবে লবণ বোঝোইয়ের কারণে কক্সবাজার -চট্টগ্রাম মহাসড়ক সিক্ত হচ্ছে। তাই এব্যাপারে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সচেতন মহল জেলা প্রশাসনের কাছে দাবি জানান।