সৌদিতে নারী অধিকার কর্মীদের বিচার শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
সৌদি আরব দেশটির নারী অধিকার কর্মীদের বিচার শুরু করেছে। নয় মাস আগে দেশটির যে দশজন নারী অধিকার কর্মীকে গ্রেফতার করা হয় বুধবার থেকে তাদের বিচারের প্রক্রিয়া শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। আর অধিকার কর্মীদের এমন বিচারের মুখোমুখি করায় দেশটির মানবাধিকার পরিস্থিতির রেকর্ড প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

সম্প্রতি তুরস্কে অবস্থিত সৌদি আরবের কনসল্যুটে ওয়াশিংটন পোস্টের কলাম লেখক জামাল খাশোগিকে নৃশংসভাবে হত্যার পর এমনিতেই মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক নিন্দার মুখে পড়েছে দেশটি। তার ওপর নতুন করে নারী অধিকার কর্মীদের বিচার শুরু দেশটির মানাবাধিকার পরিস্থিতির অবনতির ইঙ্গিত দেয়।

বুধবার দেশটির রাজধানী রিয়াদের একটি অপরাধ বিষয়ক আদালতে নয় মাস আগে গ্রেফতার ১০ নারী অধিকার কর্মীর বিচারের কাজ শুরু করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। আদালতের সভাপতি ইব্রাহিম আলসায়ারি বলেন, আদালতে অভিযুক্তদের হাজির করা হয়েছে।

নারী অধিকারের প্রচার চালানোর অভিযোগে গত বছর মে মাসে যেসব কর্মীকে আটক করা হয় তাদের মধ্যে বিশিষ্ট কয়েকজন নারী কর্মীও আছেন। তাদের মুক্তির জন্য বিশ্বব্যাপী দাবিও উঠেছে। তবে উল্লেখ করার মতো বিষয় হলো আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

যেসব নারীকে বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন লওয়াজিন আল হাথালোউল, আজিজা আল ইউসুফ, ইমান আল নাফজান ও হাথুন আল ফাসি। গত সপ্তাহে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে ৩০ টিরও বেশি দেশ ওই নারী অধিকারকর্মীদের আটক করার জন্য সৌদি আরবের সমালোচনা করেছে।

এসব নারী অধিকার কর্মীকে যখন গ্রেফতার করা হয় তখন দেশটির পক্ষ থেকে তাদের আটকের সরকারি কৌঁসুলি বলেন, গ্রেফতার পাঁচ পুরুষ ও চার নারী সৌদি আরবের মর্যাদা ক্ষুন্ন করেছে। তারা তারা দেশের বাইরে থাকা বিরোধীদের সহায়তা করেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম গ্রেফতার সেসব অধিকার কর্মীকে ‘দেশদ্রোহী’ ও বিদেশি দূতাবাসের এজেন্ট বলে অভিহিত করে।

আদালতে হাজির করার আগে তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ আনা হয়েছে কি না সে সম্পর্কে কিছু জানায়নি দেশটির সরকারি কৌঁসুলি। তবে এসব নারী অধিকার কর্মী সৌদি আরবের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও জাতীয় ঐক্য ক্ষুন্ন করতে জোর প্রচেষ্টা চালিয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।’

নারী অধিকারের দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি এখন সৌদি আরবে। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি লিঙ্গ সমতা বিষয়ক তালিকায় সবার উপরে আছে সৌদি আরবের নাম।

সৌদি আরবে এখনো আদিম পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নারীদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। শারীরিক নির্যাতনের ঘটনাসহ নানারকম নির্যাতনের মুখে সৌদি তরুণীরা দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করছে। বাবা এমনকি ছোট ভাইয়ের দ্বারা শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন দেশটির নারীরা।