অভিজিতের পর চার্জশিট হচ্ছে জুলহাজ-তনয় হত্যা মামলার

অনলাইন ডেস্কঃ
বিজ্ঞানমনস্ক লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিলের পর এবার জুলহাজ মান্নান ও তার বন্ধু নাট্যকর্মী মাহবুব তনয়ের হত্যার ঘটনায়ও অভিযোগপত্র দাখিল করছে পুলিশ। এতে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের (সাবেক আনসারুল্লাহ বাংলা টিম-এবিটি) অন্তত ১৩ দুর্ধর্ষ জঙ্গিকে আসামি করা হচ্ছে। এরই মধ্যে জুলহাজ-তনয় হত্যা মামলার তদন্ত প্রায় শেষ করেছে তদন্ত সংস্থা কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)। ২০১৬ সালের ৫ এপ্রিল কলাবাগানের উত্তর ধানমণ্ডির ৩৫ নম্বর বাসায় ঢুকে কুপিয়ে হত্যা করা হয় তাদের। দু’জনই সমকামীদের অধিকার নিয়ে কাজ করতেন। দেশ-বিদেশে চাঞ্চল্য সৃষ্টিকারী এ ঘটনার তিন বছর পূর্তি হচ্ছে আগামী ৫ এপ্রিল। তিন বছর পূর্ণ হওয়ার আগে এ মামলায় চার্জশিট দাখিল করতে চায় পুলিশ। সিটিটিসির দায়িত্বশীল সূত্র থেকে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

সিটিটিসির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সমকালকে জানান, তদন্তে উঠে এসেছে চারটি ধাপে ভাগ হয়ে আনসার আল ইসলামের সদস্যরা জুলহাজ মান্নান ও মাহবুব তনয়কে হত্যা করেছে। তা হলো- ইন্টেলিজেন্স, অপারেশনাল, রেকি ও ট্রেনিং গ্রুপ। এ ঘটনায় সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছিল ৫ দুর্ধর্ষ জঙ্গি। ইন্টেলিজেন্স গ্রুপে ছিল ৪ জন ও ট্রেনিং ও রেকিতে ছিল আরও ৪ জন। এরই মধ্যে পুলিশ জুলহাজ মান্নান ও মাহবুব তনয় হত্যার ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে। তারা হলো- সায়মন, আব্দুল্লাহ ওরফে জুবায়ের, আরাফাত ও আসাদুল্লাহ ওরফে ফয়জুল ফয়সাল। তারা চারজনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। বর্তমানে কারাগারে রয়েছে তারা।

গ্রেফতারদের মধ্যে সায়মনও রেকিতে ছিল।

তদন্ত সূত্র বলছে, মূলত সমকামীদের অধিকার নিয়ে কাজ করায় টার্গেট করা হয় জুলহাজ ও মাহবুব তনয়কে। ওই অপারেশনে আনসার আল ইসলামের সেকেন্ড ইন কমান্ড সেলিম ওরফে ইকবাল ও জুবায়ের সরাসরি সম্পৃক্ত ছিল।

তদন্তকারী সূত্র আরও জানায়, এবিটির ইন্টেলিজেন্স শাখায় দীর্ঘদিন কাজ করত জুবায়ের। ২০১২ সালে সে আকিব বিন শাহরিয়ারের মাধ্যমে জঙ্গি সংগঠনে যোগদানের দাওয়াত পায়। এরপর ২০১৩ সালে ফেব্রুয়ারিতে সংগঠনে যোগ দেয় সে। জুলহাজ মান্নান ও মাহবুব তনয় হত্যা অপারেশনে বাড্ডায় একটি ঘটনায় পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া অস্ত্রও ব্যবহার করা হয়। চলতি বছরের শুরুতে জঙ্গি আসাদুল্লাহকে গ্রেফতারের পর সেই অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি অভিজিৎ হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিলের আবেদন করে পুলিশ। শেষ পর্যন্ত গত রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অনুমতি পাওয়ার পর সোমবার ৬ জঙ্গিকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে সিটিটিসি।

সূত্রঃ সমকাল