আন্তরিকতা থাকলে দু’দেশে বসেই সমস্যার সমাধান সম্ভব

অনলাইন ডেস্কঃ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আন্তরিকতা থাকলে দু’দেশে (বাংলাদেশ-ভারত) বসে অনেক সমস্যাই শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করা যায়। আমরা তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছি। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত সমস্যা, ছিটমহল ও সমুদ্র সীমার সমাধান করেছি।

তিনি বলেন, ব্লু ইকোনমি ও মেরিটাইম, পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার, মহাকাশ গবেষণা, ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ রফতানি, সাইবার সিকিউরিটি প্রভৃতি খাতে উভয় দেশ সহযোগিতার হাত সম্প্রসারিত করেছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতেও এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

সোমবার (১১ মার্চ) দু’দেশের দুই প্রধানমন্ত্রী (শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি) নিজ নিজ রাজধানী থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্প উদ্বোধন করেন। গণভবন থেকে বক্তৃতাকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক, বহুপাক্ষিক সহযোগিতার মাধ্যমে আমাদের এ অঞ্চল ও এর বাইরে সন্ত্রাসবাদ দূর করতে আমরা বদ্ধপরিকর। বাংলাদেশ সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের প্রতি ‘শূন্য সহনশীলতা’র নীতি পোষণ করে। কোনো সন্ত্রাসবাদী সংগঠনকে কখনই বাংলাদেশের মাটিতে আশ্রয় দেয়া হবে না।

টানা তৃতীয়বারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে শেখ হাসিনার এটাই প্রথম ভিডিও কনফারেন্স। নির্বাচনে বিজয় হওয়ার পর অভিনন্দন জানানোর জন্য মোদিকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, দ্বিতীয় লাইন অব ক্রেডিটের (এলওসি) আওতায় ভারত থেকে দোতলা বাস, একতলা এসি ও নন-এসি বাস এবং ট্রাক আমদানি; ভারতীয় আর্থিক অনুদানে পাঁচ জেলায় (জামালপুর, শেরপুর, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া) ৩৬টি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন; ভারতীয় অনুদানে বরিশাল বিভাগের পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়ায় ১১টি পানি শোধনাগার স্থাপন এবং সার্কভুক্ত দেশগুলোতে ভারতের ন্যাশনাল নলেজ নেটওয়ার্ক (এনকেএন) সম্প্রসারণের আওতায় বাংলাদেশে ওই নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনে অংশগ্রহণ করতে পেরে আমি (শেখ হাসিনা) অত্যন্ত আনন্দিত।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে, এলওসির আওতায় ৬০০ বাস (৩০০ দোতলা বাস, ২০০ একতলা এসি বাস এবং ১০০ একতলা নন-এসি বাস) এবং ৫০০ ট্রাক (৩৫০টি ১৬-টন ট্রাক এবং ১৫০টি ১০-টন ট্রাক) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনের বহরে যুক্ত হতে যাচ্ছে। আশা করি, এর ফলে বাংলাদেশের যাত্রীসাধারণের দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব হবে এবং আমাদের মহাসড়কগুলোর যানজট খানিকটা হলেও নিয়ন্ত্রণে আসবে।’

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ডকুমেন্টারি হেরিটেজে যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে স্থান পেয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের জনগণ ও সরকারের অপরিসীম অবদানের কথা আমরা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করি। আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তা এক চিরন্তন মাইলফলক হয়ে থাকবে।

বাংলাদেশের পাঁচ জেলায় ৩৬টি কমিউনিটি ক্লিনিক এবং ভান্ডারিয়ায় ১১টি পানি শোধনাগার ভারতীয় অনুদানে নির্মাণ করায় ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে সারাদেশে প্রায় ১৪ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হচ্ছে। সরকারের স্বাস্থ্যখাতে গৃহীত কার্যক্রমের মধ্যে অন্যতম সফল এ কার্যক্রম অনুন্নত অঞ্চলগুলোতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, পরিবারকল্যাণ ও জনগণের সুষম পুষ্টি নিশ্চিতকরণে ইতিবাচক অবদান রাখছে।

সবশেষে ভবিষ্যতে যৌথ সহযোগিতার মাধ্যমে এ ধরনের আরও বহু প্রকল্পের সাফল্যজনক সমাপ্তি উদযাপনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।