টেইলরের সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশের হতাশার সকাল

ক্রীড়া ডেস্কঃ
দিনের তখন কেবলই শুরু। রস টেইলরের ব্যাটে তখনও জড়তা। আবু জায়েদের তিন বলের মধ্যে ক্যাচ দিলেন দুবার। বাংলাদেশ নিতে পারল না একটিও। সেই আক্ষেপ আর পুষিয়ে দেওয়া যায়নি, বরং ক্রমেই বেড়েছে সময়ের সঙ্গে। কিছুটা নিজেদের ব্যর্থতা, কিছুটা ভাগ্যকে পাশে না পাওয়া আর অনেকটা টেইলর ও কেন উইলিয়ামসনের দুর্দান্ত ব্যাটিং, সব মিলিয়ে আশা নিয়ে শুরু সকালে বাংলাদেশ কেবলই পেয়েছে হতাশা।

মারকাটারি ব্যাটিংয়ে টেইলর করেছেন ১৮তম টেস্ট সেঞ্চুরি। উইলিয়ামসনের সঙ্গে রেকর্ড গড়া জুটিতে রান এসেছে ওয়ানডের গতিতে। ওয়েলিংটন টেস্টের চতুর্থ দিন লাঞ্চের সময় নিউ জিল্যান্ডের রান ৩ উইকেটে ১৯৮।

১০৫ বলে ৭৪ করে আউট হয়েছেন উইলিয়ামসন। টেইলর খেলছেন ১০৭ বলে ১০৯ রানে। সোমবার সকালের এই সেশনে ৩২.৪ ওভারে কিউইরা তুলেছে ১৬০ রান!

বৃষ্টিতে প্রথম দুই দিন ভেসে যাওয়ার পর তৃতীয় দিনে বাংলাদেশ ১ম ইনিংসে গুটিয়ে গিয়েছিল ২১১ রানে।

আগের দিন বিকেলে দুর্দান্ত বোলিংয়ে নিউ জিল্যান্ডের দুই ওপেনারকে ফিরিয়েছিলেন আবু জায়েদ। এ দিনের শুরুটাও হতে পারত দারুণ। ১৮ রান নিয়ে দিন শুরু করা টেইলর আর ১ রান যোগ করেই সুযোগ দিলেন দুইবার। কাভারে আপাত সহজ ক্যাচটি নিতে পারলেন না মাহমুদউল্লাহ। এক বল পর দ্বিতীয় স্লিপ থেকে বাঁয়ে ঝাঁপিয়ে ক্যাচ নিতে পারলেন না সাদমান ইসলাম।

তিন বলের মধ্যে দুবার জীবন পেয়ে টেইলর আবু জায়েদের পরের ওভারেই তিন বলের মধ্যে মারলেন দুটি বাউন্ডারি। সেই যে ছুটতে শুরু করলেন, তাকে আর থামানো যায়নি।

পেছন থেকে এগিয়ে অবশ্য আগে ফিফটি করেছিলেন উইলিয়ামসন, ৬৭ বলে। খানিক পর টেইলর ফিফটি পেয়ে যান ৬১ বলে।

ফিফটির পরপর আরেকটি সুযোগমতো দিয়েছিলেন টেইলর। বোলার সেই আবু জায়েদ। তার কাট শটে বল উড়ে গেছে কিপার ও প্রথম স্লিপের মাঝ দিয়ে। লাফিয়েও হাত ছোঁয়াতে পারেননি কিপার লিটন। সেখান থেকে টেইলর ছুটেছেন ঝড়ের গতিতে। ফিফটি থেকে সেঞ্চুরিতে যেতে লেগেছে কেবল ৩৬ বল!

টেইলের সেঞ্চুরির আগেই অবশ্য আউট হয়েছেন উইলিয়ামসন। বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামকে বেরিয়ে এসে ছক্কা মারার পরের বলে দিয়েছেন ফিরতি ক্যাচ। সেশনে বাংলাদেশের একমাত্র প্রাপ্তি। কিন্তু তার আগে দুজন মিলে গুঁড়িয়েছেন বাংলাদেশের বোলিং।

ক্যাচের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি কয়েকবার অস্বস্তিতে পড়েছেন দুজন। বল ব্যাটের কানা নিয়েছে কয়েকবার। তাতে দমে যাননি দুজন, রান বাড়িয়েছেন দ্রুত। দুজনের ১৭২ রানের জুটি এসেছে ১৮৬ বলে।

দুজনের একসঙ্গে এটি অষ্টম শতরানের জুটি, নিউ জিল্যান্ডের সর্বোচ্চ। পেছনে পড়েছে টম ল্যাথামের সঙ্গে উইলিয়ামসের সাত সেঞ্চুরি জুটি। নিউ জিল্যান্ডের প্রথম জুটি হিসেবে দুজনের জুটির রান ছুঁয়েছে তিন হাজার।

উইলিয়ামসনের বিদায়ের পরপর তাইজুলকে গ্যালারিতে আছড়ে ফেলে টেইলর সেঞ্চুরি ছুঁয়েছেন ৯৭ বলে। তার ইনিংসই যেন বাংলাদেশের হতাশার বিজ্ঞাপন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: (চতুর্থ দিন লাঞ্চ পর্যন্ত)

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ২১১

নিউ জিল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৪৫ ওভারে ১৯৮/৩ (আগের দিন ৩৮/২) (উইলিয়ামসন ৭৪, টেইলর ১০৩*, নিকোলস ৯*; আবু জায়েদ ১২-২-৫২-২, ইবাদত ১১-২-৪৫-০, মুস্তাফিজ ৯-২-৩৪-০, সৌম্য ৬-০-৩৫-০, তাইজুল ৭-০-২৭-১)।