চকরিয়ায় জমে উঠেছে ঈদ বাজার: শপিং মলগুলোতে তিল ধারণের ঠাঁই নেই

এ.এম হোবাইব সজীব:
ঘনিয়ে আসছে মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব মহাখুশীর ঈদ। কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর শহরের ব্যস্ততম বাণিজ্যক এলাকার মার্কেট ঈদের কেনাকেটা করতে আসা মানুষের প্রচন্ড ভীড় লক্ষ্য করা গেছে।

মার্কেট গুলোতে তিল ধারনের ঠাঁই নেই। সকাল থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় ফুটপাথ থেকে শুরু করে অভিজাত মার্কেট গুলোতে।

রমযানের শুরুর আগ থেকে ক্রেতারা কেনাকাটার জন্য ব্যস্ত হয়ে যান। সোমাবার পবিত্র রমযান ১৪ টি অতিবাহিত হয়েছে।

চকরিয়ার পৌর শহরের ঈদ বাজারের নানা পন্যের সমাহার তৈরি করা হয়েছে। কেনা কাটা সারতে মহিলাদের ব্যস্ততা বেশি। প্রবাসীর স্ত্রীরা কেনাকাটায় চিরিংগা বাজারের ঈদ বাজারকে প্রানবন্ত করে তুলেছে।

তরুণীরা ঝুকছে ভারতীয় বেশ কিছু আইটেমের দিকে। লেহেঙ্গা, রশমি, নির্জ্ব, পাখি, দুপাট্টা, শেরওয়ানী, তুমি আসবে বলে, পাকিস্তানি কোটি, কিরনমালা, পাতাবালি তরুনীদেরকে আকৃষ্ট করেছে।

তবে গত বছরের মত কিরনমালার মাতামাতি একটু স্লান হয়েছে। প্রবাসীরা বিদেশ থেকে অর্থ উপার্জন করে। তাদের হাতে টাকা পয়সার অভাব নেই। তাই তাদের স্ত্রী ও কন্য সন্তানরা ঈদ বাজারে কেনাকাটা আগে থেকে সামিল হয়েছে।

চকরিয়ায় মার্কেট গুলোতে পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে লোকজন কেনাকেটা করতে আসায় প্রতিবছর অর্থনীতিতে চাঙ্গাভাব থাকে এখানে। পুরানো আইটেম বাদ দিয়ে এখন শপিং মলগুলোতে আপডেট পোশাক শোভা পাচ্ছে। তরুণরা ঝুকছেন গেঞ্জি, পাঞ্জাবি, ফতোয়া, জিনস প্যান্ট এর দিকে। কিশোর ও শিশুদের পোশাক হাত বাড়ালে পাওয়া যায়।

ঈদ কেনাকেটার জন্য মার্কেটগুলো সম্প্রসারিত হচ্ছে। হকার মার্কেটও জমে উঠেছে জমজমাট ঈদ বাজার। গ্রামীন সভ্যতাতে এখনো লুঙ্গির কদর সবচেয়ে বেশি। ঈদ কেনাকাটায় লুঙ্গির বিকিকিনি বেশি। যুবক, কিশোর ও বয়স্করা ঈদের দিন নতুন লুঙ্গি ও পোশাক পরিধান করে।

মার্কেটগুলোতে গৃহবধুরা ভীড় জমাচ্ছে। তাদের পছন্দের হচ্ছে শাড়ী। রং বেরঙ্গের দেশীয় শাড়ি কিনছে তারা। কাবিরি, পার্টির শাড়ি, কাতান শাড়ি, জর্জেট, ষ্টোন, পাকিস্তানি, ইন্ডিয়ানী, চোখের তারাসহ বিভিন্ন নামের শাড়ির কদর বেড়েছে এবারে ঈদ বাজারে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, পৌর শহরের চিরিগা নিউ মাকেট, আনোয়ারা শপিং, মসজিদ মাকের্ট, রূপালী শপিং কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন নামী দামি মার্কেটে সব ধরনের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে ক্রেতাদের চাহিদা মত।

সব বয়সের নারী, পুরুষ ও শিশুদের পাদুকা পাওয়া যাচ্ছে আর এক্স, ডাটা বাজার, বাটা শো-রুম, এপেক্স শো-রুমে।

ঈদে ক্রোকারিজ দোকানগুলোতে কেনাকাটার ভীড় জমেছে। জুয়েলারী দোকান গুলোতেও মহিলারা কেনাকাটা করছে।

ক্রেতাদের স্বাছন্দের সাথে ঈদের কেনাকাটা করতে চিরিংগা মার্কেট গুলোতে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। চুরি ছিনতাইসহ সকল ধরনের অপরাধ রোধে পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি- স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও তাদের মার্কেট গুলোতে নিজস্ব নিরাপত্তা কর্মী নিয়োজিত করছেন।