নাইক্ষ্যংছড়িতে থানায় ইয়াবা গিলে গৃহবধুর মৃত্যু হল হাসপাতালে

হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী :
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে পুলিশকে ফাঁকি দিতে ইয়াব গিলে মৃত্যুর শিকার হয়েছে নুরুচ্ছফা বেগম (৪৫) নামে এক ইয়াবা পাচারকারী। গত রোববার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে।

গৃহবধু নুরুচ্ছফা বেগম নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের মহাজনঘোনা পাড়ার দিনমজুর সলিমুল্লাহর স্ত্রী। এলাকার সবাই তাকে ‘ইয়াবা বেগম’ হিসেবেই চেনেন।

পুলিশের ধারণা, অতিরিক্ত ইয়াবা গিলে ফেলার কারণে শরীরে মারাত্মক বিষক্রিয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার রাতে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) বৃঞ্চ এর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল মহাজনঘোনা এলাকায় অভিযান শুরু করে।

index

এ সময় স্থানীয় সলিমুল্লাহর স্ত্রী নুরুচ্ছফা (৪৫) ঘর থেকে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। পুলিশ ধাওয়া করে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসার পথে নুরুচ্ছফার শরীরের গোপন স্থানে থাকা বেশ কিছু ইয়াবার বড়ি খেয়ে ফেলে। পরে বিষক্রিয়ায় কক্সবাজার হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের আমাদের রামু ডটকমকে জানান, ইয়াবা রাখার অভিযোগে উপজেলা সদরের বিছামারা থেকে রোববার রাতে নুরুচ্ছফা বেগম নামের ওই ইয়াবা পাচারকারী মহিলাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। এর পর নারী কনষ্টেবল সাবিনা আফরিন তাঁর দেহ তল্লাসি চালিয়ে পলিথিন মোড়ানো ৭ পিচ ইয়াবা উদ্ধার করে। কিন্তু এর পর সে অসুস্থবোধ করলে তাৎক্ষণিক তাকে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়।

পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিতে বলেন। তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে সোমবার দিবাগত রাত ৩টায় সে মারা যায়। নুরুচ্ছফা বেগমের বিরুদ্ধে ইয়াবা পাচার আইনে থানায় মামলা রয়েছে বলে জানান ওসি আবুল খায়ের।

নাইক্ষ্যংছড়ি থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার মো. মুবিনুল হক চৌধুরী আমাদের রামু ডটকমকে জানান, নুরুচ্ছফা নামে ওই রোগী মুমূর্ষ অবস্থা থাকায় রাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ৮ নভেম্বর নুরুচ্ছফাসহ তার মেয়ে ৮১ পিস ইয়াবা নিয়ে বিজিবি ও পুলিশের যৌথ বাহিনীর হাতে আটক হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার কক্সবাজার সদর হাসপাতালে মৃত্যুবরণকারী এক কিশোরের ময়নাতদন্তকালে পেটে পলিথিনে মোড়ানো বেশ কয়েকটি ইয়াবা পাওয়া যায়। চিকিৎসকরা জানান, ইয়াবার বিষে দিদার মোহাম্মদ (১৫) নামের ওই কিশোরের মৃত্যু হয়েছিলো।