টেকনাফ সীমান্ত এলাকা দিয়ে মিয়ানমার থেকে চোরাই পথে আসছে স্বর্ণ

গিয়াস উদ্দিন ভুলু:
ঈদকে সামনে রেখে মিয়ানমার থেকে মরণ নেশা ইয়াবার পাশাপাশি সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে পাচার হচ্ছে স্বর্ণ। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে হঠাৎ করে স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ায় চোরাকারবারিরা টেকনাফ সীমান্তের বিভিন্ন নৌ-পথকে বেছে নিয়েছে।

বিভিন্ন সুত্রে আরো জানা যায়, পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমারে স্বর্ণের মূল্য কম হওয়ায় চোরাকারবারিরা বেশি টাকা মুনাফার আশায় ইয়াবার পাশাপাশি মিয়ানমার থেকে নিয়ে আসছে স্বর্ণ। এই স্বর্ণ গুলো পাচার হচ্ছে টেকনাফ নাফনদীর সীমান্তের বেশ কয়েকটি পয়েন্ট দিয়ে।

উল্লেখ্য যোগ্য পয়েন্ট গুলো হচ্ছে, শাহপরীর দ্বীপ, সাবরাং, নয়াপাড়া, টেকনাফ পৌরসভা জালিয়াপাড়া, নাইট্যং পাড়ার নাফনদীর সীমান্ত এলাকা, হ্নীলা ইউনিয়নের দমদমিয়া, জাদিমুরা, ওয়াবাং, হোয়াইক্যং, খারাংখালী ইদানিং এই সমস্ত পয়েন্ট দিয়ে অবৈধভাবে মিয়ানমার থেকে পাচার হয়ে আসছে স্বর্ণ।

টেকনাফ ২ বিজিবি অধিনায়ক লে: কর্ণেল আবুজার আল জাহিদের নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা গত কয়েক মাস ধরে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ সহ বেশ কয়েকজন পাচারকারিকে আটক করতে সক্ষম হয়েছেন।

বিজিবি সুত্রে আরো জানা যায়, গত ৪ মার্চ দমদমিয়া বিওপির সদস্যরা ১০টি স্বর্ণবারসহ সাবরাং ইউনিয়নের মো. ইদ্রিস নামে এক পাচারকারিকে আটক করে। ৫মে একই বিওপির সদস্যরা ৬টি স্বর্ণবারসহ মো. রহমত উল্লাহ নামে আরো একজন পাচারকারিকে আটক করতে সক্ষম হয়।

বিজিবির তথ্য সুত্রে আরো জানা যায় এই সমস্ত অবৈধ স্বর্ণ উদ্ধার ও পাচারকারিদের ধরতে গিয়ে ২০১৫ সালের ২৬ আগস্ট স্বর্ণ পাচারকারিদের সাথে বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে গোলাগুলি হয়। সেদিন অভিযানে শাহপরীরদ্বীপ সংলগ্ন নাফ নদীর বদরমোকাম মোহনা সীমান্ত এলাকা থেকে পাচারকারিদের ফেলে যাওয়া নৌকায় তল্লাশি করে আরো ১৫টি স্বর্ণবার উদ্ধার করা হয়।

একই বছরের ২ মে টেকনাফের হোয়াইক্যং এলাকা থেকে আরো ৬টি স্বর্ণবারসহ দুই রোহিঙ্গা দম্পতিকে আটক করতে সক্ষম হয়। আটককৃত পাচারকারিরা হচ্ছে মো. হোসন ও তার স্ত্রী রুবিনা আকতার।

২০১৫ সালের মে মাসে হ্নীলা বিওপির বিজিবি সদস্যরা ওয়াবাং এলাকা থেকে ৭টি স্বর্ণবারসহ মিয়ানমারের নাগরিক নুরুল বশর নামে এক যুবককে আটক করে। একই দিন টেকনাফ ট্রানজিট পয়েন্ট থেকে ৯টি স্বর্ণবারসহ মালা মে নামে এক রাখাইন যুবতীকে আটক করে টেকনাফ সদর বিওপির সদস্যরা। এইভাবে প্রতিনিয়ত স্বর্ণ ও ইয়াবা পাচারকারিরা টেকনাফের সীমান্তের বিভিন্ন এলাকা ব্যবহার করে পাচার অব্যাহত রেখেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক টেকনাফ স্থলবন্দরের বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিমত প্রকাশ বলেন, এই সমস্ত স্বর্ণ ও ইয়াবা ব্যবসায়ীদের কারণে আমাদের বৈধ ব্যবসার মধেও আঘাত এসেছে। পাশাপাশি সারা দেশে টেকনাফ বাসীর দুর্নাম অব্যাহত রয়েছে। তাই আমাদের দাবি এই সমস্ত অবৈধ ব্যবসার সাথে যারা জড়িত এবং যারা মুল হোতা তাদেরকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির মাধ্যমে তাদেরকে নির্মূল করতে হবে।

এ ব্যাপারে ২ বিজিবি অধিনায়ক লে: কর্ণেল আবুজার আল জাহিদ আমাদের রামু ডটকমকে বলেন, স্বর্ণ ও ইয়াবা পাচারকারিদের প্রতিরোধ করতে আমাদের বিজিবি সদস্যরা সর্বদা সজাগ রয়েছে। পাচারকারিরা যতই কৌশল অবলম্বন করুক না কেন আমরা তাদেরকে ধরতে দিন রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছি। আমরা ইতিমধ্যে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ সহ বেশ কয়েকজন পাচারকারিকে আটক করতে সক্ষম হয়েছি এবং তাদেরকে থানায় সোর্পদ করে মামলা রুজু করেছি। পুলিশের মামলা তদন্ত শেষে স্বর্ণ পাচারকারির মুল হোতা হিসেবে কারো নাম বেরিয়ে আসলে তাদেরকেও আটক করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

এদিকে টেকনাফ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল মজিদ আমাদের রামু ডটকমকে বলেন, টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে বিদেশি স্বর্ণ চোরাচালানের সর্বশেষ বিজিবির দায়ের করা চারটি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। মামলাগুলো তদন্ত শেষে অপরাধীদের অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট প্রদান করা হবে।