একদিনে যতটুকু চিনি খাওয়া উচিত

লাইফস্টাইল ডেস্কঃ
ওজন কমাতে বা সুস্থ থাকতে মিষ্টি বাদ নয় বরং খেতে হবে পরিমাণ মতো।

বন্ধুর জন্মদিনে লোভনীয় কেকের টুকরা কিংবা প্রিয় মিষ্টান্নকে না বলা সহজ কাজ নয়। চিনির প্রতি আমরা প্রত্যেকেই কমবেশি আসক্ত। তারপরও আমাদের এই দুঃসাধ্যকে সাধন করতে হয় প্রতিনিয়ত। কারণ স্বাস্থ্যকর জীবনের পথে চিনি একটি বড় বাধা।

তবে মিষ্টি পুরোপুরি বর্জন করাটা কি খুবই জরুরি? একটুও কি থাওয়া যাবে না?

স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে এই বিষয়ের ওপর প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে প্রশ্নের উত্তরগুলোই জানানো হল।

ধারণা হতে পারে চা-কফিতে যে সাদা চিনি মেশানো হয় দিনে সেটুকু চিনিই আপনি গ্রহণ করছেন। তবে চিনির উৎস আরও আছে। যেমন- এক টেবিল-চামচ টমেটো সসে আছে এক চা-চামচ চিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বলছে, একজন ব্যক্তি দিনে যতটুকু ক্যালরি গ্রহণ করবে তার সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পরিমাণ চিনি খাওয়া উচিত, এর বেশি নয়।

আবার বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা তা কমিয়ে ১০ থেকে পাঁচ শতাংশে নামিয়ে এনেছে।

একজন প্রাপ্তবয়স্ক, যার বডি ম্যাস ইনডেক্সের মাত্রা স্বাভাবিক, তার জন্য বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা বরাদ্দ দিয়েছে দিনে মাত্র ছয় চা-চামচ চিনি, অর্থাৎ প্রায় ২৫ গ্রাম। আর এই সবগুলো বিধি-নিষেধ ‘অ্যাডেড সুগার’য়ের জন্য প্রযোজ্য।

‘অ্যাডেড সুগার’ এবং প্রাকৃতিক চিনির তফাৎটা কী?
‘অ্যাডেড সুগার’ হল প্রক্রিয়াজাত চিনি, সাদা চিনি কিংবা মধু। মানে খাবারের মিষ্টি বাড়াতে যে চিনি ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন প্যাকেটজাত খাবার এবং তথাকথিত স্বাস্থ্যকর চকলেট, বিস্কুট এবং ‘ডায়েট বার’য়ে এই চিনির উপস্থিতি পাওয়া যায় উল্লেখযোগ্য মাত্রায়।

এই চিনি নিয়েই চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা চিন্তিত। প্রাকৃতিক চিনি নিয়ে নয়। প্রাকৃতিক চিনি হল ফল, সবজি, শষ্য ইত্যাদি প্রাকৃতিক খাবারে থাকা শর্করা।

এগুলোতে চিনির পরিমাণ যেমন কম তেমনি এদের রয়েছে বাড়তি স্বাস্থ্যগুণও।

দুই ধরনের চিনি শরীরে একই প্রভাব ফেলে। তবে প্রক্রিয়াজাত চিনি শরীর দ্রুত ভাঙতে পারে। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায় দ্রুত।

প্রক্রিয়াজাত চিনি বেশি খেলে কী হয়?
সামান্য থেকে মারাত্বক পর্যন্ত নানান জটিলতার পেছনে ভূমিকা রয়েছে প্রক্রিয়াজাত চিনির। মনযোগে বাধা আসতে পারে। মন মেজাজ হুট করে বদলে যেতে পারে। রক্তে শর্করার মাত্রা লাফালাফি শুরু করতে পারে। শরীরে বিভিন্ন সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। অস্বাস্থ্যকর মাত্রায় ওজন বাড়তে পারে। সঙ্গে হৃদরোগ এবং ডায়বেটিসের মতো মারাত্বক রোগের ঝুঁকি তো আছেই।

তাই খেয়াল করুন
দিনে কতটুকু চিনি গ্রহণ করছেন সেদিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখতে হবে। কারণ অতিরিক্ত দুধ খেয়ে কেউ মুটিয়ে যায় না, দুধের গ্লাসে অতিরিক্ত চিনি মিশিয়ে পান করেই মানুষ মোটা হয়।